শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৬০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ও সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার, ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি এবং ২৭ জনকে সতর্ক করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে জানা যায়, বেশ কিছু শিক্ষার্থী বুয়েটের অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন করেছেন। এরপর তদন্ত কমিটি ৪১টি সভা করে।
সবাইকে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অর্ডিন্যান্সের কোন কোন ধারা কে কে লঙ্ঘন করেছেন, তার ভিত্তিতে উপাচার্যকে রিপোর্ট দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলে ডিসিপ্লিনারি কমিটি আরও সাতটি বৈঠক করে। সেখানে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়। গত রবিবার সবশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং গতকাল শাস্তিপ্রাপ্তদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ আরও বলেন, ‘৮ শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি এবং ২৭ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে ৪ থেকে ৬ সেমিস্টার/টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের সাজা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে এবং ৬ জনকে দুই সেমিস্টার/টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এই ৬ জনের বহিষ্কারাদেশ এখন স্থগিত আছে। যদি তারা ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করেন, তাহলে তাদের বহিষ্কার তখন থেকে কার্যকর হবে।’
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাস্তি পাওয়াদের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করায় তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে বুয়েটের সোহরাওয়ার্দী ও ড. এম এ রশিদ আবাসিক হলে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে উঠে এলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। এরপর কয়েক দফায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতে উত্তাল হয় বুয়েট।
ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের ৫০৩তম জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বুয়েট শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। তার ১১ দিনের মাথায় ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বুয়েটের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ।