বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির একটি সোনালি ইতিহাস রয়েছে। তবে ’৭১-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি তৎপর ছিল। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্যাম্পাস রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর অন্যতম কারণ হলের সিট দখল, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, ক্যাম্পাসে ভিন্ন মতামতকে দমন-পীড়ন ইত্যাদি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জোরাল দাবি ওঠে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এর পক্ষে হয় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ-সমাবেশও। তবে সুষ্ঠু ধারার ক্যাম্পাস রাজনীতির পক্ষেও অনেক শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে দেশের ক্যাম্পাসগুলোয় বিভিন্ন দলের ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রমও দৃশ্যমান। ক্যাম্পাস ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব তুলে ধরতে আমাদের আজকের এ আয়োজন।
শাহরিয়ার আদনান প্রান্ত
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্ররাজনীতিসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সিন্ডিকেটের ৮৫তম (বিশেষ) সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়।
অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি এবং সিট দখলের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করে।
অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী এবং সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু রাজনৈতিক সংগঠন ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতো সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। এমনকি, কিছু সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীও এখন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কিছু শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, অন্যরা এর বিরোধিতা করছেন এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি স্পষ্ট যে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও সমাধানের প্রয়োজন।
ইমরান হোসাইন আদিব
প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্ররাজনীতিকে আমরা পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারি না। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে অনেকে অপছন্দ করতে পারে কিন্তু অস্বীকার না। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ছাত্ররাজনীতি একটা সাধারণ ও নিয়মিত বিষয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন দল, বিপক্ষ দল হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্ররাজনীতি চলে তবে সবার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
বর্তমান সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। যার সিংহভাগই বিগত লম্বা একটা সময় ধরে এই সক্রিয়তার সুযোগ পায়নি। তাই সেই স্বাধীনতা পাওয়ার পর তাদের প্রধান ধ্যান ধারণা হওয়া উচিত নিজেদের কর্ম তৎপরতা, সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। তবে বর্তমান সময়ে এর উল্টো চিত্রও দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা প্রদর্শন ও দখলদারত্ব নিয়ে ছাত্র রাজনৈতিক সংঘটনগুলোর মাঝে একটা প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সবার মাঝে কেমন একটা ভারসাম্যহীনতা চোখে পড়ছে। মাঝে মধ্যে সংবাদপত্রের শিরোনামে দেখতে হয় অমুক সংঘটনের দলীয় ছাত্র কর্তৃক একজন আক্রমণের শিকার হচ্ছে, হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সামগ্রিক স্বার্থ না চিন্তা করে শুধু দলীয় ক্ষমতা প্রদর্শনের এই সংস্কৃতি বন্ধ না করতে পারলে ছাত্ররাজনীতি ও সংঘটনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা হারাবে।
মেহেদী হাসান রনি
রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর শিক্ষার্থীরা নতুন রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনে কাজ করছে, সেই সঙ্গে নতুন করে যেন আর কোনো রাজনৈতিক অপশক্তির প্রভাব ক্যাম্পাসে আর না পড়ে সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি ‘ডান, বাম, ইসলামী, বিপ্লবী, শাহবাগী কোনো ধরনের রাজনীতিই তারা রুয়েটে দেখতে চায় না’। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পুরোনো ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদেরকে যাতে শাস্তির আওতায় আনা যায় সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
নতুন মোড়কে কোনো ছাত্ররাজনীতির নামে কোনো অপশক্তি যেন রুয়েটে প্রবেশ না করতে পারে সে দিক থেকেও শিক্ষার্থীরা সচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। রুয়েট ক্যারিয়ার ফোরাম (আরসিএফ) এবং টেডএক্স রুয়েট কর্তৃক বিভিন্ন মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। নবীনদের মাঝে কোরআন বিতরণ এবং স্কুলভিত্তিক প্রোগ্রামিং কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।
সর্বোপরি এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আবারও নতুনভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (রুয়েট) সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে একজন সুনাগরিক এবং সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে তৈরি করছে।
মাহফুজুর রহমান সাগর
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ, সব মিলিয়ে আমি মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। আমি মাঝে মধ্যে মনে করি যে, ক্যাম্পাসের রাজনীতি আমার একাডেমিক লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। এটি প্রায়ই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকে আমাকে বিভ্রান্ত করে এবং কখনও কখনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অনুভব করি।
ধর্মঘট, বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে যখন ক্লাস ব্যাহত হয়, তখন আমি হতাশ হই। মাঝে মাঝে মনে হয় ছাত্ররাজনীতি প্রকৃত সমস্যাগুলোর চেয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে বেশি মনোযোগী। তবে, ছাত্র অধিকার, উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতির অবদান আমি অস্বীকার করতে পারি না। যদিও এর পরিচালনা পদ্ধতি বা এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন ওঠে।
আমি মনে করি এটি সামাজিক পরিবর্তন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বৃহত্তর সামাজিক সমস্যাগুলোর প্রতিফলনের একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তবে, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং বহিরাগত রাজনৈতিক দলের প্রভাব আমাকে ছাত্রনেতাদের প্রতি অবিশ্বাসী করে তোলে। অনেক সময় ক্যাম্পাসের রাজনীতি আমার কাছে জাতীয় রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর একটি প্রতিফলন বলে মনে হয়, যা তৃণমূল সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্যকে ম্লান করে দেয়।
তবে, আমি ক্যাম্পাসের রাজনীতিকে একটি শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবেও দেখি। একটি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং ইস্যু-কেন্দ্রিক, সেটাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রায়হান ইমন
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৭১-এর পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বলতে আমরা দেখে এসেছি, ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির মহড়া, ক্ষমতাসীনদের টিকিয়ে রাখতে জোর করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধ্য করা, হলের ভয়ংকর গেস্ট রুম প্রথার, পদ বাণিজ্য, সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি, বিনা টাকায় খাওয়া, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদি কাজে জড়িয়ে পড়া।
২৪-এর পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে নতুন বাংলাদেশ ও ছাত্ররাজনীতির স্বপ্ন দেখছিল তাও বর্তমানে অনেকটা মলিন হওয়ার পথে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জুলাই আন্দোলন করা ছাত্র সংগঠনগুলো আজ নিজ দলীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান ও সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার সংবাদ এখনো শোনা যায়। এ ছাড়া সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারত্বসহ প্রভৃতি অভিযোগ এখনো রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো মনে তাদের আস্থা ছাত্ররাজনীতির ওপর ফিরে আনতে পারেনি। তারা মনে করে, ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসের পরিবেশে উত্তেজনা, সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করে এবং সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ের চেয়ে নিজ রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
তাই একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এটাই কাম্য থাকবে, ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলীয় ব্যানার বা তাদের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে, শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে কাজ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সব ছাত্রসংগঠনগুলোর একসঙ্গে কাজ করা।
সাব আ মাসানি
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২০২৪-এর রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের বিনিময়ে অর্জিত হওয়া মহান স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির গতি প্রকৃতি সম্পূর্ণরূপে পালটে গেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ছাত্রলীগের হল দখলদারত্ব, ছাত্রদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও বিরোধী মতের গলা চেপে ধরার অপরাজনীতির শেষে এখন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু রাজনীতির সুযোগ তৈরি হলেও কিছু শঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। বিগত স্বৈরাচারের রাজনৈতিক হিংস্রতার ফলে ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে রাজনীতির প্রতি যেই নেতিবাচক ধারণা ছিল, তা পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এখনো ছাত্ররাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের যেই আলোচনা উঠেছিল তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমর্থন দেখে আমি শঙ্কিত যে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতি বিমুখতা ভবিষ্যতে দেশে সুন্দর নেতৃত্বের শূন্যতা ও নতুন অপশাসনের জন্ম দেবে।
যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলার সূচনা হয়েছিল, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সংকট সমগ্র জাতির জন্য অশনিসংকেত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি জাতীয় রাজনীতির দর্পনস্বরূপ। ডাকসুভিত্তিক আদর্শিক প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির চর্চা শুধু ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদেরই নয়, বরং সারা দেশের সব স্তরের আপামর জনতার সার্বিক কল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।
শাহরিয়ার অন্তর সরকার
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে, এতে শিক্ষার্থীরা অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিতে পড়ে। তাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস প্রশাসনের ওপর একক প্রভাব বিস্তার করে রাখে, যা ক্যাম্পাসের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেয়। ফলে প্রশাসনের কার্যক্রম পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া ছাত্ররাজনীতির নামে বিভিন্ন ধরনের অছাত্র, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলগুলোয় সিট দখল করে রাখা, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, দখলদারত্ব, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুল মূল্যবোধ তৈরি করে। ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসের বিভাজন তৈরি করে, একক শিক্ষার্থী সমাজ তৈরির পথে বাধা সৃষ্টি করে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কার্যক্ষেত্র হিসেবে নেয়। ভোট ব্যাংক তৈরির চেষ্টা করে।
ছাত্ররাজনীতি যখন শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে তখন সেটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যখন এটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতিয়ার হয়ে ওঠে তখন এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে ছাত্ররাজনীতি অপব্যবহারে ঝুঁকিতে থাকে।
সামগ্রিকভাবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ক্যাম্পাসের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, ছাত্র আন্দোলনের ধরন এবং সেগুলোর প্রভাবের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
হাসান