বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক মিষ্টি আলুর উচ্চ ফলনশীল নতুন জাত ‘বাউ মিষ্টি আলু-৫’ উদ্ভাবন করেছেন। সারা বছরই চাষ-উপযোগী এই আলু ৯০ দিনে স্থানীয় জাতের চেয়ে তিনগুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। সাধারণ আলু প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ২৫ টন ফলন দিলেও, নতুন উদ্ভাবিত এই মিষ্টি আলু ৩০ টনের বেশি ফলন দেয়। প্রতি গাছে ২০০-৩০০ গ্রাম ওজনের ৬-৭টি আলু পাওয়া যায়।
বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আরিফ হাসান খানের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই মিষ্টি আলুর উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধী নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন।
উদ্ভাবিত এই মিষ্টি আলুর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে প্রধান গবেষক অধ্যাপক আরিফ হাসান বলেন, ‘এই আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও বিদ্যমান। এ ছাড়াও ভিটামিন বি, সি, কে, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং জিঙ্ক বিদ্যমান থাকায় অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন। অ্যান্থোসায়ানিন ও ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদানও আছে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী। কন্দে শুষ্ক পদার্থের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ। প্রতি ১০০ গ্রাম কন্দে ৭.৮ গ্রাম গ্লুকোজ, ০.১৫ মিলিগ্রাম ক্যারোটিনয়েড, ৩.৯ মিলিগ্রাম অ্যান্থোসায়ানিন এবং ১৫ মিলিগ্রাম ফ্যানোলিক উপাদান পাওয়া যায়।’
এ বছর ‘বাউ মিষ্টি আলু-৫’ চাষ করেছেন ময়মনসিংহ সদরের কৃষক হাসান। আলুর ফলন পেয়ে তিনি বেশ খুশি। তিনি জানান, স্থানীয় আলু চাষে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে দাম কম পাওয়ায় আলু চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে, এই জাতের আলু চাষ করে গড়ে প্রতি ১০ বর্গমিটারে ৩০ কেজি পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন। অন্যান্য স্থানীয় জাতের প্রতি গাছে ৭০০-৭৫০ গ্রাম আলু ধরলেও এই জাতের আলুতে ১২০০-১৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মিষ্টি আলুর গবেষণা দলের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মুন মোদক বলেন, ‘গোলাপি, বেগুনি ও কমলা এই তিনটি রঙে আলু নিয়ে গবেষণা করেছি। কমলা রঙের আলু গাজরের বিকল্প হিসেবে সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। বেগুনি রঙের গোল আলু পুড়িয়ে খেলে দারুণ স্বাদ পাওয়া যায়, বিশেষ করে পোড়ানোর পর এতে গ্লুকোজ ও সুগারের পরিমাণ বেড়ে যায়। সাধারণ গোলাপি রঙের আলুগুলো সবজি হিসেবে রান্না করা যায়। আবার পুড়িয়েও খাওয়া যায়।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় মিষ্টি আলুর চাষ হয়। উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি থেকেই যায়। তবে উদ্ভাবিত এই আলু নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। সারা বছর চাষ-উপযোগী হলেও রবি মৌসুমে (১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ) এর ফলন ভালো হয়। এই মৌসুমে ময়মনসিংহ, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও খুলনায় বাউ মিষ্টি আলু-৫-এর চারা সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানান প্রধান গবেষক অধ্যাপক আরিফ হাসান খান। আলু চাষ করে অধিক ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
/রিয়াজ