বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক হলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রবেশের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। এবার দাবি পূরণের আশ্বাসে দীর্ঘ ২৫ দিন পর ক্লাসে ফিরেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) ক্লাসে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ডাব্লিউআরইউ) বিভাগের এক শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবির ভিত্তিতে প্রশাসন ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ১০ সপ্তাহ সময় চেয়েছে। আমাদের দাবি ছিল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, পরীক্ষা শুরুর আগে তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নের আশ্বাস, বাতিলকৃত হলের সিটে বরাদ্দকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের আশ্বাসে শনিবার ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষার্থীরা।’
শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করা না হলে, আবার আন্দোলন শুরু করতে পারেন বলে জানায় তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে বুয়েটের হলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কতিপয় শিক্ষার্থী প্রবেশ করায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় হলের নিরাপত্তাহীনতা ও শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগে এনএমএ রশীদ হলের ৯ জন, সোহরাওয়ার্দী হলের ১৪ জন, তিতুমীর হলের ১৪ জন, কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৩ জন, শেরেবাংলা হলের ৩ জন, আহসান উল্লাহ হলের ১১ জনসহ সর্বমোট ৫৪ শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, ছাত্রলীগকে বুয়েটে পুনর্বাসনের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল অভিযুক্তরা।
এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের ৫০৩তম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে বুয়েট শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। পরবর্তী ৯ অক্টোবরে বুয়েটের সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় সিদ্ধান্ত হয় বুয়েটের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তা অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/