ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’ জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট ঢাকাসহ ১২ জেলায় রাত ১টার মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ বড় বাজেটের বড় প্রশ্ন সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনে মেতে উঠছে ঢাকা ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে সনি-স্মার্টের ‘গোল্ডেন গোল অফার’ শুরু প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস ‘ফেসবুক ফার্স্ট’ রতন শেখ চতুর্থবার সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার গণতন্ত্রমুখী বাজেট ও প্রত্যাশার সমীকরণ পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের জবাব সন্তোষজনক নয়, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ হাতে টর্চ-লাঠি ও বাঁশি নিয়ে রাতভর পাহারায় পঞ্চগড় সীমান্তের মানুষ ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনের গল্প পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সবাই নিহত ছয় দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দারিদ্র‍্য থেকে মুক্তি–পথের সন্ধানে পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের
Nagad desktop

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্যাম্পাস রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে দেখছেন?

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম
সাধারণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে দেখছেন?
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির একটি সোনালি ইতিহাস রয়েছে। তবে ’৭১-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি তৎপর ছিল। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্যাম্পাস রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর অন্যতম কারণ হলের সিট দখল, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, ক্যাম্পাসে ভিন্ন মতামতকে দমন-পীড়ন ইত্যাদি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জোরাল দাবি ওঠে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এর পক্ষে হয় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ-সমাবেশও। তবে সুষ্ঠু ধারার ক্যাম্পাস রাজনীতির পক্ষেও অনেক শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে দেশের ক্যাম্পাসগুলোয় বিভিন্ন দলের ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রমও দৃশ্যমান। ক্যাম্পাস ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব তুলে ধরতে আমাদের আজকের এ আয়োজন।

শাহরিয়ার আদনান প্রান্ত

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্ররাজনীতিসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সিন্ডিকেটের ৮৫তম (বিশেষ) সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়।

অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি এবং সিট দখলের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করে।

অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী এবং সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু রাজনৈতিক সংগঠন ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতো সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। এমনকি, কিছু সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীও এখন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কিছু শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, অন্যরা এর বিরোধিতা করছেন এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি স্পষ্ট যে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও সমাধানের প্রয়োজন।

ইমরান হোসাইন আদিব

প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্ররাজনীতিকে আমরা পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারি না। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে অনেকে অপছন্দ করতে পারে কিন্তু অস্বীকার না। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ছাত্ররাজনীতি একটা সাধারণ ও নিয়মিত বিষয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন দল, বিপক্ষ দল হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্ররাজনীতি চলে তবে সবার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।

বর্তমান সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। যার সিংহভাগই বিগত লম্বা একটা সময় ধরে এই সক্রিয়তার সুযোগ পায়নি। তাই সেই স্বাধীনতা পাওয়ার পর তাদের প্রধান ধ্যান ধারণা হওয়া উচিত নিজেদের কর্ম তৎপরতা, সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। তবে বর্তমান সময়ে এর উল্টো চিত্রও দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা প্রদর্শন ও দখলদারত্ব নিয়ে ছাত্র রাজনৈতিক সংঘটনগুলোর মাঝে একটা প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সবার মাঝে কেমন একটা ভারসাম্যহীনতা চোখে পড়ছে। মাঝে মধ্যে সংবাদপত্রের শিরোনামে দেখতে হয় অমুক সংঘটনের দলীয় ছাত্র কর্তৃক একজন আক্রমণের শিকার হচ্ছে, হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সামগ্রিক স্বার্থ না চিন্তা করে শুধু দলীয় ক্ষমতা প্রদর্শনের এই সংস্কৃতি বন্ধ না করতে পারলে ছাত্ররাজনীতি ও সংঘটনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা হারাবে।

মেহেদী হাসান রনি

রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর শিক্ষার্থীরা নতুন রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনে কাজ করছে, সেই সঙ্গে নতুন করে যেন আর কোনো রাজনৈতিক অপশক্তির প্রভাব ক্যাম্পাসে আর না পড়ে সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি ‘ডান, বাম, ইসলামী, বিপ্লবী, শাহবাগী কোনো ধরনের রাজনীতিই তারা রুয়েটে দেখতে চায় না’। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পুরোনো ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদেরকে যাতে শাস্তির আওতায় আনা যায় সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

নতুন মোড়কে কোনো ছাত্ররাজনীতির নামে কোনো অপশক্তি যেন রুয়েটে প্রবেশ না করতে পারে সে দিক থেকেও শিক্ষার্থীরা সচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। রুয়েট ক্যারিয়ার ফোরাম (আরসিএফ) এবং টেডএক্স রুয়েট কর্তৃক বিভিন্ন মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। নবীনদের মাঝে কোরআন বিতরণ এবং স্কুলভিত্তিক প্রোগ্রামিং কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

সর্বোপরি এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আবারও নতুনভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (রুয়েট) সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে একজন সুনাগরিক এবং সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে তৈরি করছে।

মাহফুজুর রহমান সাগর

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ, সব মিলিয়ে আমি মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। আমি মাঝে মধ্যে মনে করি যে, ক্যাম্পাসের রাজনীতি আমার একাডেমিক লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। এটি প্রায়ই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকে আমাকে বিভ্রান্ত করে এবং কখনও কখনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অনুভব করি।

ধর্মঘট, বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে যখন ক্লাস ব্যাহত হয়, তখন আমি হতাশ হই। মাঝে মাঝে মনে হয় ছাত্ররাজনীতি প্রকৃত সমস্যাগুলোর চেয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে বেশি মনোযোগী। তবে, ছাত্র অধিকার, উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতির অবদান আমি অস্বীকার করতে পারি না। যদিও এর পরিচালনা পদ্ধতি বা এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন ওঠে।

আমি মনে করি এটি সামাজিক পরিবর্তন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বৃহত্তর সামাজিক সমস্যাগুলোর প্রতিফলনের একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তবে, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং বহিরাগত রাজনৈতিক দলের প্রভাব আমাকে ছাত্রনেতাদের প্রতি অবিশ্বাসী করে তোলে। অনেক সময় ক্যাম্পাসের রাজনীতি আমার কাছে জাতীয় রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর একটি প্রতিফলন বলে মনে হয়, যা তৃণমূল সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্যকে ম্লান করে দেয়।

তবে, আমি ক্যাম্পাসের রাজনীতিকে একটি শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবেও দেখি। একটি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং ইস্যু-কেন্দ্রিক, সেটাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রায়হান ইমন

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৭১-এর পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বলতে আমরা দেখে এসেছি, ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির মহড়া, ক্ষমতাসীনদের টিকিয়ে রাখতে জোর করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধ্য করা, হলের ভয়ংকর গেস্ট রুম প্রথার, পদ বাণিজ্য, সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি, বিনা টাকায় খাওয়া, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদি কাজে জড়িয়ে পড়া।

২৪-এর পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে নতুন বাংলাদেশ ও ছাত্ররাজনীতির স্বপ্ন দেখছিল তাও বর্তমানে অনেকটা মলিন হওয়ার পথে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জুলাই আন্দোলন করা ছাত্র সংগঠনগুলো আজ নিজ দলীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান ও সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার সংবাদ এখনো শোনা যায়। এ ছাড়া সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারত্বসহ প্রভৃতি অভিযোগ এখনো রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো মনে তাদের আস্থা ছাত্ররাজনীতির ওপর ফিরে আনতে পারেনি। তারা মনে করে, ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসের পরিবেশে উত্তেজনা, সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করে এবং সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ের চেয়ে নিজ রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

তাই একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এটাই কাম্য থাকবে, ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলীয় ব্যানার বা তাদের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে, শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে কাজ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সব ছাত্রসংগঠনগুলোর একসঙ্গে কাজ করা।

সাব আ মাসানি

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২০২৪-এর রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের বিনিময়ে অর্জিত হওয়া মহান স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির গতি প্রকৃতি সম্পূর্ণরূপে পালটে গেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ছাত্রলীগের হল দখলদারত্ব, ছাত্রদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও বিরোধী মতের গলা চেপে ধরার অপরাজনীতির শেষে এখন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু রাজনীতির সুযোগ তৈরি হলেও কিছু শঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। বিগত স্বৈরাচারের রাজনৈতিক হিংস্রতার ফলে ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে রাজনীতির প্রতি যেই নেতিবাচক ধারণা ছিল, তা পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এখনো ছাত্ররাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের যেই আলোচনা উঠেছিল তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমর্থন দেখে আমি শঙ্কিত যে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতি বিমুখতা ভবিষ্যতে দেশে সুন্দর নেতৃত্বের শূন্যতা ও নতুন অপশাসনের জন্ম দেবে।

যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলার সূচনা হয়েছিল, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সংকট সমগ্র জাতির জন্য অশনিসংকেত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি জাতীয় রাজনীতির দর্পনস্বরূপ। ডাকসুভিত্তিক আদর্শিক প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির চর্চা শুধু ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদেরই নয়, বরং সারা দেশের সব স্তরের আপামর জনতার সার্বিক কল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

শাহরিয়ার অন্তর সরকার

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে, এতে শিক্ষার্থীরা অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিতে পড়ে। তাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস প্রশাসনের ওপর একক প্রভাব বিস্তার করে রাখে, যা ক্যাম্পাসের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেয়। ফলে প্রশাসনের কার্যক্রম পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া ছাত্ররাজনীতির নামে বিভিন্ন ধরনের অছাত্র, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলগুলোয় সিট দখল করে রাখা, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, দখলদারত্ব, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুল মূল্যবোধ তৈরি করে। ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসের বিভাজন তৈরি করে, একক শিক্ষার্থী সমাজ তৈরির পথে বাধা সৃষ্টি করে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কার্যক্ষেত্র হিসেবে নেয়। ভোট ব্যাংক তৈরির চেষ্টা করে।

‎ছাত্ররাজনীতি যখন শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে তখন সেটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যখন এটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতিয়ার হয়ে ওঠে তখন এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে ছাত্ররাজনীতি অপব্যবহারে ঝুঁকিতে থাকে।

‎সামগ্রিকভাবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ক্যাম্পাসের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, ছাত্র আন্দোলনের ধরন এবং সেগুলোর প্রভাবের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

হাসান

প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস
নিহত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা অবস্থায়ই গলায় ফাঁস নেয় সে।

​মাহফুজের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তার এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে আনুমানিক দুইটার দিকে তাদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মুঠোফোনে কল দিয়ে মাহফুজের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান,  মাহফুজুরের প্রায় ৪-৫ বছর ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় আর মাঝে যোগাযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি বলেন, মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

​তিনি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিহতের পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শাকিবুল হাসান/এসএন

 

জেডআরএফ‘র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের
বক্তব্য রাখছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এজন্য বৃক্ষরোপণকে এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবা এবং গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেডআরএফ- এর উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তা উঠে আসে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবো। সুন্দর নিবিড় সৌন্দর্যে নির্মল হবে এদেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহর। বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে হবে। গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে স্কুল পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায় সবুজ স্বেচ্ছাসেবা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানাবো বিজ্ঞানের অভিনব ইনোভেশনের মাধ্যমে আমাদের অনগ্রসর দেশটাকে নিশ্চয়ই সাহায্য করা যায়।’

বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এলক্ষ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এসময় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবাষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় জেডআরএফ- এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম
ছবি: খবরের কাগজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগ দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

আগামী ১৭-১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য 'ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন কোস্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি' শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩২৫ জন গবেষক অংশ নেবেন এবং ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।

সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, এবং উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সোমবার (৯ জুন) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, সিম্পোজিয়ামে একটি প্লেনারি সেশন, পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশন, একটি পোস্টার সেশন এবং একটি ওয়ার্কশপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্লেনারি সেশনের প্লেনারি স্পিকার হিসেবে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের 'ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন'-এর অধ্যাপক ড. ক্যারেন উইল্টশায়ার, যিনি জার্মানির বিশ্বখ্যাত আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের সাবেক ভাইস ডিরেক্টর।

এ ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তানের গবেষকরা এই সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন।

টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রা ও বিকল্প জীবিকা, সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, মেরিকালচার, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক দূষণ বিষয়ে মোট ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে- যার মধ্যে ৮০ টি ওরাল প্রেজেন্টেশন (মৌখিক উপস্থাপনা) ও বাকি ৩৫ টি পোস্টার আকারে উপস্থাপিত হবে।

ওয়ার্কশপে শাবিপ্রবির ওশেনোগ্রাফি বিভাগ কর্তৃক ডেভেলপকৃত লো-কস্ট ওশান মনিটরিং ডিভাইসটি প্রদর্শন ও বিতরণ করা হবে।

এই সেশনে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সিম্পোজিয়ামের পার্টনার হিসেবে রয়েছেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন এবং পার্টনারশিপ ফর অবজার্ভেশন অব গ্লোবাল ওশান (পোগো) ও তাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্যাজিটা প্রজেক্ট।

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে রয়েছেন জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজি, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়ালগ (সিপিআরডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।

ইসফাক আলী/খাদিজা রুমি/

একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে একদিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দুই অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্বে দায়িত্বে থাকা দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. আল-আমিনকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের স্থলে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলো সত্য।’ 

নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসে (আইএফইএসসিইউ) শিক্ষকতা করছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও বন অভিযোজন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গবেষক। তার ৩৪ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন।

অন্যদিকে, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তিনি সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগ দিচ্ছেন। তিনি চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব।’  তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাঈম/রিফাত/

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা আগামী ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল হাসানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিটুল চৌধুরীর সহযোগিতায় এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মরণ, ব্যাচভিত্তিক পরিচিতি ও স্মৃতিচারণ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা, র‍্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

আগ্রহী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।

নিবন্ধন করা যাবে gbcreunion.com ওয়েবসাইটে।

শেখ জাহাঙ্গীর/এসএন