ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পেছনে যুদ্ধ, সামনে বিশ্বকাপ মরুর সাহস, উরুগুয়ের ইতিহাস দুর্দান্ত বেলজিয়ামের সামনে সালাহর মিসর নেদারল্যান্ডসকে জিততে দিল না জাপান প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে কুরাসাওয়ের কোচের বিশ্বরেকর্ড প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ
Nagad desktop

‘ভূমিকম্পের চেয়েও বড় ফাটল মানুষের মনে’ ছায়ানট সমাবর্তনে শঙ্কা বক্তাদের

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২১ পিএম
‘ভূমিকম্পের চেয়েও বড় ফাটল মানুষের মনে’ ছায়ানট সমাবর্তনে শঙ্কা বক্তাদের
ছবি: খবরের কাগজ

সমকালের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষে-মানুষে যে বিভেদ-বিভাজন-দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, শিল্পীদের মনে তা গভীর রেখাপাত করছে। এই বিভেদ যত বাড়তে থাকে, সংস্কৃতির বার্তা তত ফিকে হতে থাকে। সংগীতের সুর কিংবা কবিতার পঙ্‌ক্তি তখন হয়ে ওঠে অর্থহীন বাক্যালাপ। তবুও গানের মানুষ আশায় বুক বাঁধেন। সংস্কৃতি বিকাশের পথে যত প্রতিবন্ধকতা আসুক, সুরের আগুন জ্বালিয়ে শিল্পীরা এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেন সম্মেলক কণ্ঠে।
 
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের সমাবর্তন। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানেই ধ্বনিত হলো সেই শপথবাক্য- ‘সংগীত মানুষে-মানুষে বিভেদ দূর করতে পারে।’

ছায়ানটের ষাটের দশকের দুই কৃতী শিক্ষার্থী সেলিনা মালেক চৌধুরী এবং ইফ্‌ফাত আরা দেওয়ানের সঙ্গে মঞ্চে আসেন প্রবীণ সংগীতশিল্পী ফাহ্‌মিদা খাতুন। তিনি ছিলেন সমাবর্তনের প্রধান অতিথি। ছায়ানটের এই সময়ের শিক্ষার্থীরা ‘বাজাও তুমি কবি’, ‘নবীন আশা জাগল রে আজ’ এবং ‘এমন মানবজনম আর কি হবে’ গানগুলো গেয়ে প্রধান অতিথিকে বরণ করে নেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। এরপর ছায়ানটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপনের পরে ফাহ্‌মিদা খাতুন সমাবর্তন ভাষণ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক বাধা অতিক্রম করে গান শিখতে এসেছিলাম। বর্তমান প্রজন্ম অত্যন্ত ভাগ্যবান তারা জীবনের শুরুতে ছায়ানটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে গান বা নাচ শেখার সুযোগ পেয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, ‘এখন যে ভূমিকম্পের রেখার কথা শুনছি, এ দেশের মানুষের মধ্যে তার চাইতে অনেক বড় বিভেদরেখা দৃশ্যমান। মানুষে-মানুষে বিভেদ দূর করতে হবে। আমরা গানের সুর নিয়ে পৌঁছে যাব মানুষের দুয়ারে।’

ছায়ানট জানিয়েছে, গতকাল সমাবর্তনে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের ১৪২১-১৪৩০ বঙ্গাব্দ সময়কালের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী অভিজ্ঞানপত্র দেওয়া হয়। চার শর বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩১ জন সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় পর্ব ছিল সেরা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা করেন দীপ্র নিশান্ত, নজরুল সংগীত পরিবেশনা করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া এবং লোকসংগীত পরিবেশনা করেন মতিউর রহমান বকুল। দ্বৈত কণ্ঠে রাগ হংসধ্বনি পরিবেশনা করেন দিপু সমদ্দার ও লায়েকা বশীর। তবলা বাজিয়ে শোনান অনন্য ইগ্নেসিউস রোজারিও। মণিপুরী নৃত্য পরিবেশনা করেন দীপান্বিতা আনজুম এবং ভরতনাট্যম্ পরিবেশনা করেন রিতু পাল।

বিশ্বজুড়ে সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল আরও প্রাসঙ্গিক: মোস্তফা কামাল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
বিশ্বজুড়ে সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল আরও প্রাসঙ্গিক: মোস্তফা কামাল
রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে কৃষ্টিবন্ধন বাংলাদেশ আয়োজিত 'রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও গুণীজন সংবর্ধনা' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বজুড়ে মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চলমান সংকটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, এই দুই মানবিক কবির জন্ম না হলে বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ ঘটত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

'আমার সংস্কৃতি আমার পরিচয়' স্লোগানকে সামনে রেখে 'রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও গুণীজন সংবর্ধনা' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষ্টিবন্ধন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা কামাল বলেন, 'বর্তমানে পৃথিবীতে মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িকতার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দুই প্রধান কবির সাহিত্য ও দর্শন আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবসময় মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন। অন্যদিকে নজরুল সোচ্চার ছিলেন সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে সব ধর্মই মূলত মানবতার কথা বলে।'

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামালের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, 'উপমহাদেশের বুকে সাম্প্রদায়িকতার যে কুৎসিত চিত্র বারবার ফুটে উঠেছে, তা এই দুই কবি কখনোই সহ্য করতে পারেননি। নজরুল লিখে গেছেন 'মোরা একটি বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান'। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের এই আদর্শকে ধারণ করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।' 

এ অনুষ্ঠানে কৃষ্টিবন্ধন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিল্প ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন গুণীজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন/ছবি: খবরের কাগজ

জীবন ও ইতিহাসের নিপুণ চিত্রকর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ১৪ জুন। ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ লেখালেখির প্রতিটি পর্বে তিনি সৃজনশীলতার অপূর্ব স্বাক্ষর রেখেছেন।

সেলিনা হোসেন কেবল একজন লেখক নন, তিনি সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংকটের একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক ও ভাষ্যকার। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ তার লেখায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘যাপিত জীবন’, ‘নীল ময়ূরীর যৌবন’ বা ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’র মতো উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ৫০টিরও বেশি মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা সেলিনা হোসেনের রচনা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশসহ নানা বিদেশি ভাষায়।

দীর্ঘ সময় বাংলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই লেখক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে সম্মানিত হয়েছেন। বিদেশি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তার সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
দেশাত্মবোধক গানের কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা গানের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার কণ্ঠস্বর কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম, সেই বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে সংগীতের সুধায় সিক্ত করে  তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই কালজয়ী শিল্পীকে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগময় কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘আমি সবার প্রশংসায় আকুণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। তবে আমার একটিই অনুরোধ; আমরা যেন নিজেদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। আসুন, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি।’ 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাসাস-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী’ একটি মানদণ্ড
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। নতুন প্রজন্মের কোনো শিল্পী কেমন গাইলেন, তা যাচাই করতে গিয়ে আজও শ্রোতারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গায়কীর মানদণ্ডেই বিচার করেন। এটিই তার সার্থকতা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে সংগীতের প্রতিটি শাখাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গীতসন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
সম্মাননা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় উঠে আসে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কালজয়ী সব গান। স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসানসহ একঝাঁক শিল্পীর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’-এই দুটি গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্যানভাস যেন এক নীরব ভাষা, যেখানে তুলির আঁচড়ে জমে ওঠে অস্ফুট অব্যক্ত কথা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, মানুষের চোখের জলছবি আর রাজপথের সংগ্রামী মানুষদের নীরব মর্যাদার মিশেলে তৈরি এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা এখন ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় তিনটি ভিন্ন ধারার প্রতিভাবান শিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’। শিল্পীর মন ও ক্যানভাসের মধ্যকার এই যে নিবিড় সংযোগ, তা যেন আজ এক মূর্ত রূপ পেয়েছে শিল্পানুরাগীদের সামনে। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সাইদুল হক জুইস, রশীদ আমিন এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আনিস। 

স্মৃতির অতল থেকে উঠে আসা পরিচয়, প্রকৃতির সাথে মানবিক বন্ধন আর নগরের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো এখানে একে অপরের সাথে সংলাপে মগ্ন।

নীহারিকা অহনা বারসাত দর্শকদের নিয়ে গেছেন এক স্বপ্নিল কাব্যিক জগতে। তার জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকের বহুস্তরবিশিষ্ট কাজগুলোতে বৃক্ষ, পাখি ও নারীমূর্তির পুনরাবৃত্তি যেন এক প্রকার আরোগ্যের মন্ত্র উচ্চারণ করে। প্রকৃতিকে তিনি কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং আত্মরূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্টো পিঠেই আবার সুরভী আক্তারের শিল্পভাষায় ধরা দিয়েছে মানবিকতার সূক্ষ্ম রেখা। এই শিল্পী ব্রাউন পেপারের ধূসর জমিনে লাল বলপয়েন্ট কলমের আঁচড়ে মানুষের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে তার প্রতিকৃতিগুলো দর্শককে থমকে দাঁড়াতে এবং দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরব কথাগুলো শুনতে আহ্বান জানায়।

নগরজীবনের না বলা আখ্যানকে মলাটবন্দি করেছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। ঢাকার রাজপথ, রিকশাচালকদের ঘামভেজা শরীর আর প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামগুলোকে তিনি জলরঙের মায়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন। সমাজের জনপরিসরে যারা প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলিতে তারাই হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ।

সামগ্রিকভাবে ‘ত্রিবন্ধন’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের এক নান্দনিক উদযাপন। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার আগমনী বার্তার মাঝেই সুরের মায়াজালে জড়াতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব 'ফেত দ্য লা মিউজিক ২০২৬'।

বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও ফিনল্যান্ডের শিল্পীরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (এএফডি) তাদের সহযোগী সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অনুসন্ধানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের সুরের আড্ডাকে সাজানো হয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনে কর্মশালা, লাইভ পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা সমসাময়িক বৈশ্বিক সংগীতধারার এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।

রাজধানীর গুলশানের ‘বাটারনোট – আ জ্যাজ ক্যাফেতে’ গতকাল বুধবার বিকেলে ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। ফরাসি সংগীতশিল্পী ও পারকাশনবাদক সুভাষ ধুনুচন্দ এই কর্মশালা পরিচালনা করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ কনসার্ট ‘বসা ও সোলেই কুশঁ’। এতে পারফর্ম করবেন ফিনল্যান্ডের মিরভা তুলিয়া, ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের ইমরান আহমেদ, তৌফিক আরিফিন ও তানভীর হক। বোসা নোভার মনোমুগ্ধকর সুর ও ছন্দের মাধ্যমে সেখানে তৈরি হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংলাপ। অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যেটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তবলাট্রনিক’। সুভাষ ধুনুচন্দের লাইভ পারফরম্যান্সে তবলা, পারকাশন এবং ইলেকট্রনিক প্রোগ্রামিংয়ের সমন্বয়ে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় আছেন শ্রোতারা।

উৎসবে শুক্রবারের মূল আকর্ষণ অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংগীত উদ্‌যাপন। তাদের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি সেদিন ক্যাফে লা ভেরান্দায় গান শোনাবেন তপেশ চক্রবর্তী ও জ্যাজ ব্যান্ড ‘দ্য সোসাইটি’। আগামী শনিবার উৎসবের শেষ দিনে সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘বাংলা ব্রাজিল: দ্য সাউন্ড অব দ্য ইউনিভার্স’। ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের মিঠুন চক্রের এক অনন্য পারকাশন যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে চার দেশের শিল্পীদের এই মিলনমেলার।

জয়ন্ত সাহা/এসএন