বাংলার ‘জ্ঞানতাপস’ শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ১৪০তম জন্মদিন আজ ১০ জুলাই। ১৮৮৫ সালের এই দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তার জন্ম।
সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রি ও তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এমএ ডিগ্রি অর্জনের পর পেশাজীবন শুরু করেন স্কুল শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। পরে তিনি আইনি পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯২১ সালে ফিরে আসেন শিক্ষকতায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে মৌলিক গবেষণা করেন। ১৯২৫ সালে প্রমাণ করেন, গৌড়ী বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ফ্রান্সে যান। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ভাষা, ভাষাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। ১৯২৮ সালে গবেষণা করেন বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ নিয়ে। প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। বাংলা ধ্বনিতত্ত্বে মৌলিক গবেষণার জন্য ডিপ্লোমাও লাভ করেন।
১৯৩৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ হন। অধ্যাপনা জীবনে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়িয়েছেন। বাংলা ও সংস্কৃতি ছাড়াও আইন বিভাগ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগেও অধ্যাপনা করেছেন তিনি।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ করাচির উর্দু ও উন্নয়ন সংস্থার ‘উর্দু অভিধান প্রকল্প’, বাংলা একাডেমির ‘পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্প’ এবং ‘ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির বাংলা পঞ্জিকার তারিখ-বিন্যাস কমিটির সভাপতি ছিলেন।’
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান। গত শতকের তিরিশের দশক থেকে পঞ্চাশের দশকে তিনি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
ভাষা ও সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতি স্বরূপ শহীদুল্লাহ পাকিস্তান সরকারের ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’, ফরাসি সরকারের ‘নাইট অব দি অর্ডারস অব আর্ট লেটার্স’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আর তিন দিন পরেই এই জ্ঞানতাপসের মৃত্যুদিবস।