ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে

প্যাভিলিয়ন বাতিলসহ ৪ দাবিতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককে প্রকাশকদের স্মারকলিপি

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:১৪ পিএম
প্যাভিলিয়ন বাতিলসহ ৪ দাবিতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককে প্রকাশকদের স্মারকলিপি
সৃজনশীল প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী তিন সংগঠনের পক্ষে বাংলা একাডেমি মহাপরিচালককে স্মারকলিপি। ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্যাভিলিয়ন প্রথা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বাংলা একাডেমিতে প্রতিবাদ সভা ও মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজমকে স্মারকলিপি দিয়েছে প্রকাশকরা। 

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে সৃজনশীল প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সংগঠন তিনটি হল- বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও জাতীয়তাবাদী সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ। 

প্রকাশকদের দাবিগুলো হচ্ছে- প্যাভিলিয়ন প্রথা বাতিল, স্টল ভাড়া ৫০ ভাগ কমানো, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও লুণ্ঠনকারী প্রকাশকদের মেলায় প্যাভিলিয়ন না দেওয়া ও বইমেলা পরিচালনা কমিটিতে প্রকাশক প্রতিনিধি বৃদ্ধি করা। 

এর আগে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রকাশকদের তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পক্ষে বক্তৃতা করেন সাঈদ বারী, ইকবাল হোসেন সানু, মো. গফুর হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক রাজু, শরিফুল শাহজী ও দেলোয়ার হাসান। 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন। তিনি বলেন, প্রকাশক প্রতিনিধিদের এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের ন্যায়সঙ্গত সব দাবি বাংলা একাডেমি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। তিনি উল্লেখিত চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় একাডেমির সচিব ও বইমেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ নায়েব আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশকদের চার দফা দাবিতে তিনটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ১৪ ডিসেম্বর, শনিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এমএ/

জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে দেশসেরা ১০ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সদস্য ও পাঠক ফাওজিয়াহ হক জিনাত।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধি, পাঠক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭২টি বেসরকারি গ্রন্থাগার থেকে মোট ৬৪৭ জন পাঠক-শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪৫ জনকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের নিয়ে ৮ থেকে ১০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে পাঠ-উত্তর মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাঠ-অনুভূতি মৌখিকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য হুমায়ূন আহমেদ রচিত সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ তোমাদের জন্য ভালোবাসা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে।

জুয়েল রানা/রিফাত/

বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ
ছবি: সংগৃীহত

বাংলা সাহিত্যের তিন নক্ষত্র–কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ ও মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী। ভিন্ন ভিন্ন সময়ের এই তিন কালজয়ী সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা আর বিশ্লেষণের আলোয় উদ্ভাসিত করতে বাংলা একাডেমি শুরু করেছে সেমিনার সিরিজ। গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই সিরিজের সূচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই সেমিনারে সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিন সাহিত্যিকের সৃষ্টির মৌলিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্টজনরা।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যের জটিলতা
গতকাল (২২ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া প্রথম আলোচনায় ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও গবেষক ড. উৎপল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। সভাপ্রধান ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বক্তারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা কথাসাহিত্যের ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার উপন্যাসে শ্রেণিগত প্রপঞ্চ ও দাম্পত্যজীবনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন যেভাবে উঠে এসেছে, তা আজও অতুলনীয়। বদ্ধ হাওয়ায় হাঁসফাঁস করা চরিত্রদের মুক্তি খোঁজার চিরন্তন আকুতি মানিকের লেখনীতে যেভাবে ফুটেছে, তা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতা।

রফিক আজাদের কবিতায় চৈতন্যের কোলাজ
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় দ্বিতীয় আয়োজনে ছিল ‘রফিক আজাদের কবিতা: চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশ নেন কবি হিজল জোবায়ের। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতা বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বিদ্রোহ ও প্রেমের রঙে কবিতার ক্যানভাস সাজিয়েছেন। যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি এবং পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা তার কবিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষার আধুনিকতা ও শৈল্পিক নান্দনিকতা নতুন প্রজন্মের কবিদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

চন্দ্রাবতীর গীতিকায় নারী-অস্তিত্বের শাঁস
সন্ধ্যা ৬টায় সিরিজের শেষ পর্বে আলোচিত হয় ‘চন্দ্রবতীর গীতিকায় রমনীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরী। সভাপ্রধান ছিলেন গবেষক ও নির্মাতা ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। বক্তারা বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীকে ‘পথিকৃৎ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বৈরী সমকাল উপেক্ষা করে তিনি নারীর বৈজয়ন্তী ঘোষণা করেছিলেন তার কালজয়ী সৃষ্টিতে। তার গীতিকায় মানবমঙ্গলের গান ও সুন্দর পৃথিবীর আকুতি ফুটে উঠেছে। চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।

সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

‘কণ্ঠ মেলাও সুর ও তানে, বিশ্ব জাগুক গানে গানে’- এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজধানীজুড়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের ঐকতানে মেতে উঠেছিলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন।

সোমবার (২২ জুন) শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এই সংগীত উৎসব।

গত রবিবার থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গত দুদিন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিলো মুখরিত। আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশের জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উঠে এসেছে সংগীতের অসীম শক্তির কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

সংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও অধিকারের সংগ্রামে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমাদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে একটি সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’

সমাপনী সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্পীদের নজরুলের গানের সমবেত পরিবেশনা ছাড়াও অংশ নেন, সুকণ্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, পিন্টু ঘোষসহ একঝাঁক শিল্পী। হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সর্বশেষ ব্যান্ড সংগীতের মূর্ছনায় উৎসবের ইতি টানে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস। 

সোমবার বিকেল ৪টায় কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীদের দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

এ পর্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল। প্রধান অতিথি ছিলেন, লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

পরে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বাঁশুরিয়া লোকসংগীত গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র, সুর নন্দন, মহীরুহ, সপ্তরেখা শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, একক সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩২ এএম
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে
ছবি: সংগৃহীত।

সুফিয়া কামাল তার জীবনযাপন ও ধারণের মধ্য দিয়ে নারীবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাক্স্বানতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তার ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে। বাংলাদেশকে যারা ভালোবাসেন, তারা সবাই এই কবির দ্বারা প্রভাবিত।

প্রখ্যাত কবি, নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক খুশী কবির।

 রবিবার (২১ জুন) বিকেলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও সাঁঝের মায়া ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কবির বাড়ি ’সাঁঝের মায়া’প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবির ১১৫তম জন্মবার্ষিকী ছিল ২০ জুন শনিবার।

এমএসএফের নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম, সংস্কৃতিকর্মী তৃষ্ণা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক কর্মী মো. জাহেদুল আলম হিটো, কবিকন্যা সাঈদা কামাল প্রমুখ। এতে বক্তারা সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। 

আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানট ও নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, সানবিমস স্কুলের শিক্ষক ফেরদৌস রহমান চন্দন এবং সুফিয়া কামাল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের শিক্ষক মাহবুবা সুলতানা লিমা। এ ছাড়া সুফিয়া কামালকে নিয়ে লেখা পাঠ করেন এমএসএফের কর্মী মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একই সংগঠনের কর্মী তানিয়া খাতুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এসএন

সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা
ছবি: খবরের কাগজ

আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর অঝোর ধারার বৃষ্টিও যেন হার মানল সুর-মূর্ছনার আবেশের কাছে।

 রবিাবর (২১ জুন) ছিল বিশ্ব সংগীত দিবস। আর এই দিনটিকে ঘিরে রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গন সেজেছিল গানের আয়োজনে।

সংগীতের সর্বজনীন আহ্বানে এদিন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে বসেছিল সুরের মেলা। দুই প্রান্তের আয়োজনেই ছিল ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি, শোভাযাত্রা আর চিরায়ত গানের সুর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে আষাঢ়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সংগীতপ্রেমীদের ঢল নামে সেগুনবাগিচায়। গতকাল রবিবার বিকেলে সংগীত ও নৃত্যকলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় নাট্যশালায় পৌঁছালে উৎসবের আমেজ পায় পূর্ণতা।

জাতীয় নাট্যশালার লবিতে পিয়ানোর সুরের মূর্ছনায় যখন রবীন্দ্রনাথের ‘আগুনের পরশমনি’ বা নজরুলের ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। সন্ধ্যায় মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, ‘সংগীত সীমানা মানে না, এটি মানুষের মনের ভাষা।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীদের অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পার্থ মজুমদারের পরিচালনায় ‘তুমি নির্মল করো’ বা ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে। আগুন, মেহরীন, ফাহমিদা নবীসহ একঝাঁক তারকা শিল্পীর কণ্ঠ এবং বিদেশি দূতাবাসের শিল্পীদের পরিবেশনায় তৈরি হয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

একই দিনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সংগীত উৎসব। রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে সুরের ধারার শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাচিক শিল্পী আশরাফুল আলম। বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা শেষে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব সংগীতের তুলনায় আমাদের লোকসংগীতই শ্রেষ্ঠ। এই সংগীতের মাধ্যমেই আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে হবে।’

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান নতুন প্রজন্মের প্রতি শুদ্ধ সংগীত চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় গান। সংগীতকে শুধু কণ্ঠে নয়, আত্মস্থ করতে হয়।’ সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা দলীয় এবং একক সংগীত পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন মিলনায়তন। স্পন্দন, সুরের ধারা, নিবেদন, গীতশতদল, উদীচীর মতো সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলা সংগীতের বিচিত্র ধারা।

শিল্পকলা একাডেমি এবং কচি-কাঁচার মেলা–উভয় প্রান্তের আয়োজন চলবে দুই দিন ধরে। আজ দ্বিতীয় দিন উৎসবে যুক্ত হবে আরও নতুন পরিবেশনা।