ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় খবরের কাগজে প্রতিদিন ৪ পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজন কাজের আশায় রাশিয়ায়, প্রাণ গেল ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১১ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর: সেমিনারে বক্তারা জুলাই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জন নিহত মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু আইফোনের ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এয়ারপডসে হাংচৌতে চায়না এআই উদ্যোক্তা সম্মেলন শুরু রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম ইসাক-গাইকোরেস রসায়নে মুগ্ধ কোচ পটার মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান বাজেট কি শিশুবান্ধব ও শিশুর খাতে দৃশ্যমান? পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ হল ছাড়লেন জাকসুর জিএস, সময় চাইলেন ভিপি হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র আমরা সব ইরানির জন্য খেলি: তারেমি কালীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে মুখোমুখি বিএনপির দুই গ্রুপ ক্যারিয়ার গড়ুন সীমান্ত ব্যাংকে ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার
Nagad desktop

শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্যানভাস যেন এক নীরব ভাষা, যেখানে তুলির আঁচড়ে জমে ওঠে অস্ফুট অব্যক্ত কথা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, মানুষের চোখের জলছবি আর রাজপথের সংগ্রামী মানুষদের নীরব মর্যাদার মিশেলে তৈরি এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা এখন ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় তিনটি ভিন্ন ধারার প্রতিভাবান শিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’। শিল্পীর মন ও ক্যানভাসের মধ্যকার এই যে নিবিড় সংযোগ, তা যেন আজ এক মূর্ত রূপ পেয়েছে শিল্পানুরাগীদের সামনে। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সাইদুল হক জুইস, রশীদ আমিন এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আনিস। 

স্মৃতির অতল থেকে উঠে আসা পরিচয়, প্রকৃতির সাথে মানবিক বন্ধন আর নগরের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো এখানে একে অপরের সাথে সংলাপে মগ্ন।

নীহারিকা অহনা বারসাত দর্শকদের নিয়ে গেছেন এক স্বপ্নিল কাব্যিক জগতে। তার জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকের বহুস্তরবিশিষ্ট কাজগুলোতে বৃক্ষ, পাখি ও নারীমূর্তির পুনরাবৃত্তি যেন এক প্রকার আরোগ্যের মন্ত্র উচ্চারণ করে। প্রকৃতিকে তিনি কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং আত্মরূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্টো পিঠেই আবার সুরভী আক্তারের শিল্পভাষায় ধরা দিয়েছে মানবিকতার সূক্ষ্ম রেখা। এই শিল্পী ব্রাউন পেপারের ধূসর জমিনে লাল বলপয়েন্ট কলমের আঁচড়ে মানুষের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে তার প্রতিকৃতিগুলো দর্শককে থমকে দাঁড়াতে এবং দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরব কথাগুলো শুনতে আহ্বান জানায়।

নগরজীবনের না বলা আখ্যানকে মলাটবন্দি করেছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। ঢাকার রাজপথ, রিকশাচালকদের ঘামভেজা শরীর আর প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামগুলোকে তিনি জলরঙের মায়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন। সমাজের জনপরিসরে যারা প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলিতে তারাই হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ।

সামগ্রিকভাবে ‘ত্রিবন্ধন’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের এক নান্দনিক উদযাপন। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা
ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মের ধুলোবালি আর তপ্ত রোদকে বিদায় জানিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে আজ সোমবার পা রাখল রূপসী বর্ষা। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। মেঘের গুরুগুরু ডাক আর রিনিঝিনি বৃষ্টির নূপুর নিক্কনে সেজে উঠেছে চারপাশ।

কোথাও টানা বৃষ্টিতে জলজট আর দুর্ভোগের চেনা ছবি, আবার কোথাও পলিবাহিত ঘোলা জলে উর্বর হয়ে উঠছে নদীমাতৃক এই দেশের মাটি, জাগছে নতুন প্রাণ। ধুলোমলিন বৃক্ষরাজি ফিরে পেয়েছে নবজীবন, খাল-বিল আর নদী মেতে উঠেছে নতুন জলের কলতানে।

মেঘে মেঘে আষাঢ় এল: আবহাওয়া বার্তা
আষাঢ়ের প্রথম দিনেই দেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকবে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। তবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, আজ ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ময়মনসিংহে (১০৪ মিলিমিটার) এবং রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩৫ মিলিমিটার। আষাঢ়ের আগমনে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

দুর্ভোগ বনাম স্বস্তি: রাজধানীবাসীর মিশ্র অনুভূতি
যান্ত্রিক শহর ঢাকার বুকে বর্ষা বরাবরই এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে হাজির হয়। গতকাল সকালে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ইট-কাঠের নগরে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা নেমে আসে। তবে কর্মব্যস্ত দিনের শুরুতে এই বৃষ্টিই আবার ডেকে এনেছে চিরচেনা দুর্ভোগ। ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে সাময়িক জলজট। কয়দিন ধরে অফিসগামী যাত্রী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের গণপরিবহনের জন্য বেগ পেতে হয়, গুনতে হয়েছে বাড়তি রিকশা ভাড়া।

তবে শত দুর্ভোগের মাঝেও বর্ষার এই শীতল পরশ স্বস্তি এনেছে রাজধানীবাসীর মনে। কাঠফাটা রোদের পর তপ্ত পিচঢালা পথ শান্ত হয়েছে। জানালার গ্রাস ছুঁয়ে যাওয়া বৃষ্টির ছাঁট আর কদম ফুলের ঘ্রাণে নাগরিক ব্যস্ততার মাঝেও একচিলতে রোমান্টিকতায় মেতেছেন অনেকেই।

সুর আর ছন্দে আষাঢ়কে বরণ: ঢাকায় বর্ষা উৎসব
নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততাকে একপাশে রেখে আজ আষাঢ়ের প্রথম সকাল থেকেই মেঘের এ ঋতুকে বরণ করে নিতে সুর, গান আর নৃত্যের ডালা সাজিয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।

আজ ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হবে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের বর্ষা উৎসব। ‘আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক, বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক’–এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার উৎসবের উদ্বোধন করবেন। বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে গান, আবৃত্তি ও আলোচনায় মেতে ওঠেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের ভেন্যু পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না পেয়ে তারা তাঁবু গেড়েছেন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের দক্ষিণ পাশের চত্বরে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় তরুণ শিল্পী মো. মিনহাজুল হাসান ইমনের কণ্ঠে ‘জয় জয়ন্তী’ রাগের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই উৎসব। জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতীকী এ দিন শিশু-কিশোরদের মাঝে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছের চারাও বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর বিচ্যুত অংশের সদস্যরাও বর্ষা উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে শুরু হবে এ আয়োজন। ওস্তাদ জাবীর ইমাম খান শাহীর ‘মিয়া কি মল্লার’ রাগের সুর মূর্ছনায় উৎসবের সূচনা হবে।  বিশিষ্ট শিল্পী অনিমা রায়, মাহমুদুল হাসান, আব্দুল ওয়াদুদের গান এবং কবি রহমান মুফিজের বর্ষাকথনে মুখরিত হবে এ উৎসব।

বিশ্বজুড়ে সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল আরও প্রাসঙ্গিক: মোস্তফা কামাল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
বিশ্বজুড়ে সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল আরও প্রাসঙ্গিক: মোস্তফা কামাল
রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে কৃষ্টিবন্ধন বাংলাদেশ আয়োজিত 'রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও গুণীজন সংবর্ধনা' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বজুড়ে মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চলমান সংকটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, এই দুই মানবিক কবির জন্ম না হলে বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ ঘটত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

'আমার সংস্কৃতি আমার পরিচয়' স্লোগানকে সামনে রেখে 'রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও গুণীজন সংবর্ধনা' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষ্টিবন্ধন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা কামাল বলেন, 'বর্তমানে পৃথিবীতে মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িকতার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দুই প্রধান কবির সাহিত্য ও দর্শন আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবসময় মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন। অন্যদিকে নজরুল সোচ্চার ছিলেন সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে সব ধর্মই মূলত মানবতার কথা বলে।'

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামালের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, 'উপমহাদেশের বুকে সাম্প্রদায়িকতার যে কুৎসিত চিত্র বারবার ফুটে উঠেছে, তা এই দুই কবি কখনোই সহ্য করতে পারেননি। নজরুল লিখে গেছেন 'মোরা একটি বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান'। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের এই আদর্শকে ধারণ করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।' 

এ অনুষ্ঠানে কৃষ্টিবন্ধন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিল্প ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন গুণীজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন/ছবি: খবরের কাগজ

জীবন ও ইতিহাসের নিপুণ চিত্রকর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ১৪ জুন। ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ লেখালেখির প্রতিটি পর্বে তিনি সৃজনশীলতার অপূর্ব স্বাক্ষর রেখেছেন।

সেলিনা হোসেন কেবল একজন লেখক নন, তিনি সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংকটের একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক ও ভাষ্যকার। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ তার লেখায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘যাপিত জীবন’, ‘নীল ময়ূরীর যৌবন’ বা ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’র মতো উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ৫০টিরও বেশি মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা সেলিনা হোসেনের রচনা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশসহ নানা বিদেশি ভাষায়।

দীর্ঘ সময় বাংলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই লেখক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে সম্মানিত হয়েছেন। বিদেশি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তার সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
দেশাত্মবোধক গানের কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা গানের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার কণ্ঠস্বর কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম, সেই বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে সংগীতের সুধায় সিক্ত করে  তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই কালজয়ী শিল্পীকে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগময় কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘আমি সবার প্রশংসায় আকুণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। তবে আমার একটিই অনুরোধ; আমরা যেন নিজেদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। আসুন, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি।’ 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাসাস-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী’ একটি মানদণ্ড
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। নতুন প্রজন্মের কোনো শিল্পী কেমন গাইলেন, তা যাচাই করতে গিয়ে আজও শ্রোতারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গায়কীর মানদণ্ডেই বিচার করেন। এটিই তার সার্থকতা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে সংগীতের প্রতিটি শাখাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গীতসন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
সম্মাননা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় উঠে আসে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কালজয়ী সব গান। স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসানসহ একঝাঁক শিল্পীর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’-এই দুটি গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্যানভাস যেন এক নীরব ভাষা, যেখানে তুলির আঁচড়ে জমে ওঠে অস্ফুট অব্যক্ত কথা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, মানুষের চোখের জলছবি আর রাজপথের সংগ্রামী মানুষদের নীরব মর্যাদার মিশেলে তৈরি এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা এখন ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় তিনটি ভিন্ন ধারার প্রতিভাবান শিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’। শিল্পীর মন ও ক্যানভাসের মধ্যকার এই যে নিবিড় সংযোগ, তা যেন আজ এক মূর্ত রূপ পেয়েছে শিল্পানুরাগীদের সামনে। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সাইদুল হক জুইস, রশীদ আমিন এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আনিস। 

স্মৃতির অতল থেকে উঠে আসা পরিচয়, প্রকৃতির সাথে মানবিক বন্ধন আর নগরের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো এখানে একে অপরের সাথে সংলাপে মগ্ন।

নীহারিকা অহনা বারসাত দর্শকদের নিয়ে গেছেন এক স্বপ্নিল কাব্যিক জগতে। তার জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকের বহুস্তরবিশিষ্ট কাজগুলোতে বৃক্ষ, পাখি ও নারীমূর্তির পুনরাবৃত্তি যেন এক প্রকার আরোগ্যের মন্ত্র উচ্চারণ করে। প্রকৃতিকে তিনি কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং আত্মরূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্টো পিঠেই আবার সুরভী আক্তারের শিল্পভাষায় ধরা দিয়েছে মানবিকতার সূক্ষ্ম রেখা। এই শিল্পী ব্রাউন পেপারের ধূসর জমিনে লাল বলপয়েন্ট কলমের আঁচড়ে মানুষের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে তার প্রতিকৃতিগুলো দর্শককে থমকে দাঁড়াতে এবং দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরব কথাগুলো শুনতে আহ্বান জানায়।

নগরজীবনের না বলা আখ্যানকে মলাটবন্দি করেছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। ঢাকার রাজপথ, রিকশাচালকদের ঘামভেজা শরীর আর প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামগুলোকে তিনি জলরঙের মায়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন। সমাজের জনপরিসরে যারা প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলিতে তারাই হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ।

সামগ্রিকভাবে ‘ত্রিবন্ধন’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের এক নান্দনিক উদযাপন। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/