নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচারসহ ৬ দাবি জানিয়েছেন মাসুদের সহপাঠীরা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর পলাশীর মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শৌর্য দাস ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু ওবায়দা মায়ায।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে পূর্বাচল নীলা মার্কেটের সামনে ৩০০ ফিট রাস্তায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার এ লেভেলে পড়ুয়া ছেলে সাদমান মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে আমাদের এক ভাই, বুয়েট সিএসই ২০২১ ব্যাচ ও নজরুল হলের শিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদকে। এছাড়া মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন একই ব্যাচের আহসানউল্লা হলের শিক্ষার্থী অমিত সাহা এবং নজরুল হলের মেহেদি হাসান খাঁন। ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে আমরা অমিতের কাছ থেকে যা জানতে পেরেছি তা হলো, পুলিশের সংকেত পেয়ে তারা বাইক থামিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছিল। আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি যে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।’
তারা আরও বলেন, ‘আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের শোকে আমরা যখন হতবিহ্বল ঠিক তখনই আমরা জানতে পারি যে, অভিযুক্ত গাড়িচালকের পিতা একজন প্রভাবশালী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তার কারণে আমাদের এক ভাইয়ের যখন প্রাণ দিতে হলো, আমাদের আরও দুই ভাই যখন মারাত্মভাবে আহত, হাসপাতালের বিছানায় মারাত্মক যন্ত্রণায় কাতর, ঠিক তখন গাড়িচালকের ক্ষমতাশালী আত্মীয়রা মামলার মোড় ঘোরানোর, এমনকি মামলা যাতে না নেওয়া হয়, তার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত। অতীতেও আমরা দেখেছি যে অপরাধী যদি প্রভাবশালী হয়, তাহলে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে, ভিক্টিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, হুমকি-ধামকি দিয়ে, ভিক্টিমের পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। প্রাথমিকভাবে মামলা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব খাটায়, কিংবা আরও নানাভাবে ছাড় পেয়ে যায়। এটা আমরা কখনোই হতে দিতে পারিনা।’
এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন আবু ওবায়দা মায়ায। দাবিগুলো হলো- যে কোনো মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ, আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার অবশ্যই বিবাদী-পক্ষকে বহন, নিহত মাসুদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীপক্ষকে বাধ্য, তদন্ত কার্যক্রমে বাধাপ্রদানের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা, আহতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ব্যাপারে বুয়েট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আর কারো প্রাণ যেন না যায় এবং সড়কে নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়, সেই ব্যাপারে যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখতে সরকারের প্রতি দাবি।
এদিকে বাদ জুমা বুয়েট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মোহতাসিম মাসুদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত মোহতাসিন মাসুদ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানাধীন কুচিয়া এলাকার মাসুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় মাসুদ মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে গুরুতর আহত অপর দুই শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং অমিত সাহা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ/এমএ/