সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা পুনর্বহাল রায়ের প্রতিবাদে ও কোটা বাতিলের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ-সায়েন্সল্যাব-নিউমার্কেট-নীলক্ষেতে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
রবিবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত নীলক্ষেত-নিউমার্কেট-সায়েন্সল্যাব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারি-সারি যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে বন্ধ রয়েছেযান চলাচল। এদিকে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে শাহবাগ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিকেল সোয়া ৩টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবরোধ করেনশিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, বেগম রোকেয়া হল, সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হল, বিজয় একাত্তর হল, কবি জসীম উদ্দিন হল, এ এফ রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে শাহবাগ অবরোধের ১০ মিনিট যেতে না যেতে ৪টা ৫ মিনিটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় দখল করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা জাতীয় পতাকা উড়াতে থাকেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুন আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা প্রথা বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
অন্যদিকে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় এবং সায়েন্সল্যাব অবরোধ করে রেখেছে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। দেড়টা থেকে সায়েন্সল্যাব অবরোধ এবং তিনটা থেকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার (৬ জুলাই) একই দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। ঘণ্টা খানেক অবরোধ শেষে শাহবাগ ত্যাগ করেন তারা। গতকাল দেড় ঘণ্টার বিক্ষোভ মিছিল এবং আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শাহবাগ অবরোধ শেষে রবিবার থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ব্লকেড করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা এর নাম দেয় ‘বাংলা ব্লকেড’।
গত সোমববার (১ জুলাই) চার দফা দাবি ঘোষণা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে (সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে), সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরিফ জাওয়াদ/সালমান/