দাউদকান্দি উপজেলা এবার করলার বাম্পার ফলন পেয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক হতাশ। দাম কম থাকায় অনেক কৃষক জমি থেকে করলা তুলে নেননি। তারা আশা করছেন, দাম বৃদ্ধি পাবে।
দাউদকান্দি বাজারের হাটে সন্ধ্যার পর জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা হাটে এসে করলা কিনে নিয়ে যান।
করলা একটি তেতো জাতীয় ফসল। এটি সারা বছরই চাষ করা যায়। এর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। এটি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। রক্ত বিশুদ্ধ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এসব গুণের কারণে করলার চাহিদা বাড়ছে। তাই কৃষকরা এতে আগ্রহী হচ্ছেন। এর বাণিজ্যিক পরিধিও বাড়ছে।
দাউদকান্দি উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়ন, পদুয়া, মালিগাঁও, ইলিয়টগঞ্জসহ আরও কিছু এলাকায় করলার চাষ বেশি হয়। এখানকার পাইকারি হাটে নিলামের মাধ্যমে করলা বিক্রি হয়। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত করলার মৌসুম চলে।
কৃষক শরীফ আহম্মেদ দুই বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, শুরুতে দাম ভালো ছিল। কিন্তু এখন দাম কম। তাই তিনি জমি থেকে করলা তুলছেন না। তার উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়ে চিন্তা রয়েছে। শরীফ বলেন, লাভ না হলে কৃষকরা করলা চাষে আগ্রহ হারাবে।
কাঁচামাল আড়তদার সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানান, এই সময় করলার দাম কম থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কৃষক মজনু মিয়া জানান, তিনি আশায় বসে আছেন। পর্যাপ্ত ক্রেতা থাকলেও দাম পাচ্ছেন না। গতবার ভালো দাম পাওয়ায় এবার তিনি বেশি জমিতে করলা চাষ করেছেন।
দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানান, তারা কৃষকদের সহায়তা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। এ মৌসুমে উপজেলায় আনুমানিক ১৫ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর, উৎপাদিত করলা দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। কৃষকরা জানান, করলা খাবারের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় হচ্ছে। তারা সরকারের সহযোগিতা পেলে আরও বেশি চাষে আগ্রহী হবেন।