ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায়ের থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ দুই দফা কমে ৪৪৩২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে থাকবে ১৮০০০ পুলিশ মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স

মলাটের ভাঁজে জীবনের স্পন্দন

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
মলাটের ভাঁজে জীবনের স্পন্দন
ছবি: খবরের কাগজ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল প্রান্তরজুড়ে বিকেলের মিঠে রোদ ম্লান হয়ে আসছে। মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাইক থেকে ভেসে এল সতর্কবার্তা–‘আকাশের মুখ ভার, সন্ধ্যায় নামতে পারে বৃষ্টি। প্রকাশকরা যার যার স্টল ও প্যাভিলিয়নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।’ 

ঘোষণাটি শেষ হতে না হতেই মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হলো এক অন্যরকম ব্যস্ততা। অপ্রত্যাশিত বৃষ্টির হাত থেকে অমূল্য বইগুলোকে রক্ষা করতে তড়িঘড়ি করে ত্রিপল বের করলেন বিক্রয়কর্মীরা। স্টলের ওপরের অংশে নীল-কালো প্লাস্টিকের আবরণ টেনে দেওয়ার সময় সবার চোখেমুখে ছিল উৎকণ্ঠা। বই ভিজে যাওয়া মানেই তো অপূরণীয় ক্ষতি। তার ওপর বসন্তের দমকা হাওয়ায় ধুলোবালি উড়ে এসে নতুনের ঘ্রাণ মাখা বইগুলোর মলাট মলিন করে দিতে পারে, তাই সতর্কতার কোনো কমতি ছিল না।

তবে প্রকৃতির এই চোখরাঙানি দমাতে পারেনি মেলায় আসা অগণিত পাঠককে। বৃষ্টির শঙ্কা বা ধুলোবালির ওড়াউড়ি, সবকিছু উপেক্ষা করে গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে উঠেছিল মুক্ত আলোচনার ময়দান। মেলা এখন শেষ ভাগে, তাই ভিড়ও অন্য সময়ের চেয়ে ঢের বেশি।

কাঙ্ক্ষিত বইটি হাতে পেতে যেন তর সইছিল না অনেকের। ঘাসের ওপর বসে কেউ কেউ মেতেছেন নতুন বইয়ের পাঠে। স্টলের এক কোণে বা লিটল ম্যাগ চত্বরে দেখা গেল তরুণদের জটলা। সেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কোনো রাজনীতি বা অর্থনীতি নয়, বরং প্রিয় লেখকের ছোটগল্পের রহস্য কিংবা উপন্যাসের বুনন।

মেলার শেষ দিনগুলোতে উদ্যানজুড়ে এমন দৃশ্যে সত্যিই মন জুড়িয়ে যায়। একদিকে বৈরী প্রকৃতির মোকাবিলার প্রস্তুতি, অন্যদিকে পাঠকদের অকৃত্রিম বইপ্রেম, সব মিলিয়ে অমর একুশে বইমেলা যেন তার আপন মহিমায় ভাস্বর হয়ে ওঠে। ধুলো আর মেঘের লুকোচুরিতেও দিনশেষে জয় হলো সেই মলাটের গন্ধ আর শব্দের জাদুকরী শক্তির।

শেষবেলার আলোচিত বই
সরদার ফজলুল করিম কেবল একজন দার্শনিক বা অধ্যাপক নন, তিনি ছিলেন এ দেশের মননশীল ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার অন্যতম বাতিঘর। কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘সেই সে কাল: কিছু স্মৃতি কিছু কথা’ বইটি মূলত তার স্মৃতিকথা এবং বিভিন্ন সময়ের আলাপচারিতার সংকলন, যা পাঠককে এক অন্যরকম অতীতে নিয়ে যায়।

বরিশালে জন্ম নেওয়া এক মেধাবী তরুণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়ে ওঠা, কারাবরণ এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে এই বইয়ে। নাজমা জেসমিন চৌধুরী স্মারক বক্তৃতায় দেওয়া তার সেই আলোচিত ‘স্মৃতি কথা’র ওপর ভিত্তি করে এই সংকলনটি সাজানো।

কথাপ্রকাশ থেকে বইমেলার শেষভাগে এসেছে সুজন বড়ুয়ার ছোটগল্প সংকলন ‘স্বপ্ন মরীচিকা’। ওয়াসি আহমেদের উপন্যাস ‘কার্পাসমহল’। 

‘স্বপ্ন মরীচিকা’ বারোটি ছোটগল্পের একটি সুবিন্যস্ত সংকলন। বইটির ব্লার্ব থেকে জানা যায়, এটি নিছক কল্পিত গল্প নয়, বরং আমাদের চারপাশের চেনাজানা জীবনের গভীর প্রতিচ্ছবি। মানুষের জীবনের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি, উল্লাস আর বিষাদ–সব মিলিয়ে এক মিশ্র অনুভূতির বয়ান।

ওয়াসি আহমেদ তার মিতভাষীতা কিন্তু গভীর গদ্যের জন্য পরিচিত। ‘কার্পাসমহল’ উপন্যাসেও তিনি বিশদ পরিসরে পাহাড়ের প্রকৃতির পাশাপাশি মানুষের বিদীর্ণ আত্মার মহাকাব্য রচনা করেছেন। পাহাড়ের ঝরনা, জঙ্গল আর ধ্রুপদি পাহাড়ের গাম্ভীর্য তার লেখনিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। 

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এবং অভিনেতা-পরিচালক আবুল হায়াতের দীর্ঘদিনের শিল্প-সম্পর্কের ফসল ‘যুগলবন্দি’ বইমেলায় এনেছে অন্যপ্রকাশ। বইটি সাজানো হয়েছে রাবেয়া খাতুনের লেখা সাতটি ছোটগল্প এবং সেই গল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে আবুল হায়াতের তৈরি নাট্যরূপ বা চিত্রনাট্য দিয়ে। এই সংকলনের বিশেষ দিক হলো, এখানে পাঠক একই সঙ্গে মূল সাহিত্যকর্ম এবং সেটির দৃশ্যরূপটি (চিত্রনাট্য) দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। 

অর্থনীতিবিদ হওয়ার সুবাদে মানুষের জীবনের টানাপোড়েনগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন সেলিম জাহান। এর ছাপ তার গল্পগুলোতে স্পষ্ট। জাগৃতি থেকে প্রকাশিত ‘গল্প নাও তো হতে পারে’ সংকলনটি তার জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার নান্দনিক প্রতিফলন। তার গল্পগুলোতে জীবনের অতিসাধারণ মুহূর্তগুলোর অসাধারণ উপলব্ধি খুঁজে পাবেন পাঠক।

বিপ্লবী লায়লা খালেদ ১৯৬৯ সালে বিমান ছিনতাইয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘মাই পিপল শ্যাল লাইভ: দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ আ রেভ্যুলশনারি’ গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ ‘আমার যুদ্ধ আমার ফিলিস্তিন’ এবারের বইমেলায় এনেছে বাতিঘর, অনুবাদ করেছেন মিলটন মোল্লা।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত পিয়াস মজিদের ‘নির্বাচিত কবিতা’ গ্রন্থটি মূলত কবির দীর্ঘ কাব্যযাত্রার এক নিবিড় কোলাজ। বইটির ব্লার্বে বলা হয়েছে, তিনি কবিতার ছলে নিজেকে জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন, অথবা হয়তো নিজেকে নিজেই ভেঙে টুকরো করেন। এই যে ভাঙা-গড়ার খেলা, এটাই পিয়াসের কবিতার মূল সুর।

জাভেদ আখতার মূলত বলিউডি সিনেমার কালজয়ী চিত্রনাট্যকার বা গীতিকার হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও তার সত্তার গভীরে বসবাস করেন একজন সংবেদনশীল কবি। তিনি অত্যন্ত সহজ শব্দ ব্যবহার করে মানুষের মনের জটিল অনুভূতি, আধুনিক জীবনের টানাপোড়েন এবং প্রগতিশীল চিন্তাকে ফুটিয়ে তোলেন। উর্দু কবিতার ভাব ও মাধুর্য বজায় রেখে জাভেদ আখতারের কবিতা অনুবাদ করেছেন শফিকুন্নবী সামাদী। বইটি বইমেলায় এনেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। 

তরুণ লেখক আবিদুল ইসলামের ‘সৌন্দর্যের ওপারে প্রতীক্ষমাণ অপচ্ছায়া’ বইমেলায় এনেছে বাঙালা গবেষণা। লেখক তার লেখাকে কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রায় ষাট হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে আধুনিক মানুষের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার যে ইতিহাস, তার সঙ্গে বর্তমান কালের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামকে একসূত্রে গেঁথে উপন্যাস লিখেছেন তিনি।

তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে

ডোঙা আগের মতোই গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে উবা কিশোরটিকে নিয়ে বড় বড় গাছে ঘেরা উঠানের মতো জায়গায় ফিরে আসে। তখন সেখানে নানা বয়সের কুড়ি-বাইশজন মেয়ে-ছেলে দেখে সে অবাক হয়। সবার বাঁ হাতে নারকেলের মালা। মালা থেকে ডান হাতে রক্ত নিয়ে নিজেদের মুখে মাখছে। এরা কি পশু শিকার করে ফিরেছে—সকলের হাতের মালায় তারই রক্ত? নাকি জঙ্গলে পথ-হারানো কোনো মানুষ শিকার করে তার রক্ত মাখছে? সকলের হাতে-মুখে রক্ত দেখে ভয়ে হিম হয়ে যায় কিশোর। হিম হওয়া থেকে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে তারই আমাজন জঙ্গলের বন্ধু উবা।
আমাজন জঙ্গল, উবা, বন্ধু! কেমন কেমন লাগছে না? এই কেমন কেমনের দেখা পাই আমরা ‘আমাজনের জঙ্গলে’ বইটিতে। অরণ্য-নদী-আরণ্য প্রকৃতি বিষয়ে ভালোবাসা সৃজনের বীজ শিশুমনেই রোপণ করতে হয়। তা করতে হয় গল্প বলে। বড়ই সহজ সে পন্থা; কিন্তু সহজ কাজটা করার মানুষ নেই। আর তা বুঝেই লেখক অমরেন্দ্র চক্রবর্তী লিখেছেন ‘আমাজনের জঙ্গলে’ বইটি। এই বইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের দুনিয়ার নির্মম সত্যও জানিয়ে দেন তিনি। আমাজনের অরণ্যসন্তানরা বোতোর আশ্রয়ে থাকে। গাছপালা-ফলমূলের বিষয়ে সব জানে তারা। ভারত থেকে ব্রাজিলে বেড়াতে আসা কিশোরটিও আদিবাসী কিশোর উবার কাছ থেকে ঘটনাচক্রে জানতে পারে সেসব। চিরহরিৎ এ জঙ্গলের প্রতি কিশোরটির প্রেম জেগে ওঠে ক্রমশ।  
চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড বিমানের টিকিট পায় এই বইয়ের কিশোর। সেই সূত্রে চাচার কাছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে পাড়ি জমায় সে। চাচার সঙ্গে আমাজনের জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে চিরহরিৎ ঘন অরণ্যে হারিয়ে যায় কিশোরটি। এরই মধ্যে সমবয়সি আদিবাসী কিশোর উবার সঙ্গে গড়ে ওঠে তার গভীর বন্ধুত্ব। উবার কাছ থেকে জঙ্গলের অধিবাসীদের জীবনযাত্রা, অরণ্য-উৎসব, নৌকা-উৎসব সম্পর্কে জানতে পারে সে।

এদিকে জঙ্গল যারা কেটে ফেলতে চায়, তারা একদিন হেলিকপ্টারে এসে জোর করে কিশোরটিকে ধরে নিয়ে যায়। কিশোরটি কি পারবে কলকাতায় তার মা-বাবার কাছে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়তে হবে ‘আমাজনের জঙ্গলে’ বইটি। বিখ্যাত সাহিত্যিক অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর লেখা এই বই প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। আর সবুজ সবুজ চোখজুড়ানো অলংকরণ করেছেন শিল্পী হিরন্ময় চন্দ। সংগ্রহ করে পড়ে ফেলো ‘আমাজনের জঙ্গলে’, আর হারিয়ে যাও আমাজনের গভীর জঙ্গলে।

ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে চৈতন্য প্রকাশনের প্রকাশকের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট অঞ্চলের প্রতিবেশী ও সিলেটভাষী হিসেবে ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে বইমেলার আয়োজন এবং সিলেটের বইমেলায় ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে সিলেটে প্রকাশকদের আট দিনব্যাপী বইমেলার প্রেক্ষিতে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে দুই বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে আয়োজিত বিভিন্ন বইমেলায় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের প্রকাশকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। 

পাশাপাশি সিলেটের বইমেলা ও সাহিত্য আয়োজনগুলোতে ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

প্রকাশক রাজীব চৌধুরী বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সেতুবন্ধন। সীমান্ত ও ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বই, ভাষা ও চিন্তার আদান-প্রদান দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের লেখক, পাঠক, গবেষক ও প্রকাশকরা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন পাঠকগোষ্ঠী এবং বিস্তৃত সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোর মধ্যে সাহিত্যিক মেলবন্ধন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গত ১০ মে থেকে আট দিনব্যাপী বইমেলা চলছে। প্রকাশক পরিষদ সিলেট আয়োজিত এই মেলাটি চলবে ১৮ মে পর্যন্ত। 

বইমেলার আয়োজন করতে গিয়ে বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার আমলেও একই রকম বাধার মুখে পড়ে বইমেলা বাতিল করা হয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশ অনুমতি দিলে বইমেলা শুরু হয়।

প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব খবরের কাগজকে বলেন, সিলেট বইমেলা সফলভাবে সম্পন্নের পর বহির্বিশ্বে সিলেট বইমেলার আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রকাশক পরিষদের। ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাতে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছি।

অমিয়/

আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট
প্রকাশক পরিষদ সিলেটের আয়োজনে গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে আট দিনের বইমেলা। গতকাল সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে পাঠকদের ভিড় দেখা যায়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে তোলা। ছববরের কাগজ

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আবারও বইমেলার ধারায় ফিরেছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে ছিল বাধা, পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এলেও সেই প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে আবারও বইমেলার আয়োজনে ফিরেছে নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

গত রবিবার বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মুক্তমঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আট দিনব্যাপী বইমেলা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি নাজমুল হক নাজুর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমরা সব সময় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করি। এতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে আমরা ব্যথিত হই। সিলেটে বইমেলার আয়োজন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আশা করি, এই বইমেলা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সিটি করপোরেশন সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

বইমেলার প্রথম আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারা প্রায় এক দশকের পুরোনো। টিলাভূমির আদলে উঁচুতে নির্মিত শহিদ স্মারকস্তম্ভ ও মাঝখানে রক্তিম সূর্যের নকশায় পুনর্নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধনের পর থেকেই নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে একদল বইপ্রেমী তরুণ সেখানে প্রথম বইমেলার আয়োজন করেন। একটি পাঠক সংগঠনের উদ্যোগে তিন দিনের ছোট পরিসরের সেই আয়োজন পরের বছর ২০১৬ সালে আরও বিস্তৃত হয়। এরপর থেকেই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সাহিত্য-সংস্কৃতিজনের মিলনমেলা।

শহিদ মিনারে প্রথম বইমেলার পৃষ্ঠপোষক ছিল সিলেট মডেল লাইব্রেরি। পরে যুক্ত হয় সিটি করপোরেশন। প্রথম বইমেলার অন্যতম সংগঠক মোমেন মিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সিলেট মডেল লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দেশেই আছেন।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সেই আয়োজনের পর যতবার বইমেলা হয়েছে, ততবারই গর্ববোধ করেছি। কারণ বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজনের শুরুতে আমারও অংশগ্রহণ ছিল।’

করোনাকালেও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি। তবে বইমেলার পরিসর বড় করতে প্রকাশক পরিষদ উদ্যোগী হলে একটি মহল নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলকে কেন্দ্র করে প্রকাশক পরিষদকে বইমেলার আয়োজন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। গত দুই বছর দফায় দফায় উদ্যোগ নিয়েও বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি নির্বাচিত সরকার আমলেও অনুমতি দিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছিল। অবশেষে পুনরায় অনুমতি মেলায় গত ১০ মে থেকে শুরু হয় বইমেলা।

প্রকাশনা জগৎ পুরোনো হলেও সিলেটে প্রকাশকদের সাংগঠনিক যাত্রা নতুন। ২০২৩ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকাশক পরিষদ সিলেট। এবারের বইমেলায় অংশ নেওয়া সদস্যভুক্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দোআঁশ, মাছরাঙা, নাগরী, পাপড়ি, গ্রন্থকুটির, ঘাস, দ্যু, গাঙুর, চৈতন্য, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন, চিলেকোঠা, কালান্তর, স্বরবর্ণ, গ্রন্থিক, নোভা, স্বপ্ন ৭১, পাণ্ডুলিপি ও বুনন।

আগামী ১৮ মে পর্যন্ত চলবে বইমেলা। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান জানান, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলাকালে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল সংগীত পরিবেশনা ও নতুন বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা।

কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?
লাল কাঁকড়ার বাড়ি

ভোরের সূর্য উঁকি দিতেই ঘুম ভাঙে ছোট্ট লাল কাঁকড়ার। ঝুঁটি করা শিং দুটো আহ্লাদে নাড়ায়। ওর নাম সান্দ্রা।
মায়ের দিকে তাকায় সে। গভীর ঘুমে মা-বাবা। শব্দ না করে আস্তে আস্তে গর্ত থেকে মাথা বের করতেই মা ঘুমজড়ানো গলায় বলেন,
‘সান্দ্রা, বেশিদূর যেও না। আশেপাশেই থাকবে। আজকাল সৈকতে মানুষের খুব আনাগোনা বেড়েছে।’
আচ্ছা, সে যে বাইরে যাবে—এটা মা কীভাবে বুঝল?
মায়েরা তো সবই বুঝে যায়!
বেশি দূর না যাওয়ার অঙ্গীকার করে গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়ে সান্দ্রা। তাকে দেখেই পিলপিল করে ছুটে আসে মারি—সান্দ্রার বন্ধু। আট পায়ের ছাপে বালুর ওপর আঁকে যেন আলপনা। পিলপিল করে দৌড়ায় তারা, খিলখিল করে হাসে। তাদের হাসিতে দুলে ওঠে ঝাউবন।
এরপর? শেষ হয়ে যায় খেলা। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা লাবি আর শ্রেয়ের বাবার ঝুড়িতে ধরা পড়ে সান্দ্রা।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছ—সান্দ্রা একটি কাঁকড়া। লাল কাঁকড়া। মায়ের কথা না শুনে সৈকতে চলে এসেছিল সে, আর ধরা পড়ে মানুষের হাতে। তবে জানো কী? সেই মানুষ—শ্রেয় ও লাবিদের পরিবার—খুব ভালো। তাই তারা সান্দ্রাকে আবার ছেড়ে দেয়।
আসলে মানুষ কাঁকড়া ধরে খাওয়ার জন্য। তাই কাঁকড়ারা মানুষকে ভয় পায়, তাদের থেকে লুকিয়ে থাকে। কাঁকড়া সান্দ্রা, তার পরিবার আর লাবি-শ্রেয়দের পরিবারকে নিয়ে চমৎকার এক গল্প লিখেছেন লেখক আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তোমরা হয়তো বালিতে কাঁকড়াদের নানান নকশা করতে দেখেছ। আট পায়ের এই সুন্দর প্রাণীটিকে দেখে চমকিত হয়েছ। বাবা-মায়ের সঙ্গে মজা করে খেয়েছ কাঁকড়া ফ্রাইও। কিন্তু এই ছোট্ট প্রাণীটিকে নিয়ে কখনো ভেবেছ কি?
মানুষ দেখলে কেন ভয়ে বালির গর্তে লুকিয়ে পড়ে কাঁকড়ারা? কেন মানুষ তাদের ধরে নিয়ে খায়? মানুষ আর প্রকৃতি কি বন্ধু হতে পারে না?—এমন প্রশ্নগুলোই ভেবেছেন আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
এসব ভাবনা নিয়েই তিনি লিখেছেন শিশুতোষ গল্পের বই ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’।
বইটিতে দেখা যায়, ছোট্ট লাল কাঁকড়া সান্দ্রা ধরা পড়ে শ্রেয়দের হাতে। পরে নানা বুদ্ধি করে সে আবার ফিরে আসে সৈকতে। লাবি-শ্রেয়ের বাবা তাকে সাহায্য করেন। তারা বুঝতে পারেন, এভাবে কাঁকড়া ধরা ঠিক নয়। প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীরাও একে অন্যকে সাহায্য করে—যেমনটি আমরা টিকটিকি ও মশার ক্ষেত্রে বইটিতে দেখি।
শিশুমনে প্রকৃতির প্রতি মায়া জাগাতেই এই গল্প লেখা। গল্পটি চমৎকার আঙ্গিকে বই আকারে প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। এর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন তাপস সরকার।
তোমাদের যাদের বয়স দশ বা তার বেশি, তারা পড়ে ফেলতে পারো ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’ বইটি। আর হারিয়ে যেতে পারো সান্দ্রার রঙিন জগতে।

মেলার মুখ এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক
দীপংকর দাশ

এবারের একুশে বইমেলা যেন একধরনের দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার আবহে পথচলা শুরু করেছিল। বইমেলা নিয়ে নানা শঙ্কা-সংশয়ের কারণে লেখক, প্রকাশক–কেউই খুব একটা প্রস্তুত হতে পারেননি। এমনকি আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলা একাডেমির প্রস্তুতিতেও ঘাটতি চোখে পড়েছে বলে অনেকেই মনে করেছেন। তবু সব অনিশ্চয়তার মাঝে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তবে এই শঙ্কার কারণে পাঠকরাও বিভ্রান্ত হয়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিশেষ দিনগুলোতে পাঠকরা অনেকে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে গেছেন। সার্বিকভাবে এবারের মেলায় পাঠকের উপস্থিতি কম, বিক্রিও আশাব্যঞ্জক নয়। এ ছাড়া মেলার শেষ দিকে হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রকাশকরা অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ধাক্কা খেলেন। অনেকের পক্ষে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোই কষ্টকর হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে ভালো বই কেনা, স্কুল-কলেজে বই পড়া উৎসাহিত করা, পাঠাগারগুলোর কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নিয়মিত বইমেলার আয়োজন করা–এ রকম নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বই পড়ার সংস্কৃতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আগামী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

রয়্যালটি নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু অভিযোগ শোনা যায়। তবে অনেক সময় যেসব বই খুব বেশি বিক্রি হয় না কিংবা যেসব বই লেখক নিজ খরচে প্রকাশ করেন, সেসব ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ বেশি ওঠে। তবে পেশাদার লেখকদের ক্ষেত্রে রয়্যালটি একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া। প্রকাশনা জগতে তা যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়। এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো–লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে স্পষ্ট চুক্তি থাকা। লিখিত চুক্তি থাকলে উভয় পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকে এবং ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ কমে যায়।

বাতিঘর প্রতিবছর বইমেলা শেষ হওয়ার পর পরই পরবর্তী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আমাদের চেষ্টা থাকে সারা বছরই নতুন বই প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার। পাঠকের রুচি ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ভালো মানের পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করা হয়। পাণ্ডুলিপি যাচাই, সম্পাদনা, প্রুফ সংশোধন এবং প্রকাশ উপযোগী করে তোলার প্রতিটি ধাপেই আমরা যত্নবান থাকার চেষ্টা করি।

তবু এটি সত্যি যে, বর্তমানে সত্যিকারের ভালো মানের লেখার বড় অভাব। নানা অনিশ্চয়তা ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এবারের বইমেলায় বাতিঘর ৪০টির মতো বই প্রকাশ করেছে। বাতিঘর প্রকাশনার পাশাপাশি যেহেতু পরিবেশকও, তাই আমরা চেষ্টা করি বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে। নিজস্ব কয়েকটি আউটলেটের মাধ্যমে আমরা সরাসরি পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও আমরা আউটলেট করেছি। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আমরা পাঠকের কাছে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছি।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যেসব পাঠক ও ক্রেতা বইমেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাঠকদের বলব, শুধু বইমেলাকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর বই কিনুন এবং প্রিয়জনদের উপহার দিন। 

দীপংকর দাশ: স্বত্বাধিকারী, বাতিঘর। অনুলিখন: মুসতাক মুকুল।