নানা আয়োজনে জামালপুরে কিংবদন্তি নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুনের (১৩ জুলাই ১৯৪২ - ২১ আগস্ট ২০০৮) ৮৩তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।
রবিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিল জেলা পরিষদ ও মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক খবরের কাগজ।
ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি কবি আলী জহির খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়াও অধ্যাপক মাসুম আলম খান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জামালপুর জেলা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম দুলাল, মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘরের ট্রাস্টি উৎপল কান্তি ধর, চলচ্চিত্র নির্মাতা দিলদার হোসেন, নাট্যজন আলী আকবর ফকির, ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক একেএম আশরাফুজ্জামান স্বাধীনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘শৈশব থেকেই শিল্প সাহিত্যের প্রতি ভীষণ ঝোক ছিল নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুনের। তিনি একাধারে অভিনেতা, নির্মাতা ও লেখক ছিলেন। সারেং বউ, সখী তুমি কার, এখনই সময়, দুই জীবন, বিহঙ্গ তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনিই প্রথম ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন। সংশপ্তক, আমি তুমি সে, পাথর সময়, জোয়ার-ভাটা, উত্তরাধিকার নাটক অন্যতম। গুণী এই ব্যাক্তি জীবদ্দশায় বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, একুশে পদক, জাতীয় টেলিভিশন পুরষ্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারসহ নানা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।’
বক্তারা এ সময় ভবিষ্যতে বইমেলা, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ আবদুল্লাহ আল-মামুনকে নিয়ে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে আবদুল্লাহ আল-মামুনের জীবন ও কর্মের উপর রচনা ও বইপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরষ্কার দেওয়া হয়। এরপর ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুনের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
আসমাউল আসিফ/সুমন/