নতুন বছরের প্রথম দিনে কুষ্টিয়ার উদয় মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে (বৃদ্ধাশ্রমে) থাকা ৩০ জন অসহায় মায়ের মুখে হাসি ফোটাল দৈনিক খবরের কাগজের পাঠকদের গঠিত সংগঠন ‘বন্ধুজন’।
বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে তাদের হাতে উন্নত মানের শাল চাদর, হাত ও পায়ের মোজা, নারিকেল তেল, ওয়াশিং পাউডার এবং শীতের ক্রিম তুলে দেন বন্ধুজন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও দৈনিক খবরের কাগজের সহকারী সম্পাদক ড. সারিয়া সুলতানা।
এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক লেখক ও গবেষক ড. সাইফুজ্জামান, মুক্তি আলোর ফেরিওয়ালা আলোকচিত্রী মুক্তারুজ্জামান টিপু, অনুবাদক ও প্রগতিশীল লেখক মো. আজিজুর রহমান, দৈনিক খবরের কাগজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও বন্ধুজনের কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক মিলন উল্লাহ, সদস্য ফারহানা নাসরিনসহ বন্ধুজনের কুষ্টিয়ার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার উদয় মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র নিয়ে ‘ওদের ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম’ শিরোনামে দৈনিক খবরের কাগজে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি ছাপার পর সেখানে শীতে কষ্টে থাকা ৩০ জন অসহায় মায়ের জীবনযাপনের বিষয়টি বন্ধুজন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে গতকাল তাদের হাতে শীতের সামগ্রী তুলে দেয় বন্ধুজন।
এ সময় বন্ধুজনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. সারিয়া সুলতানা বলেন, ‘বন্ধুজন, দৈনিক খবরের কাগজের পাঠকদের নিয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কয়েক দিন আগে খবরের কাগজ পত্রিকায় উদয় মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার হয়। এরপর এখানে থাকা ৩০ জন অসহায় মায়ের বিষয়ে আমরা জানতে পারি। পরে এই বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তাদের প্রয়োজনের কথা জানতে চাই। তাদের চাহিদামতো উন্নত মানের শাল চাদর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আজ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধুজন সব সময় সমাজের অসহায় এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করে। আগামীতে কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে অসহায়দের পাশে থাকার জন্য কাজ করবে বন্ধুজন।’ বছরের প্রথম দিনে এতগুলো অসহায় মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারা খুবই অন্য রকম ভালো লাগার বিষয় বলে জানান বন্ধুজনের এই কর্মকর্তা।

এদিকে প্রচণ্ড শীতে কষ্টে থাকা মায়েদের চাদরসহ শীতের সামগ্রী পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হতে দেখা যায়। কথা হয় ৭৫ বছর বয়সী আমেনা খাতুনের সঙ্গে। তার বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ক্যানালপাড়ায়। ছেলের বউয়ের খারাপ আচরণের কারণে তিনি ১০ বছর ধরে আছেন বৃদ্ধাশ্রমে। চাদর পেয়ে হাসিমুখে আমেনা খাতুন বলেন, ‘আজ খুব ভালো লাগছে। একটা ছেঁড়া চাদর ছিল, কিন্তু সেটা দিয়ে শীত যায় না। আজ থেকে মনে হয় আর শীতে কষ্ট করা লাগবে না।’
৭৭ বছর বয়সী আয়েশা খাতুন বলেন, ‘তোমরা যে চাদর দিলা তা খুব পছন্দ হয়েছে। জীবনে ভাবিনি এত দামি চাদর কোনো সময় পরতি পারব। যারা এই ব্যবস্থা করে দিল তাদের আল্লাহপাক ভালো করবি।’
উদয় পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক আফরোজা আক্তার বন্ধুজন ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘বন্ধুজনের উপহার এই মায়েদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’ এভাবেই সমাজের পিছিয়ে পড়াদের পাশে বিত্তবানদের দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
(উদয় মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের (বৃদ্ধাশ্রমে) মা ও শিশুদের সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ করতে পারেন খবরের কাগজ বন্ধুজন-এর সঙ্গে। মোবাইল নম্বর-০১৫৭৭০৩২৪৩১; ইমেইল[email protected])