ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন যে কারণে বন্ধ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স গোল করেই রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমবাপ্পে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বোগডানোভিচ জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

বরিশালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক আয়োজনে বর্ষবরণ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
বরিশালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক আয়োজনে বর্ষবরণ
ছবি: খবরের কাগজ

একটি সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুন আশায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করেছেন বরিশাল নগরীর সর্বস্তরের মানুষ। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও প্রভাতী অনুষ্ঠানসহ নানা বর্ণিল আয়োজন ছিল নগরজুড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বরিশাল নাটকের আয়োজনে নগরের বিএম স্কুল মাঠে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রভাতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোর থেকেই অভিভাবকেরা সন্তানদের নিয়ে নানা রঙের পোশাকে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন।

‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

ঢাকের তালে প্রজন্মের মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রবীণ ও শিশুরা একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা বরিশালের আয়োজনে বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের হয়। এটি নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে খেলাঘর আসরের বৈশাখী উৎসব মঞ্চে নতুন প্রজন্মের হাতে বাংলাদেশের প্রতীক জাতীয় পতাকা তুলে দেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়। রঙিন মুখোশ, মুকুট, টোপর, তালপাখা, টিয়া পাখি ও টাট্টু ঘোড়াসহ গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান এতে স্থান পায়। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। নববর্ষ উপলক্ষে বিএম স্কুল মাঠে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

নববর্ষের প্রভাতী অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় আগতরা বলেন, পুরোনো সব কিছু ভুলে গিয়ে নতুন কিছুর প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। সবাই মিলে আগামীতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এদিকে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে খেলাঘর জেলা কমিটির আয়োজনে বৈশাখী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বলেন, পুরোনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি ও শোককে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর বয়ে আনবে নতুন আশা, পুনর্জাগরণ ও ঐক্যের বার্তা। তাই পুরোনো সব গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে নতুনভাবে গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আরেকটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। উৎসবকে ঘিরে নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সবুজ/রিফাত/

সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

‘কণ্ঠ মেলাও সুর ও তানে, বিশ্ব জাগুক গানে গানে’- এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজধানীজুড়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের ঐকতানে মেতে উঠেছিলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন।

সোমবার (২২ জুন) শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এই সংগীত উৎসব।

গত রবিবার থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গত দুদিন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিলো মুখরিত। আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশের জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উঠে এসেছে সংগীতের অসীম শক্তির কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

সংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও অধিকারের সংগ্রামে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমাদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে একটি সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’

সমাপনী সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্পীদের নজরুলের গানের সমবেত পরিবেশনা ছাড়াও অংশ নেন, সুকণ্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, পিন্টু ঘোষসহ একঝাঁক শিল্পী। হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সর্বশেষ ব্যান্ড সংগীতের মূর্ছনায় উৎসবের ইতি টানে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস। 

সোমবার বিকেল ৪টায় কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীদের দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

এ পর্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল। প্রধান অতিথি ছিলেন, লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

পরে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বাঁশুরিয়া লোকসংগীত গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র, সুর নন্দন, মহীরুহ, সপ্তরেখা শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, একক সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩২ এএম
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে
ছবি: সংগৃহীত।

সুফিয়া কামাল তার জীবনযাপন ও ধারণের মধ্য দিয়ে নারীবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাক্স্বানতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তার ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে। বাংলাদেশকে যারা ভালোবাসেন, তারা সবাই এই কবির দ্বারা প্রভাবিত।

প্রখ্যাত কবি, নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক খুশী কবির।

 রবিবার (২১ জুন) বিকেলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও সাঁঝের মায়া ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কবির বাড়ি ’সাঁঝের মায়া’প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবির ১১৫তম জন্মবার্ষিকী ছিল ২০ জুন শনিবার।

এমএসএফের নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম, সংস্কৃতিকর্মী তৃষ্ণা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক কর্মী মো. জাহেদুল আলম হিটো, কবিকন্যা সাঈদা কামাল প্রমুখ। এতে বক্তারা সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। 

আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানট ও নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, সানবিমস স্কুলের শিক্ষক ফেরদৌস রহমান চন্দন এবং সুফিয়া কামাল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের শিক্ষক মাহবুবা সুলতানা লিমা। এ ছাড়া সুফিয়া কামালকে নিয়ে লেখা পাঠ করেন এমএসএফের কর্মী মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একই সংগঠনের কর্মী তানিয়া খাতুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এসএন

সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা
ছবি: খবরের কাগজ

আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর অঝোর ধারার বৃষ্টিও যেন হার মানল সুর-মূর্ছনার আবেশের কাছে।

 রবিাবর (২১ জুন) ছিল বিশ্ব সংগীত দিবস। আর এই দিনটিকে ঘিরে রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গন সেজেছিল গানের আয়োজনে।

সংগীতের সর্বজনীন আহ্বানে এদিন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে বসেছিল সুরের মেলা। দুই প্রান্তের আয়োজনেই ছিল ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি, শোভাযাত্রা আর চিরায়ত গানের সুর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে আষাঢ়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সংগীতপ্রেমীদের ঢল নামে সেগুনবাগিচায়। গতকাল রবিবার বিকেলে সংগীত ও নৃত্যকলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় নাট্যশালায় পৌঁছালে উৎসবের আমেজ পায় পূর্ণতা।

জাতীয় নাট্যশালার লবিতে পিয়ানোর সুরের মূর্ছনায় যখন রবীন্দ্রনাথের ‘আগুনের পরশমনি’ বা নজরুলের ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। সন্ধ্যায় মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, ‘সংগীত সীমানা মানে না, এটি মানুষের মনের ভাষা।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীদের অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পার্থ মজুমদারের পরিচালনায় ‘তুমি নির্মল করো’ বা ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে। আগুন, মেহরীন, ফাহমিদা নবীসহ একঝাঁক তারকা শিল্পীর কণ্ঠ এবং বিদেশি দূতাবাসের শিল্পীদের পরিবেশনায় তৈরি হয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

একই দিনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সংগীত উৎসব। রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে সুরের ধারার শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাচিক শিল্পী আশরাফুল আলম। বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা শেষে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব সংগীতের তুলনায় আমাদের লোকসংগীতই শ্রেষ্ঠ। এই সংগীতের মাধ্যমেই আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে হবে।’

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান নতুন প্রজন্মের প্রতি শুদ্ধ সংগীত চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় গান। সংগীতকে শুধু কণ্ঠে নয়, আত্মস্থ করতে হয়।’ সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা দলীয় এবং একক সংগীত পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন মিলনায়তন। স্পন্দন, সুরের ধারা, নিবেদন, গীতশতদল, উদীচীর মতো সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলা সংগীতের বিচিত্র ধারা।

শিল্পকলা একাডেমি এবং কচি-কাঁচার মেলা–উভয় প্রান্তের আয়োজন চলবে দুই দিন ধরে। আজ দ্বিতীয় দিন উৎসবে যুক্ত হবে আরও নতুন পরিবেশনা।

সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামাল এবং কবি-গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সমাজভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী সেমিনার।

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে পর্যায়ক্রমে দুই সাহিত্য ব্যক্তিত্বের জীবন, কর্ম ও সাহিত্যিক অবদান নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম দিনের সেমিনারে ‘সুফিয়া কামালের কবিতা: বিষয় ও অনুভবের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাত আরা সোহেলী। এছাড়া ‘বিপন্ন প্রকৃতির বিষণ্ন নারী: সুফিয়া কামালের কবিতায় পরিবেশ-নারীবাদী অনুষঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানজীদা মাসুদ।

আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে কবি ও গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম, সংগীতচর্চা এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও সাহিত্যবোদ্ধারা অংশ নেবেন।

১ম দিনের সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুবুল হক। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির গবেষক মাহবুবা রহমান।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুল্লাহিল গালিব। এছাড়াও সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুফিয়া কামালের জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল নিজে শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং অন্যদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন। নারীশিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, “সুফিয়া কামালের মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব সে সময়ে কাজ না করলে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত।”

উপাচার্য আরও বলেন, সমাজের নানা ক্ষেত্রে এখনও নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে সম্পদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

সুফিয়া কামালের মানবতাবাদী দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি শুধু নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন না; মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও প্রগতিশীল চিন্তার এক উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

এসএন/

জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, আখাউড়া থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০১:২০ পিএম
জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, আখাউড়া থানায় অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানায় জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (২১ জুন) রাতে আখাউড়া থানায় এ অভিযোগ করেন পলাশ মিয়া।

তিনি নিজেকে আখাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘Sabidul Islam Siam’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশ্লীল, আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর পলাশ মিয়া ফেসবুকে গিয়ে পোস্টটি দেখেন এবং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই মন্তব্যের মাধ্যমে জাইমা রহমানের মানহানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জুটন/এএফ