ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা? আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঘিরে বেরোবির স্মারক মাঠে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ রাজধানী ও গাজীপুরে আ.লীগের ৪৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের গতি নষ্ট করছে: টুখেল বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি ‘মেসির মতো আর কেউ আসবে না’ বরিশালে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে, পিছিয়ে কর্মসংস্থানে সেনেগালকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নরওয়ে ২৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সহযোগিতার নতুন দিগন্তে ঢাকা-কুয়ালালামপুর আমাদের স্যার

যখন নৃত্যে কথা বলে সময়

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
যখন নৃত্যে কথা বলে সময়
ছবি: খবরের কাগজ

মঞ্চে যখন তাল ওঠে, তখন সময় থমকে যায়। শরীরের ভঙ্গিমা, পায়ের ছন্দ আর চোখের ভাষায় খুলে যায় শতাব্দীর পুরোনো গল্প। এমনই এক বহুমাত্রিক নৃত্যভাষার সন্ধ্যা উপহার দিল ছায়ানটের ‘শাস্ত্রীয় নৃত্য উৎসব’।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে একদিনের এই আয়োজনে এক মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় উপমহাদেশের ছয় শাস্ত্রীয় নৃত্যরীতি। নৃত্যে পৌরাণিক আখ্যান, ঋতুর সৌন্দর্য আর তাণ্ডব-লাস্যের দ্বন্দ্বে গড়া মনিপুরী, ওড়িশি, কথক, ভরতনাট্যম, মোহিনিআট্টম ও কথাকলির পরিবেশনা দর্শকদের নিয়ে যায় ইতিহাস ও নান্দনিকতার এক গভীর ভ্রমণে।

‘শিবাষ্টকম’ স্তোত্রের নির্বাচিত শ্লোক অবলম্বনে দুর্গা রাগ ও খণ্ডচাপু তালে ভরতনাট্যম ‘শিববন্দনা’ পরিবেশন করেন অমিত চৌধুরী। রাগমালিকায় নিবদ্ধ এবং আদি তালে রচিত ‘শিব পদম’ পরিবেশন করেন জুয়েইরিয়াহ মৌলি। ভরতনাট্যমে ‘তিরুভালাঙ্গাডু কালী কৌথুভম’ পরিবেশন করেন অন্তরা সাহা। পরে তাল আদিতে তিন্নানা ভরতনাট্যম মার্গমের সর্বশেষ পরিবেশনা ‘কাডানাকুঙ্গুহালাম তিল্লানা’ পরিবেশন করেন সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের শিল্পীরা। ভরতনাট্যমে দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেন ছায়ানটের শিল্পীরাও।

মনিপুরী নৃত্যরীতির সূক্ষ্ম লাস্য, কোমল দৃষ্টি ও আবেগঘন অঙ্গসঞ্চালনের মাধ্যমে ‘বসন্ত প্রবন্ধ’ পরিবেশন করেন তামান্না রহমান। সাত মাত্রার ‘তাল রাজমেল’ এবং চার মাত্রার ‘তাল তানচেপ’-এর মেলবন্ধনে মনিপুরী নৃত্য ‘তানুম’ পরিবেশন করেন সুইটি দাস। মন্দিরার তালে তালে নারীরা রাধাকৃষ্ণের ঝুলনলীলার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন ওয়ার্দা রিহাব।

কবি জয়দেবের অষ্টপদী ‘ইয়াহি মাধব, ইয়াহি কেশব’ কাব্যের ওপর ভিত্তি করে মনিপুরী নৃত্যে ‘মানিনী রাধা’ পরিবেশন করেন সামিনা হোসেন প্রেমা।

মোহিনিআট্টম পরিবেশনায় লাস্য আঙ্গিকে ‘চোলচেট্টু’ পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈ।

এরপর মঞ্চের ভাষা বদলে যায়। নৃত্যছন্দ দলের পরিবেশনায় ওড়িশি নৃত্যের ‘স্থায়ী বটু’ দর্শকদের নিয়ে যায় শুদ্ধ নৃত্তের কঠোর শৃঙ্খলায়। বেনজীর সালামের পরিচালনায় এই পরিবেশনায় দেবতা শিবের ‘বটুক ভৈরব’ রূপ যেন তালে তালে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের আরেক পর্বে কথক নৃত্যের ভিন্ন ভিন্ন রূপ মঞ্চে ধরা দেয়। মাসুম হুসাইনের শুদ্ধ কথক পরিবেশনা দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে। ১৬ মাত্রার ত্রিতালে চলন, ঠাট, উঠান, আমাদ ও লড়ির নিখুঁত সমন্বয়ে নৃত্যে ধরা পড়ে তাঁর তালজ্ঞান ও শরীরী ভাষার গভীর সাধনা। ‘কলাবতি তারানা’য় টুকরা, তেহাই, পরন ও লড়ি পরিবেশন করেন হাসান ইশতিয়াক ইমরান।

অদিতি রায়ের পরিবেশনায় ১৪ মাত্রার ধামার তালের কথক ছিল শক্তি ও সংযমের অনন্য মেলবন্ধন।

জয়ন্ত/রিফাত/

বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ
ছবি: সংগৃীহত

বাংলা সাহিত্যের তিন নক্ষত্র–কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ ও মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী। ভিন্ন ভিন্ন সময়ের এই তিন কালজয়ী সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা আর বিশ্লেষণের আলোয় উদ্ভাসিত করতে বাংলা একাডেমি শুরু করেছে সেমিনার সিরিজ। গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই সিরিজের সূচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই সেমিনারে সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিন সাহিত্যিকের সৃষ্টির মৌলিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্টজনরা।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যের জটিলতা
গতকাল (২২ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া প্রথম আলোচনায় ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও গবেষক ড. উৎপল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। সভাপ্রধান ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বক্তারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা কথাসাহিত্যের ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার উপন্যাসে শ্রেণিগত প্রপঞ্চ ও দাম্পত্যজীবনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন যেভাবে উঠে এসেছে, তা আজও অতুলনীয়। বদ্ধ হাওয়ায় হাঁসফাঁস করা চরিত্রদের মুক্তি খোঁজার চিরন্তন আকুতি মানিকের লেখনীতে যেভাবে ফুটেছে, তা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতা।

রফিক আজাদের কবিতায় চৈতন্যের কোলাজ
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় দ্বিতীয় আয়োজনে ছিল ‘রফিক আজাদের কবিতা: চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশ নেন কবি হিজল জোবায়ের। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতা বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বিদ্রোহ ও প্রেমের রঙে কবিতার ক্যানভাস সাজিয়েছেন। যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি এবং পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা তার কবিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষার আধুনিকতা ও শৈল্পিক নান্দনিকতা নতুন প্রজন্মের কবিদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

চন্দ্রাবতীর গীতিকায় নারী-অস্তিত্বের শাঁস
সন্ধ্যা ৬টায় সিরিজের শেষ পর্বে আলোচিত হয় ‘চন্দ্রবতীর গীতিকায় রমনীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরী। সভাপ্রধান ছিলেন গবেষক ও নির্মাতা ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। বক্তারা বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীকে ‘পথিকৃৎ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বৈরী সমকাল উপেক্ষা করে তিনি নারীর বৈজয়ন্তী ঘোষণা করেছিলেন তার কালজয়ী সৃষ্টিতে। তার গীতিকায় মানবমঙ্গলের গান ও সুন্দর পৃথিবীর আকুতি ফুটে উঠেছে। চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।

সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

‘কণ্ঠ মেলাও সুর ও তানে, বিশ্ব জাগুক গানে গানে’- এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজধানীজুড়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের ঐকতানে মেতে উঠেছিলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন।

সোমবার (২২ জুন) শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এই সংগীত উৎসব।

গত রবিবার থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গত দুদিন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিলো মুখরিত। আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশের জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উঠে এসেছে সংগীতের অসীম শক্তির কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

সংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও অধিকারের সংগ্রামে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমাদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে একটি সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’

সমাপনী সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্পীদের নজরুলের গানের সমবেত পরিবেশনা ছাড়াও অংশ নেন, সুকণ্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, পিন্টু ঘোষসহ একঝাঁক শিল্পী। হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সর্বশেষ ব্যান্ড সংগীতের মূর্ছনায় উৎসবের ইতি টানে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস। 

সোমবার বিকেল ৪টায় কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীদের দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

এ পর্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল। প্রধান অতিথি ছিলেন, লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

পরে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বাঁশুরিয়া লোকসংগীত গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র, সুর নন্দন, মহীরুহ, সপ্তরেখা শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, একক সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩২ এএম
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে
ছবি: সংগৃহীত।

সুফিয়া কামাল তার জীবনযাপন ও ধারণের মধ্য দিয়ে নারীবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাক্স্বানতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তার ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে। বাংলাদেশকে যারা ভালোবাসেন, তারা সবাই এই কবির দ্বারা প্রভাবিত।

প্রখ্যাত কবি, নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক খুশী কবির।

 রবিবার (২১ জুন) বিকেলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও সাঁঝের মায়া ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কবির বাড়ি ’সাঁঝের মায়া’প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবির ১১৫তম জন্মবার্ষিকী ছিল ২০ জুন শনিবার।

এমএসএফের নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম, সংস্কৃতিকর্মী তৃষ্ণা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক কর্মী মো. জাহেদুল আলম হিটো, কবিকন্যা সাঈদা কামাল প্রমুখ। এতে বক্তারা সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। 

আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানট ও নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, সানবিমস স্কুলের শিক্ষক ফেরদৌস রহমান চন্দন এবং সুফিয়া কামাল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের শিক্ষক মাহবুবা সুলতানা লিমা। এ ছাড়া সুফিয়া কামালকে নিয়ে লেখা পাঠ করেন এমএসএফের কর্মী মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একই সংগঠনের কর্মী তানিয়া খাতুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এসএন

সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা
ছবি: খবরের কাগজ

আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর অঝোর ধারার বৃষ্টিও যেন হার মানল সুর-মূর্ছনার আবেশের কাছে।

 রবিাবর (২১ জুন) ছিল বিশ্ব সংগীত দিবস। আর এই দিনটিকে ঘিরে রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গন সেজেছিল গানের আয়োজনে।

সংগীতের সর্বজনীন আহ্বানে এদিন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে বসেছিল সুরের মেলা। দুই প্রান্তের আয়োজনেই ছিল ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি, শোভাযাত্রা আর চিরায়ত গানের সুর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে আষাঢ়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সংগীতপ্রেমীদের ঢল নামে সেগুনবাগিচায়। গতকাল রবিবার বিকেলে সংগীত ও নৃত্যকলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় নাট্যশালায় পৌঁছালে উৎসবের আমেজ পায় পূর্ণতা।

জাতীয় নাট্যশালার লবিতে পিয়ানোর সুরের মূর্ছনায় যখন রবীন্দ্রনাথের ‘আগুনের পরশমনি’ বা নজরুলের ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। সন্ধ্যায় মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, ‘সংগীত সীমানা মানে না, এটি মানুষের মনের ভাষা।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীদের অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পার্থ মজুমদারের পরিচালনায় ‘তুমি নির্মল করো’ বা ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে। আগুন, মেহরীন, ফাহমিদা নবীসহ একঝাঁক তারকা শিল্পীর কণ্ঠ এবং বিদেশি দূতাবাসের শিল্পীদের পরিবেশনায় তৈরি হয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

একই দিনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সংগীত উৎসব। রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে সুরের ধারার শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাচিক শিল্পী আশরাফুল আলম। বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা শেষে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব সংগীতের তুলনায় আমাদের লোকসংগীতই শ্রেষ্ঠ। এই সংগীতের মাধ্যমেই আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে হবে।’

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান নতুন প্রজন্মের প্রতি শুদ্ধ সংগীত চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় গান। সংগীতকে শুধু কণ্ঠে নয়, আত্মস্থ করতে হয়।’ সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা দলীয় এবং একক সংগীত পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন মিলনায়তন। স্পন্দন, সুরের ধারা, নিবেদন, গীতশতদল, উদীচীর মতো সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলা সংগীতের বিচিত্র ধারা।

শিল্পকলা একাডেমি এবং কচি-কাঁচার মেলা–উভয় প্রান্তের আয়োজন চলবে দুই দিন ধরে। আজ দ্বিতীয় দিন উৎসবে যুক্ত হবে আরও নতুন পরিবেশনা।

সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামাল এবং কবি-গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সমাজভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী সেমিনার।

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে পর্যায়ক্রমে দুই সাহিত্য ব্যক্তিত্বের জীবন, কর্ম ও সাহিত্যিক অবদান নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম দিনের সেমিনারে ‘সুফিয়া কামালের কবিতা: বিষয় ও অনুভবের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাত আরা সোহেলী। এছাড়া ‘বিপন্ন প্রকৃতির বিষণ্ন নারী: সুফিয়া কামালের কবিতায় পরিবেশ-নারীবাদী অনুষঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানজীদা মাসুদ।

আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে কবি ও গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম, সংগীতচর্চা এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও সাহিত্যবোদ্ধারা অংশ নেবেন।

১ম দিনের সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুবুল হক। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির গবেষক মাহবুবা রহমান।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুল্লাহিল গালিব। এছাড়াও সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুফিয়া কামালের জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল নিজে শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং অন্যদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন। নারীশিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, “সুফিয়া কামালের মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব সে সময়ে কাজ না করলে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত।”

উপাচার্য আরও বলেন, সমাজের নানা ক্ষেত্রে এখনও নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে সম্পদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

সুফিয়া কামালের মানবতাবাদী দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি শুধু নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন না; মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও প্রগতিশীল চিন্তার এক উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

এসএন/