ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ডাক সেবায় আসছে অটোমেশন পদ্ধতি: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী চীনের উসিতে চালু হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিনেমা হল প্রশিক্ষণ মাঠেই থেমে গেল এসআই জীবন রহমানের জীবনযাত্রা তানিয়া বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে যা জানা গেল বাড়ি নির্মাণে ঋতুপর্ণাকে অর্থ সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নীরবতার কণ্ঠস্বর ‘ভাসানে উজান’ মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্র্যাক ‘সির সির’ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীর নামে মামলা, আটক ৩ টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব বর্তমানে বৈধ সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সংসদ সদস্যের পদ ছাড়ছেন কোয়েল বিচার চাইব কার কাছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আরও ঝলমলে রঙিন হচ্ছে পাহাড়ি শহর ছোংছিংয়ের রাত আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন? নাটোরে স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ ফ্রিতে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিদেশে শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে: অর্থমন্ত্রী নোবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত থাকবে: অর্থমন্ত্রী ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬
Nagad desktop

সরস্বতী পূজা আজ

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
সরস্বতী পূজা আজ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা আজ সোমবার। হিন্দু ধর্মীয় বিধান অনুসারে শ্বেত হংসের পিঠে চড়ে পৃথিবীতে নেমে আসবেন বিদ্যা ও ললিতকলার দেবী। কৃপা লাভের আশায় দেবীকে আহ্বান করবেন ভক্তরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে পূজার। ঢাকঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা হয়। এ তিথি বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। শ্বেত-শুভ্র বসনা স্বরসতী দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা। এ জন্য তাকে বীণাপাণিও বলা হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্ঞান ও বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী তার আশীর্বাদের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করতে প্রতিবছর আবির্ভূত হন ভক্তদের মাঝে। সরস্বতী খুশি হলে বিদ্যা ও বুদ্ধি অর্জিত হবে। ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞানদায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষদায়িনী এবং শক্তির আঁধার হিসেবে সরস্বতী দেবীর আরাধনা করা হয়। তিনি বাগদেবী। বাগদেবী অর্থে তিনি নব হৃদ পবিত্র করেন। তিনি সুন্দর ও মর্ত্যবাক্যের প্রেরণকাত্রী। তিনি মহাসমুদ্রের মতো পরমাত্মার প্রকাশ করেন। তিনি সমুদয় মানব-মানবীর হৃদয়ে জ্যোতি সঞ্চারিত করেন। পরমাত্মার মুখ থেকে তার আবির্ভাব।

মধ্যরাতে প্রতিমা প্রতিষ্ঠার পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকালে দেবীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পূর, চন্দন দিয়ে স্নান করানো হয়। এরপর চরণামৃত নেবেন ভক্তরা। এসবের পরে হবে বাণী অর্চনা। পুরোহিতরা ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে’ এ মন্ত্রে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা করবেন, পূজার আচার পালন করবেন। এরপর ভক্তরা দেবেন পুষ্পাঞ্জলি। সকাল থেকে উপবাস থেকে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ভক্তরা প্রার্থনা জানাবেন বিদ্যাধিষ্ঠাত্রীর।

সারা দেশের পূজামণ্ডপ ছাড়াও স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ঘরে ঘরে সরস্বতী পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠানমালায় আছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি। দেবীর সামনে ‘হাতেখড়ি’ দিয়ে শিশুদের বিদ্যাচর্চার সূচনা হবে অনেক স্থানে। 

ঢাবির জগন্নাথ হলের ৭৩ বিভাগ-ইনস্টিটিউটের মণ্ডপে এবারের আরাধনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে ৭৩ বিভাগ-ইনস্টিটিউটের মণ্ডপে এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল রবিবার হল প্রাঙ্গণে ১৫ বছর ধরে ঢাবির জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার প্রতিমা নির্মাণকাজে নিয়োজিত থাকা কারিগর বিষু পালের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, এ বছর সব মিলিয়ে ৫০টির মতো প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। সবচেয়ে ছোটটির নির্মাণ খরচ পড়েছে ২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ও সরস্বতী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, ‘সরস্বতী পূজা ঘিরে সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধানে হল প্রশাসনের মোট ১১টি উপকমিটি কাজ করছে। আগত পুণ্যার্থীদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে সমগ্র হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।’

জবির ৩৯ মণ্ডপে সরস্বতী পূজা
জবি প্রতিনিধি জানান, বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। প্রতিবছরের মতো এবারও নানা আয়োজনে জবিতে হতে যাচ্ছে সরস্বতী পূজা। ৩৯টি মণ্ডপে পালিত হবে সরস্বতী পূজা। চলছে প্রতিমা বানানোর কাজ।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল এসব বিষয় জানান। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমাদের মণ্ডপ সংখ্যা বেড়েছে। মোট ৩৯টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হবে। ছাত্রী হলের মণ্ডপটি হলের ভেতরেই করা হবে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাতের মধ্যেই সব মণ্ডপ প্রস্তুতির কাজ শেষ করবেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলার বিষয়েও সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গেও আমাদের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।’

রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল আরও বলেন, ‘পূজা সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। রাত ৮টায় সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও পুরান ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মানুষ এই পূজায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। আশা করছি সম্মিলিত অংশগ্রহণে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে আমরা পূজা সম্পন্ন করতে পারব।’

এক কাপ চায়ের দাম ৫ হাজার!

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৩ এএম
এক কাপ চায়ের দাম ৫ হাজার!
ছবি: খবরের কাগজ

প্রথম দেখাতে কারও কারও কাছে মনে হতে পারে কোনো বিশেষ পানীয়। কিন্তু না, এটি আসলে চা। আমাদের দেশে যেভাবে ফুঁ দিয়ে গরম চা খাওয়া হয়, এটি সেই ধরনের চা নয়। একটুও গরম নয়, বরং একেবারে ঠাণ্ডা। অনেকে যেমন মদের গ্লাসে বরফের টুকরো দিয়ে পান করেন, তেমনি কাপের মধ্যে বরফ দিয়ে পরিবেশন করা হয় এই চা। 

একে কোল্ড টিও বলা হয়। বাংলাদেশের মানুষ কোল্ড কফির সঙ্গে পরিচিত হলেও কোল্ড টির সঙ্গে অনেকটাই অপরিচিত। কোল্ড টির সঙ্গে পরিচিত হতে হলে যেতে হবে ভিয়েতনাম। সে দেশের মানুষ আমাদের মতো ফুঁ দিয়ে গরম চা পান করেন না, তারা চায়ের কাপে বরফ কুচি দিয়ে নেন। ভিয়েতনামে এই এক কাপ চা খেতে গুনতে হয় ৫ হাজার ডং, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ টাকা।

বাংলাদেশিদের ভ্রমণের জন্য ভিয়েতনাম দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি দেশটিতে ভ্রমণে যান। ভিয়েতনামে এক বাংলাদেশি এই বরফের চা পান করার পর এই প্রতিবেদকের কাছে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরে দেখা হয় তার সঙ্গে। তিনিসহ বাংলাদেশে ১৯ সদস্যের একটি দল ভিয়েতনামে ভ্রমণে গিয়েছিল।

শেখ মাসুম নামের ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। আমার একটু চায়ের নেশা আছে। ঘন ঘন চা পান করি। ভিয়েতনামে যাওয়ার পর নাশতা শেষে চা খেতে ইচ্ছে করছিল। খুঁজতে শুরু করলাম চায়ের দোকান। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের মতো মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকান নেই। তাই চা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক ঘোরাঘুরির পর এক দোকানে চা পেলাম। সেখানে আগে চায়ের দাম জিজ্ঞেস করে নিলাম। প্রতি কাপ চা ৫ হাজার ডং।’ তিনি বলেন, ‘অর্ডার দেওয়ার পর দেখলাম চায়ের দোকানি নারী বড় কাপের মধ্যে প্রথমে এক টুকরো বরফ রাখলেন। তারপর কেটলি থেকে কী যেন কাপে ঢেলে দিলেন। রংটা অন্য রকম মনে হলো। ভাবলাম, হয়তো তিনি নিজস্ব পানীয় পান করতে করতে চা বানাবেন। কিন্তু না, ওই কাপটি আমার দিকেই এগিয়ে দিলেন। কী করব বুঝতে একটু সময় লাগল। কারণ প্রথমে আমি ভাবছিলাম চা তো আমাদের দেশের মতো হবে। কিন্তু না। আমাকে যে বরফ দেওয়া কাপটি এগিয়ে দিলেন, সেটাই আসলে চা। ভিয়েতনামে নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্য রকম ছিল।’

এই চায়ের কোনো বিশেষত্ব আছে কি না জানতে চাইলে ঢাকার জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আফরিন জাহান বলেন, ‘আমার জানামতে কোল্ড চায়ের উপকারিতা বা অপকারিতা নিয়ে গবেষণা তেমন নেই। তাই এতে কোনো বিশেষত্ব আছে কি না এখনো সেভাবে কিছু জানা যায়নি। যেহেতু কোল্ড চা খেলে অপকার হয় না এবং স্বাদেও ভিন্নতা পাওয়া যায়; সে জন্য হয়তো তারা বরফ দিয়ে চা পান করেন। উপরন্তু গরমের দিনে হাইড্রেশন মেইনটেইনও হয় হয়তো।’

পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সেক্রেটারি পুষ্টিবিদ নাঈমা রুবী বলেন, ‘গরম পানিতে চা পাতা দেওয়ার চেয়ে ঠাণ্ডা পানিতে যদি চা পাতা দেওয়া হয়, তাহলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। আমরা অনেক বেশি জ্বাল দিয়ে, দুধ-চিনি দিয়ে সাধারণত যেভাবে চা খাই, তাতে চায়ের যে উপকারিতা, তা পাই না। শুধু স্বাদ পাই। ঠাণ্ডা পানিতে চা পাতা দেওয়ার পর চায়ের রংটা যখন ছড়িয়ে যাবে, তখন সেটি ছেকে নিয়ে পান করলে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পানীয় পাওয়া যাবে, যা উপকারী।’

৫ পা ওয়ালা বাছুর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম
৫ পা ওয়ালা বাছুর
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জন্ম নিয়েছে পাঁচ পা-ওয়ালা বাছুর। উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাজানপুর গারালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষক মো. শাহিন মিয়ার বাড়িতে গেল শনিবার সন্ধ্যায় বাছুরটির জন্ম হয়।

কৃষক শাহিন মিয়া জানান, তার গাভীটি স্বাভাবিকভাবেই বাছুর প্রসব করে। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, বাছুরটির সামনের অংশে একটি অতিরিক্ত পা। একটি পা তুলনামূলক ছোট। যে পায়ের সঙ্গে ছোট পা লাগানো সেটি বাঁকা। তবে, বাছুরটি তিন পায়ে ভর দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে।

অদ্ভুত গঠনের এই বাছুরটি দেখতে আশেপাশের গ্রামের মানুষ আসছেন শাহিন মিয়ার বাড়িতে।

রুবেল মিয়া নামে একজন বলেন, এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা আগে দেখিনি।

স্থানীয় মো. মুক্তার হোসেন বলেন, আমি জীবনে কখনও এমন দেখিনি। বিষয়টি অবিশ্বাস্য।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোর্শেদ জানান, এটি সম্ভবত জেনেটিক মিউটেশনের ফল। যদিও ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। যদি বাছুরটির অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত পা তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের বড় কোনো ক্ষতি করবে না।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলামও একই কথা বলেন।

জুয়েল রানা/অমিয়/

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের লাগবে ৩৩ লাখ ৪১ হাজার!

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৫, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫, ০১:২২ পিএম
দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের লাগবে ৩৩ লাখ ৪১ হাজার!
ছবি: সংগৃহীত

এত দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা পেতে কমপক্ষে ২ মিলিয়ন দিরহাম (৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি) বিনিয়োগের প্রয়োজন হতো। তবে এখন ভারতীয় এবং বাংলাদেশিদের জন্য চালু হয়েছে একটি নতুন ধরনের গোল্ডেন ভিসা, যেটি মূলত মনোনয়ন-ভিত্তিক। ফলে এই ভিসা পেতে এখন আর ব্যবসা বা সম্পত্তিতে বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

নতুন ‘মনোনয়ন-ভিত্তিক ভিসা নীতির আওতায় ভারতীয় ও বাংলাদেশিরা ১ লাখ দিরহাম (প্রায় ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকার কিছু বেশি) ফি দিলে দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে দিয়ে আজীবন বসবাসের সুযোগ পাবেন এই দুই দেশের নাগরিকেরা।

ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই নতুন ভিসা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। রায়াদ গ্রুপ নামে একটি পরামর্শক সংস্থা ভারত ও বাংলাদেশে মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার প্রাথমিক রূপটি পরীক্ষা করার দায়িত্ব পেয়েছে। রায়াদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়াদ কামাল আইয়ুব এই নতুন ভিসাকে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের জন্য একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’ বলে অভিহিত করেন।

কর্মকর্তাদের মতে, মনোনয়ন ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই পাইলট প্রকল্প সফলভাবে শেষ হওয়ার পর,  চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য সিইপিএ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) আওতাভুক্ত দেশগুলোতেও এই নতুন ভিসা চালু করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া 

নতুন গোল্ডেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া এবং অনুমোদনের বিষয়ে রায়াদ কামাল আইয়ুব বলেন, যারা এই ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড (অতীত ইতিহাস) যাচাই করা হবে। এর আওতায় অর্থপাচার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড যাচাইও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও পরীক্ষা করা হবে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার এবং ব্যবসাগুলো যেন আবেদনকারীর কাছ থেকে সংস্কৃতি, অর্থ, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, স্টার্টআপ, পেশাদার পরিষেবা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কীভাবে উপকৃত হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে পারে।

রায়াদ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘এরপর রায়াদ গ্রুপ আবেদনপত্রটি সরকারের কাছে পাঠাবে, সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর মনোনয়ন-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

আবেদনকারীদের দুবাই ভ্রমণ করতে হবে এবং তারা নিজ দেশ থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নিতে পারবেন।

রায়াদ জানান, আবেদনগুলো ভারত ও বাংলাদেশের ওয়ান ভাস্কো (One VASCO) সেন্টার (ভিসা কনসিয়ারজ সার্ভিস কোম্পানি), তাদের নিবন্ধিত অফিস, অনলাইন পোর্টাল, অথবা তাদের ডেডিকেটেড কল সেন্টারের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।

নতুন ভিসার সুবিধা

এই নতুন ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এটি সম্পত্তি-ভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা থেকে আলাদা। সম্পত্তি-ভিত্তিক ভিসা সম্পত্তি বিক্রি বা ভাগ হয়ে গেলে বাতিল হয়ে যেতে পারে, কিন্তু মনোনয়ন-ভিত্তিক ভিসা একবার পেলে তা স্থায়ী হবে।

রায়াদ আরও জানান, যারা এই ভিসার জন্য মনোনীত হবেন, তারা সপরিবারকে দুবাই বসবাস করতে পারবেন এবং তাদের ভিসার ওপর ভিত্তি করে গৃহকর্মী ও গাড়িচালক রাখতে পারবেন। এ ছাড়া তারা দুবাইতে যেকোনো ব্যবসা বা পেশাদার কাজ করতে পারবেন। সূত্র: মিন্ট

সুলতানা দিনা/

রোগীর অনুমতি ছাড়াই গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন চিকিৎসক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০১:০৩ পিএম
রোগীর অনুমতি ছাড়াই গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন চিকিৎসক
ছবি: সংগৃহীত

গোপনাঙ্গে সংক্রমণ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন ২৮ বছরের যুবক আতিকুর রহমান। কিন্তু রোগীর অনুমতি ছাড়াই তার গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি।

ভারতের অসমের কাছারে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এমনই অভিযোগ ওঠেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

সংবাদমাধ্যমের খবর, মণিপুরের জিরিবাম জেলার বাসিন্দা আতিকুর রহমান গত ১৯ জুন গোপনাঙ্গে গুরুতর সংক্রমণের কারণে কাছারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। সেখানে প্রাথমিকভাবে তার বায়োপসি টেস্ট করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

আতিকুরের অভিযোগ, তিনি বায়োপসি করাতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু বায়োপসি করাতে গিয়েই নাকি তার গোটা গোপনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তাকে বেহুঁশ করে দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচার শেষে যখন তার জ্ঞান ফেরে, তিনি দেখতে পান তার গোপনাঙ্গ গায়েব হয়ে গেছে। এ নিয়ে চিকিৎসককে প্রশ্ন করলে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।

এই ঘটনার পর রোগী থানা গিয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নামে মামলা করেন। এই ঘটনার রীতিমতো মুষড়ে পড়েছেন রোগী।

আতিকুর একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনার পরে বারবার তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

আতিকুরের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার গোপনাঙ্গ নানা সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। এই মুহূর্তে তিনি কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না। চিকিৎসকের গাফিলতিতে তার জীবন শেষ গেল বলে দাবি করছেন রোগী।

এই ঘটনায়র যথোপযুক্ত বিচার দাবি করছেন আতিকুর। তার অনুরোধ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা যেন এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে দ্রুত সুবিচারের বন্দোবস্ত করেন।

অমিয়/

নীরবেই থেমে গেল রিকশাচালক দুলালের জীবনচাকা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
নীরবেই থেমে গেল রিকশাচালক দুলালের জীবনচাকা
রিকশাচালক মোহাম্মদ দুলাল সরকার

মোহাম্মদ দুলাল সরকার। বয়স পঁয়ষট্টির ওপরে। জীর্ণশীর্ণ শরীর, বয়সের ভারে যেন ভেঙে পড়েছে। তবু পেটের দায়ে রিকশা চালিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর একটু বিশ্রাম নিতে চলতি পথে নিজ রিকশার সিটে গা এলিয়ে আধশোয়া হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই দুলালের জীবনচাকা থেমে গেছে চিরতরে। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না দেখে কৌতূহলী পথচারীরা তাকে ডাকাডাকি করতে গিয়ে দেখেন, দুলাল সরকার আর নেই। চলে গেছেন চিরবিশ্রামে। পরে পুলিশের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয় তার লাশ। 

মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে। 

কৌতূহলী পথচারী ও শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে রিকশাচালক দুলাল সরকারের নিথর দেহ উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে গতকাল বুধবার তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ তার নাম-পরিচয় শনাক্ত করে। মৃত দুলাল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চান্দের বাজার গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মিঠু ফকির বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির যাত্রীছাউনির কোণে থেমে রিকশার ওপর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ওই চালক। কিন্তু বেশ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। এতে আশপাশের পথচারী ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আমাদের জানান। পরে আমরা এসে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ 

এসআই মোহাম্মদ মিঠু বলেন, ‘নিহতের পরিবার জানিয়েছে, দুলালের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সংসারের খরচ জোগাতে তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন রিকশা চালাতে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর স্যারের চেষ্টায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ওই রিকশাচালকের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।’