জাপানের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী দামের ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) বাজারে প্রবেশ করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি ৩০ হাজার ডলারের কম দামের ইভি বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিগত কারণে সাশ্রয়ী ইভিটি দেখতে গ্রাহকদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাশ্রয়ী দামের ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। হোন্ডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তোশিহিরো মিবে মনে করেন, ভবিষ্যতে ৩০ হাজার ডলারের কম দামের ইভিগুলো বাজারের প্রধান প্রতিযোগী হয়ে উঠবে। এটি মাথায় রেখে হোন্ডা নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
সম্প্রতি জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিবে বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা ৩০ হাজার ডলারের কম দামের ইভি আনার কথা বিবেচনা করছি।’
তবে হোন্ডা এই সাশ্রয়ী মডেলটি বাজারে আনতে খুব একটা তাড়া দেখাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ইভি কেনার ওপর ৭ হাজার ৫০০ ডলারের ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিট বা কর ছাড় বাতিল করায় বাজারের গতি কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে ইভি কেনায় উৎসাহিত করে এমন অন্যান্য নীতিও বন্ধ করা হয়েছে।
হোন্ডার মতে, এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সাশ্রয়ী দামের ইভি বাজারে ছাড়ার জন্য তারা আরও কিছুটা সময় হাতে পাচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে প্রতিযোগিতায় নামার আগে তারা পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চায়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হোন্ডার একমাত্র সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ি ‘প্রোলগ’। এটি জেনারেল মোটরসের (জিএম) ‘আল্টিয়াম’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম জেনারেল মোটরসের নিজস্ব ইলেকট্রিক গাড়ি শেভ্রোলেট ইকুইনক্সেও ব্যবহৃত হয়েছে।
এদিকে হোন্ডা তাদের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড আকুরার গাড়ির লাইনআপে পরিবর্তন আনছে। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, তাদের ‘আকুরা জেডডিএক্স’ মডেলটি ২০২৬ সালের পর আর বাজারে থাকবে না। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন লাইনআপ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে হোন্ডা।
গত সপ্তাহে জাপান মোবিলিটি শোতে হোন্ডা তাদের সবচেয়ে ছোট ও সাশ্রয়ী ইভি ‘সিটি ওয়ান’-এর প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে। এটি মূলত জাপান, ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের বাজারের জন্য তৈরি। আগামী বছর এটি বাজারে আসার কথা থাকলেও, ‘সিটি ওয়ান’ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসবে না বলে জানিয়েছে হোন্ডা।