১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ মুখরিত হলো না পাঠকের আনাগোনায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত দেখা গেল না প্রকাশনা সংস্থার স্টল, না রিকশা-ভ্যানে বইয়ের সরবরাহ, লেখক-কবিরা মেলাপ্রাঙ্গণে তর্কে মেতে উঠলেন না।
তবে ঐতিহ্যের ধারাক্রম রক্ষায় একদল প্রকাশক ঠিকই বইয়ের পসরা সাজালেন। খোলা আকাশতলে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে গুটিকয়েক বইয়ের স্টল স্থাপন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অমর একুশে প্রতীকী বইমেলা’।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই প্রতীকী বইমেলার উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক, বাম নেত্রী দীপা দত্ত।
দীপা দত্ত স্মরণ করান, ১৯৬৪-৬৫ সালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে শুরু হওয়া বইমেলার ঐতিহ্য আজও ধরে রাখার প্রয়াসই এই প্রতীকী আয়োজন। অনুপস্থিত জনসমাগমের মাঝেও প্রকাশকরা মেলার রঙিন পরিচয় বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন, যা ভাষা ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণার মতো।
বইমেলাকে ‘বাঙালি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন দীপা দত্ত।
সম্প্রতি উদীচী ও ছায়ানটের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে দীপা দত্ত বলেন, ‘আক্রমণের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে দেশে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকেই মেলার ওপর হামলার ঘটনা শুরু হয়, যা গত বছর থেকে আরও প্রকট হয়েছে।’
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বইমেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জাতির জ্ঞানচর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং আবেগগত সংযোগের প্রতীক।
তিনি বলেন, ‘এখন বইমেলা শুধু কবিতা বা উপন্যাসে সীমাবদ্ধ নেই। দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও জাতীয় জাগরণের নানা বিষয়ে বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, নির্বাচন ও রোজার সময়সহ নানা বাস্তবতা বিবেচনায় মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাস্তবতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা না হওয়ার একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বক্তব্য রাখেন সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী।
প্রতীকী বইমেলায় স্টল দিয়েছিল- অন্যপ্রকাশ, কাকলী প্রকাশনী, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, জাগৃতি, নতুন দিগন্ত, আকাশ, সূচীপত্র, আবিষ্কার, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অনুপম প্রকাশনী, পাঠক সমাবেশ, অনিন্দ্য প্রকাশ, ছায়াবীথি, কৌমুদী প্রকাশনীসহ আরও বেশ কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/