সমকালের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষে-মানুষে যে বিভেদ-বিভাজন-দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, শিল্পীদের মনে তা গভীর রেখাপাত করছে। এই বিভেদ যত বাড়তে থাকে, সংস্কৃতির বার্তা তত ফিকে হতে থাকে। সংগীতের সুর কিংবা কবিতার পঙ্ক্তি তখন হয়ে ওঠে অর্থহীন বাক্যালাপ। তবুও গানের মানুষ আশায় বুক বাঁধেন। সংস্কৃতি বিকাশের পথে যত প্রতিবন্ধকতা আসুক, সুরের আগুন জ্বালিয়ে শিল্পীরা এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেন সম্মেলক কণ্ঠে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের সমাবর্তন। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানেই ধ্বনিত হলো সেই শপথবাক্য- ‘সংগীত মানুষে-মানুষে বিভেদ দূর করতে পারে।’
ছায়ানটের ষাটের দশকের দুই কৃতী শিক্ষার্থী সেলিনা মালেক চৌধুরী এবং ইফ্ফাত আরা দেওয়ানের সঙ্গে মঞ্চে আসেন প্রবীণ সংগীতশিল্পী ফাহ্মিদা খাতুন। তিনি ছিলেন সমাবর্তনের প্রধান অতিথি। ছায়ানটের এই সময়ের শিক্ষার্থীরা ‘বাজাও তুমি কবি’, ‘নবীন আশা জাগল রে আজ’ এবং ‘এমন মানবজনম আর কি হবে’ গানগুলো গেয়ে প্রধান অতিথিকে বরণ করে নেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। এরপর ছায়ানটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপনের পরে ফাহ্মিদা খাতুন সমাবর্তন ভাষণ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক বাধা অতিক্রম করে গান শিখতে এসেছিলাম। বর্তমান প্রজন্ম অত্যন্ত ভাগ্যবান তারা জীবনের শুরুতে ছায়ানটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে গান বা নাচ শেখার সুযোগ পেয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, ‘এখন যে ভূমিকম্পের রেখার কথা শুনছি, এ দেশের মানুষের মধ্যে তার চাইতে অনেক বড় বিভেদরেখা দৃশ্যমান। মানুষে-মানুষে বিভেদ দূর করতে হবে। আমরা গানের সুর নিয়ে পৌঁছে যাব মানুষের দুয়ারে।’
ছায়ানট জানিয়েছে, গতকাল সমাবর্তনে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের ১৪২১-১৪৩০ বঙ্গাব্দ সময়কালের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী অভিজ্ঞানপত্র দেওয়া হয়। চার শর বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩১ জন সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় পর্ব ছিল সেরা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা করেন দীপ্র নিশান্ত, নজরুল সংগীত পরিবেশনা করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া এবং লোকসংগীত পরিবেশনা করেন মতিউর রহমান বকুল। দ্বৈত কণ্ঠে রাগ হংসধ্বনি পরিবেশনা করেন দিপু সমদ্দার ও লায়েকা বশীর। তবলা বাজিয়ে শোনান অনন্য ইগ্নেসিউস রোজারিও। মণিপুরী নৃত্য পরিবেশনা করেন দীপান্বিতা আনজুম এবং ভরতনাট্যম্ পরিবেশনা করেন রিতু পাল।