ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বহু মানুষের হৃদয়ে ছাপ রেখে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আয়োজনে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে প্রয়াত আরেফিন সিদ্দিকের স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আরেফিন সিদ্দিকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমে তিনি অনেক মানুষের মন জয় করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত পরামর্শক হিসেবে তিনি বহু মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক যে দায়িত্বগুলো পালন করেছেন, সেখানে সার্বক্ষণিক একটা মানসিক চাপ থাকে। সবসময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে তিনি যেভাবে পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলা করেছেন, তা খুব কম সংখ্যক মানুষই করতে পারেন।’
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের উদাহরণ টেনে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘এক দিন সিনেটে অধিবেশন হচ্ছে। আমরা তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, সিনেট বয়কট করব। উনি হাসতে হাসতে বললেন আসেন, বয়কট করবেন কেন? একসঙ্গে কাজ করি। তখন আমি জানালাম, আপনি যেভাবে কাজ করছেন সেভাবে চলতে পারে না। পরে তিনি মৃদু একটা হাসি দিয়ে বললেন, আসেন একসঙ্গে কাজ করতে পারি কিনা দেখেন। তারপর কাজ করলাম একসঙ্গে। তারপরও আমাদের পথ ভিন্ন, মত ভিন্ন, একসঙ্গে হতে পারলাম না। এর পর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা কাজে আসব, তবে ডিনার করব না। ডিনার করব না বলে আমরা চলে আসলাম। পরে তিনি আমাদের খবর পাঠান। এরপর বলেন, রাগ কইরেন না, চলে আসেন। আমাদের সঙ্গে আরেফিন সিদ্দিকের সম্পর্কটা এরকমই ছিল।’
আরেফিন সিদ্দিকের সহধর্মিণী মিরা সিদ্দিক বলেন, ‘উনার মুখে আমি কখনো কারও বদনাম শুনিনি। আমি বুঝতাম উনি কারও কারণে কষ্ট পাচ্ছেন, তবুও তিনি তার নাম বলতেন না। উনি সবসময় বলতেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ একজন ভালো মানুষ হওয়া।’
বিভাগের অধ্যাপক শামীম রেজা ও সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তি হায়দারের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের ছোট ভাই মো. আতিক উল্লাহ সিদ্দিক, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানসহ তার সহকর্মী, বিভাগীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইরা স্মৃতিচারণ করেন।
গত ৬ মার্চ ঢাকা ক্লাবে (রমনায়) গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার মধ্যেই পড়ে যান তিনি। এদিন বিকেলে মাথায় আঘাতজনিত কারণে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের নিউরো সায়েন্স ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে মৃত্যুর আগপর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১১টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই অধ্যাপক। ২০১৭ সালে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন শেষ করে আবারও নিজ বিভাগে ফিরে যান। এরপর ২০২০ সালের জুনে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান।