পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলোভের হাতে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিশেষ ছবি তুলে দেয় ছায়ানট (কলকাতা)। ছবিতে ১৯৬৭ সালে একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সোভিয়েত প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) কলকাতায় গোর্কি সদনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ম্যাক্সিম কোজলোভ-এর হাতে এ ছবি তুলে দেওয়া হয়।
ছবিটির বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে - রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত নজরুল রচনা-প্রকাশ অনুষ্ঠানে সোভিয়েত প্রতিনিধিদের মাঝখানে নজরুল (১৯৬৭)।
কাজী নজরুল ইসলামের সুহৃদ মুজফ্ফর আহ্মদ-এর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, ‘‘শুনেছি (চোখে দেখিনি) ‘সাম্যবাদী’ তখন রুশ ভাষায় তর্জমা করা হয়েছিল।’’
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্রের ‘গ্রন্থপরিচয়’ থেকে জানা যায় - ‘সাম্যবাদী’ কাজী নজরুল ইসলামের অষ্টম কাব্য। এর প্রকাশকাল পৌষ ১৩৩২, ডিসেম্বর ১৯২৫।
‘সাম্যবাদী’ পূর্বতন কাব্যগুলির মতো কবিতা সংকলন নয়, দীর্ঘকালীন পরিকল্পনারও ফসল নয়, এটি একান্তই তাৎক্ষণিক গ্রন্থ-পরিকল্পনার ফল। উক্ত ‘লাঙল’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘সাম্যবাদী’ নামক উপরোল্লিখিত শিরোনামে দীর্ঘ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। কবিতাটির কারনেই ‘লাঙল’ এর উক্ত সংখ্যাটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই অভূতপূর্ব চাহিদার ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কবিতাগুলো চটি গ্রন্থের আকারে পুনর্মুদ্রিত হয়।
শতবর্ষ আগে ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে নজরুল যে বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা কি শুধুই স্বপ্ন? এত বছর পরেও তাঁর সেই লেখা আমাদের উত্তরণের পথ দেখায়। অবুঝ বয়সেই আমরা যখন কাজী নজরুল ইসলামের নাম উচ্চারণ করি, স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাঁর নামের আগে ‘বিদ্রোহী’ বিশেষণটি ব্যবহার করি। তিনি প্রকৃত অর্থেই ‘বিদ্রোহী’ - এ কথা অনস্বীকার্য। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় তিনি লিখেছেন —
আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
সমাজের সমস্ত অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। প্রাক্ স্বাধীনতা যুগে যে মন্ত্রে তিনি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উজ্জীবিত করেছিলেন, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও সুন্দর-বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সেই মন্ত্রই হোক আমাদের পাথেয়।
তাঁর ‘বিদ্রোহী’ সত্তা অধিক আলোচিত হলেও বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে তাঁর সাম্যবাদী, মানবাতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশেষভাবে চর্চার প্রয়োজন। সাম্যবাদী কবিতায় নজরুলের স্পষ্ট উচ্চারণ:
গাহি সাম্যের গান -
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম শ্রোতা মুজফ্ফর আহ্মদ ‘রুশ বিপ্লব, লালফৌজ ও কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক লেখায় উল্লেখ করেছেন নজরুলের লেখায় কীভাবে আন্তর্জাতিক ঘটনা প্রভাব বিস্তার করেছিল। মুজফ্ফর আহ্মদ লিখছেন - ‘ব্যথার দান’ পড়ে আমরা তখনও বুঝেছিলেম এবং এখনও বুঝতে পারছি যে রুশ বিপ্লব ও লাল ফৌজের প্রতি নজরুলের একটা আকর্ষণ জন্মেছিল। ফৌজ হতে ফেরার আগেই তার দুটি গল্প আমরা ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় ছেপেছিলেম। ১৩২৬ সালে মাঘ মাসে তো ‘ব্যথার দান’ ছেপেছিলেমই, তার আগে কার্তিক মাসে (নভেম্বর, ১৯১৯) আমরা ছেপেছিলেম তার ‘হেনা’ নামক গল্প। এই দুটি গল্পই সে ফৌজে থাকা অবস্থাতে লিখেছিল এবং লিখেছিল তার হাবিলদার হওয়ার পরে। ‘ব্যাথার দান’ গল্প যাদের নিয়ে লেখা হয়েছে তারা বেলুচিস্তানের বাসিন্দা। নজরুলের মুখে শুনেছি যে কোনো পলাতক সৈনিককে ধরার জন্য তাকে (হয়তো সঙ্গে অন্য সৈনিকও ছিল) একবার বেলুচিস্তানের গুলিস্তান, বুস্তান ও চমন প্রভৃতি ইলাকায় যেতে হয়েছিল। তার গল্পে পেশোয়ারের নামও আছে। পেশোয়ারের নিকটবর্তী নৌশহরা নামক স্থানে তো নজরুলরা প্রথম সৈনিক শিক্ষাই লাভ করেছিল। ‘ব্যাথার দানে’র দুটি চরিত্র দারা ও সয়ফুল মুল্ক্ বেলুচিস্তান হতে আফগানিস্তানের সহজ ইলাকা পার হয়ে তুর্কিস্তান কিংবা ককেসাসে গিয়ে লালফৌজে যোগ দিয়েছিল এবং বিপ্লব-বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়েছিল। ‘হেনা’ ও ‘ব্যথার দান’ এই দুটি গল্পই প্রেমের গল্প। কিন্তু এই দুটি গল্পের ভিতর দিয়েই অদ্ভূত দেশ-প্রেমও ফুটে উঠেছে। দুটি গল্পেই আমরা লেখকের আন্তর্জাতিকতার পরিচয় পাই, তবে ‘ব্যথার দানে’ বেশী।
১৯১৭ সাল - কাজী নজরুল ইসলাম তখন রানীগঞ্জের শিয়ারসোল রাজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। সামনেই ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা। এই অবস্থায় হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কেবলমাত্র তাঁর স্কুলজীবনের পরম বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় এ-সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ১৯২০ সালের মার্চ মাসে ৪৯ নম্বর বেঙ্গলী রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হলে, করাচি থেকে কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর বাল্যবন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মেসে এবং পরে ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’-র অফিসে ওঠেন। করাচিতে নজরুলের সঙ্গে থাকতেন জমাদার শম্ভু রায়।
১৯৫৭ সালের ৬ জুন তারিখে চুঁচুড়ার প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়কে লিখিত জমাদার শম্ভু রায়ের পত্র থেকে বেশ কিছু তথ্য জানা যায়। সেই সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন মুজফ্ফর আহ্মদ। ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথায়’ তিনি লিখেছেন - জমাদার শম্ভু রায়ের লেখা পত্র হতে আমরা জানতে পারছি যে, করাচিতে তাঁদের ব্যারাকের প্রতি কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল। যে কোন রকমের রাজনীতিক সাহিত্যের ব্যারাকে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সেন্সরিং-এর ব্যবস্থা অতি কঠোর। তবুও এইসব ব্যবস্থা নজরুলের নিকটে হার মেনেছিল। সে এমন গোপন পথ খুলেছিল যে যার সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে নিষিদ্ধ পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা অবলীলাক্রমে ব্যারাকের ভিতরে প্রবেশ করত। রাওলাট বা সিডিশন কমিটির রিপোর্ট তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু জমাদার রায় সেই রিপোর্ট নজরুলের নিকটে দেখেছিলেন। রুশ বিপ্লব সম্বন্ধেও নিষিদ্ধ সাহিত্য নজরুলের হাতে এসেছিল। জমাদার রায় ও নজরুলের আরও ক’জন বিশ্বস্ত বন্ধুকে নজরুল সে সাহিত্য দেখিয়েছিল। একদিন নজরুল তার নিজের ঘরের সামনে একটি উৎসব করেছিল। এই উৎসবের উপলক্ষ অক্টোবর বিপ্লব ছিল, না, লালফৌজের কোনো বিশিষ্ট জয়লাভ ছিল, তা জমাদার শম্ভু রায়ের পত্র হতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। আমার মনে হয় লালফৌজের কোনো বিশিষ্ট জয়লাভ উপলক্ষেই উৎসবটি হয়ে থাকবে।
জমাদার রায় বলছেন: ‘‘নজরুল তার বন্ধুদের মধ্যে যাদের বিশ্বাস করত তাদের এক সন্ধ্যায় খাবার নিমন্ত্রণ করে, অবশ্য এইরকম নিমন্ত্রণ প্রায়ই সে তার বন্ধুদের করত। কিন্তু ঐ দিন যখন সন্ধ্যার পর তার ঘরে আমি ও নজরুলের অন্যতম বন্ধু তার অরগ্যান মাস্টার হাবিলদার নিত্যানন্দ দে প্রবেশ করলাম তখন দেখলাম অন্যান্য দিনের চেয়ে নজরুলের চোখে মুখে একটা অন্য রকমের জ্যোতি খেলে বেড়াচ্ছিল। উক্ত নিত্যানন্দ দে মহাশয়ের বাড়ী ছিল হুগলী শহরের ঘুটিয়া বাজার নামক পল্লীতে। তিনি অরগ্যানে একটা মার্চিং গৎ বাজানোর পর নজরুল সেই দিন যে-সব গান গাইল ও প্রবন্ধ পড়ল তা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, রাশিয়ার জনগণ জারের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। গান বাজনা প্রবন্ধ পাঠের পর রুশ বিপ্লব সম্বন্ধে আলোচনা হয় এবং লালফৌজের দেশপ্রেম নিয়ে নজরুল খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে এবং ঠিক নাম মনে নেই সে গোপনে আমাদের একটি পত্রিকা দেখায়। ঐ পত্রিকাতে আমরাও বিশদভাবে সংবাদটি দেখে উল্লসিত হয়ে উঠি। সে দিন সারা রাতই প্রায় হৈ হুল্লোড়ে আমাদের কেটে গিয়েছিল।’’
‘বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য’ প্রবন্ধে নজরুল বিশ্বের মহান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘‘বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্যের দিকে একটু ভালো করে দেখলে সর্বাগ্রে চোখে পড়ে তার দুটি রূপ। এক রূপে সে শেলীর Skylark-এর মতো, মিল্টনের Birds of paradise-এর মতো এই ধূলি-মলিন পৃথিবীর ঊর্ধ্বে উঠে স্বর্গের সন্ধান করে, তার চরণ কখনো ধরার মাটি স্পর্শ করে না; কেবলই ঊর্ধ্বে - আরও ঊর্ধ্বে উঠে স্বপনলোকের গান শোনায়। এইখানে সে স্বপন-বিহারী।
আর এক রূপে সে এই মাটির পৃথিবীকে অপার মমতায় আঁকড়ে ধরে থাকে - অন্ধকার নিশীথে, ভয়ের রাতে বিহ্বল শিশু যেমন করে তার মাকে জড়িয়ে থাকে - তরুলতা যেমন করে সহস্র শিকড় দিয়ে ধরণী-মাতাকে ধরে থাকে - তেমনি করে। এইখানে সে মাটির দুলাল।
ধূলি-মলিন পৃথিবীর এই কর্দমাক্ত শিশু যে সুন্দরকে অস্বীকার করে, স্বর্গকে চায় না, তা নয়। তবে সে এই দুঃখের ধরণীকে ফেলে সুন্দরের স্বর্গলোকে যেতে চায় না, সে বলে : স্বর্গ যদি থাকেই তবে তাকে আমাদের সাধনা দিয়ে এই ধূলির ধরাতে নামিয়ে আনব। আমাদের পৃথিবীই চিরদিন তার দাসীপনা করেছে, আজ তাকেই এনে আমাদের মাটির মায়ের দাসী করব। ...দুই দিকেই বড় বড় রথী-মহারথী। একদিকে নোগুচি, ইয়েটস্, রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি dreamers স্বপ্নচারী, আর এক দিকে গোর্কি, যোহান বোয়ার, বার্নার্ড শ’, বেনাভাঁতে প্রভৃতি।
আজকের বিশ্ব-সাহিত্যে এই দুটো রূপই বড় হয়ে উঠেছে। এর অন্যরূপও যে নেই, তা নয়। এই দুই extreme - এর মাঝে যে, সে এই মাটির মায়ের কোলে শুয়ে স্বর্গের কাহিনী শোনে। রূপকথার বন্দিনী রাজকুমারীর দুঃখে সে অশ্রু বিসর্জন করে, পঙ্খীরাজে চড়ে তাকে মুক্তি দেবার ব্যাকুলতায় সে পাগল হয়ে ওঠে। সে তার মাটির মাকে ভালোবাসে, তাই বলে স্বর্গের বিরুদ্ধে অভিযানও করে না। এই শিশু মনে করে - স্বর্গ এই পৃথিবীর সতীন নয়, সে তার মাসি-মা। ...এঁদের দলে লিওনিদ, আঁদ্রিভ, ক্লুট হামসুন, ওয়াদিশ্ল, রেমঁদ প্রভৃতি।’’
বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে নজরুল যখন আলোচনা করেছেন তখন স্বাভাবিকভাবেই রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির কথা উঠে এসেছে। গোর্কি সম্পর্কে নজরুল বলেছেন - ‘‘তারপর এল এই মহাপ্লাবনের ওপর তুফানের মতো - ভয়াবহ সাইক্লোনের মতো বেগে ম্যাক্সিম গোর্কি। চেকভের নাট্যমঞ্চ ভেঙে পড়ল, সে বিস্ময়ে বেরিয়ে এসে এই ঝড়ের বন্ধুকে অভিবাদন করলে। বেদনার ঋষি দস্তয়েভস্কি বললে : তোমার সৃষ্টির জন্যই আমার এ তপস্যা। চালাও পরশু, হানো ত্রিশূল! বৃদ্ধ ঋষি টলস্টয় কেঁপে উঠলেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বলে উঠলেন : That man has only one God and that is Satan. কিন্তু এই তথাকথিত শয়তান অমর হয়ে গেল, ঋষির অভিশাপ তাকে স্পর্শও করতে পারলে না।
গোর্কি বললেন: দুঃখ-বেদনার জয়গান গেয়েই আমরা নিরস্ত হব না - আমরা এর প্রতিশোধ নেব। রক্তে নাইয়ে অশুচি পৃথিবীকে শুচি করব।’’
নজরুল গবেষক মাহবুবুল হকের নজরুল তারিখ অভিধান থেকে জানা যায় - ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই খ্যাতনামা রুশ লেখক মক্সিম গোর্কির মৃত্যুতে (১৮ জুন, ১৯৩৬) প্রগতি লেখক সংঘের উদ্যোগে কলকাতার অ্যালবার্ট হলের কমিটি রুমে যে শোক সভা হয় তার অন্যতম আহ্বায়ক ছিলেন নজরুল। নজরুল ছাড়াও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সতেন্দ্রনাথ মজুমদার, সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, বিবেকান্দ মুখোপাধ্যায়, খগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ। এই সভা থেকেই নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তকে সভাপতি ও সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে সম্পাদক করে নিখিল বঙ্গ প্রগতি লেখক সংঘ গঠনের কথা ঘোষিত হয়।
এইসব তথ্যের ভিত্তিতে সহজেই বলা যায় - রুশ বিপ্লব, রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন চেতনার কবি নজরুল। তাই ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের শতবর্ষে ছায়ানট (কলকাতা) এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
গত ১৮ বছর ধরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে ছায়ানট (কলকাতা)। শুধুমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী কিংবা প্রয়াণ দিবস স্মরণ করা নয়, সারা বছর ধরেই তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চর্চা করাই ছায়ানটের উদ্দেশ্য। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নজরুলপ্রেমীদের অবগত করাও ছায়ানটের কার্যক্রমের অংশ। আমরা জানতে পারি, নজরুলের বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এই বিশেষ ছবির সন্ধান পাই যা সত্যি আমাদের চমৎকৃত করে। আজ সেই ছবিটি গোর্কি সদনে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি গোর্কি সদনের প্রোগ্রাম অফিসার শ্রী গৌতম ঘোষের প্রতি, তাঁর আন্তরিক সহযোগিতায় আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আশা করি গোর্কি সদনের সংগ্রহশালায় যত্ন সহকারে প্রদর্শিত হবে এই ছবি, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষেরা এলে সহজেই দেখতে পাবেন।
লেখক: সভাপতি, ছায়ানট (কলকাতা) নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক