চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এর পরপরই যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সিএজে-৪২১ (কমপ্রিহেনসিভ কোর্স) এর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উড়োচিঠি দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেছিলেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। এই চিঠিতে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সব কোর্সের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, একজন শিক্ষক তার অনুগত শিক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন। এতে আজ অনুষ্ঠিত প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরে এই প্রশ্নপত্র নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন মজুমদার ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এনায়েত উল্যাহ পাটওয়ারী যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে আসেন। পরে আজকের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে গতকাল চিঠিতে দেওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পান। এরপর উপাচার্য পরীক্ষা স্থগিত করার আদেশ দেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এনায়েত উল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, ‘চিঠিতে কারও নাম ছিল না। যেহেতু অভিযোগ ছিল, তাই তারা সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অভিযোগে দেওয়া প্রশ্নপত্রের শতভাগ মিল পাই। পরে পরীক্ষা কমিটি এই পরীক্ষা স্থগিত করে দেন।’
উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ জরুরি সিন্ডিকেট ডাকা হয়েছে। বিকেল ৫টায় এই সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. আলী আজগর চৌধুরী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কম্পোজ করার সুবিধার্থে প্রশ্নটি গুগল ড্রাইভে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে এটি বেহাত হয়েছে বলে আশঙ্কা করছি। পরবর্তী পরীক্ষার সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর। এটিই ছিল এই বর্ষের শেষ পরীক্ষা।
মাহফুজ শুভ্র/মাহফুজ/