ময়না বেগম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের এক সফল নারী উদ্যোক্তা। পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ময়না তার সুপারি বাগানের ২৭ শতাংশ জমিতে ১ হাজার ৮০০ বস্তা আদা চাষ করেছেন। এর মাধ্যমে এক অনন্য কৃষি উদ্ভাবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এই চাষ পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ তার বাগানে আসছেন এবং আদা চাষের পদ্ধতি শিখতে আগ্রহী হচ্ছেন।
আনসার ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে ময়না বেগমের কৃষি উদ্যোগের শুরু হয়েছিল। প্রশিক্ষণে কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি প্রথমে সুপারি বাগানের ফাঁকা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৭০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। এরপর এই চাষের পদ্ধতি এবং ফলন দেখে তিনি বাণিজ্যিকভাবে ২৭ শতক জমিতে ১ হাজার ৮০০ বস্তা আদা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এতে তার কৃষি উদ্যোগে বিপুল সফলতা আসে।
বস্তায় আদা চাষের পদ্ধতি খুবই লাভজনক। এটি কৃষকদের জন্য একটি আধুনিক ও সুবিধাজনক পদ্ধতি। ময়না বেগম জানান, বস্তায় আদা চাষ করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও যত্নের প্রয়োজন। প্রতি বস্তায় ৩টি করে আদা লাগানো হয় এবং বস্তাগুলো সুপারিগাছের ফাঁকে ফাঁকে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়। এতে মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ কম হয় এবং ফলনও ভালো হয়। বস্তায় আদা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি পতিত বা ছায়াযুক্ত জমিতে সহজে করা যায়। এ ছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বস্তাগুলো সহজে সরিয়ে নেওয়া যায়। ফলে ফসলের ক্ষতি কম হয়।
অন্যদিকে, ময়না বেগম শুধু আদা চাষেই সফল হননি, তিনি চুইঝাল গাছের চাষেও এগিয়ে গেছেন। মসলা ও ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এই চুইঝাল গাছের সংখ্যা তার বাগানে ৬৫০টি। চুইঝাল চাষের খরচ কম এবং এটি খুব কম পরিশ্রমে হয়।
ময়না বেগমের এই উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি জানান, তার ইচ্ছা হলো বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্বুদ্ধ করা। এখন অনেক নারী এই পদ্ধতিতে আদা চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং নিজেরাও চাষ শুরু করেছেন।
ময়নার আদা চাষের সাফল্য এলাকার কৃষকদের মধ্যে নতুন চিন্তা ও পদ্ধতির দিকে ধাবিত করেছে। বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা বেশি উৎপাদন করতে পারছেন এবং খরচ কমাতে পারছেন। ময়না বেগম বলেন, ‘আমার আদা চাষের পাশাপাশি চুইঝাল গাছের চাষও লাভজনক হয়েছে। আমি আশা করি, এই পদ্ধতিতে আদা চাষে ভালো লাভ হবে। অন্য কৃষকও এই পদ্ধতি অনুসরণ করবে।’
ময়নার উদ্যোগের প্রতি কৃষি কর্মকর্তাদেরও প্রশংসা রয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, ‘ময়না বেগমের মতো উদ্যোক্তা এখন বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষ করছেন। তিনি সুপারি বাগানে বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে একটি নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষকদের জন্য পরামর্শও গ্রহণ করছেন।’