আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তন শুরু হয়েছে। বুধবার (১৪ মে) সকাল থেকে ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে চবি ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছেন।
সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসজুড়ে সজ্জিত গেট, লাল-সাদা ফেস্টুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজ ঘাসে রঙিন ব্যানার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে রয়েছে সমাবর্তনের ব্যানার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকনিক জায়গাগুলোতে (বোটানিক্যাল গার্ডেন, শহিদ মিনার, ‘চবি ট্রেন স্টেশন’) ছবি তুলতে ব্যস্ত সবাই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি, অর্জনের উল্লাস এবং এক নতুন যাত্রার শুরুর দিন।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী নাজিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন চাকরিজীবনে চলে গেছি। আর কখন এ ক্যাম্পাসে আসতে পারব জানি না।’
২০১১ সেশনের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিবি আয়শা বলেন, ‘সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখানে এসে সব বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করতে পারছি।’
ফাতেমাতুজ জোহরা এনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সবার সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্তে পার করছি।’
জানা গেছে, এবার সনদ নিতে সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন ২৩ হাজার শিক্ষার্থী। তারা ছাড়াও ১ লাখ মানুষের সমাগম হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর আগে ৪র্থ সমাবর্তনে ২০১৬ সালে ৭ হাজার শিক্ষার্থী সনদ গ্রহণ করেছিলেন। এবার ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর পাস করা সব শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হচ্ছে। তাই এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি।
চবি উপাচার্য মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার জানান, সমাবর্তন হলো শিক্ষার্থীদের এক আবেগঘন মুহূর্ত। এবার ২৩ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
সমাবর্তনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ডি.লিট ডিগ্রি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অতিথিসহ প্রায় ২৫ হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপাচার্য এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরসহ সনদ বিভাগ বা ইনস্টিটিউটগুলোতে সার্টিফিকেট পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, সমাবর্তন উপলক্ষে ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। ১০০টি বড় বাস শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সকাল ৬টায় যাতায়াত শুরু করেছে। নির্ধারিত শাটল ট্রেনে করেও অনেকে ক্যাম্পাসে আসছেন। ক্যাম্পাসে রয়েছে শাটল বাসের ব্যবস্থা।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের জন্য অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদেরকে বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথ থেকে সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে অবশ্যই প্রবেশপত্র (আইডি কার্ড) সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আইডি কার্ড ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী কাউকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না ।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন গিফট আইটেম যেমন- ব্যান, স্মরণিকা, কলম, পিন, ওয়ালেট ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনুষ্ঠান দেখতে পারেন, সে জন্য লাইভে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে চারটি পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের ৫ম সমাবর্তনে ৪২ জন পিএইচডি এবং ৩৩ জন এম. ফিল, ডিগ্রিসহ মোট ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে। এর মধ্যে কলা ও মানববিদ্যা ৪ হাজার ৯৮৮ জন, বিজ্ঞান ২ হাজার ৭৬৬, ব্যবসায় প্রশাসন ৪ হাজার ৫৬৩, সমাজবিজ্ঞান ৪ হাজার ১৫৮, জীববিদ্যা ১ হাজার ৬৮৫, ইঞ্জিনিয়ারিং ৭৯৬, আইন ৭০৩, শিক্ষা ৩১৭, মেরিন সায়েন্স ২৮৪ এবং চিকিৎসায় ২ হাজার ২৯৬ জন বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীরপ্রতীক), বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ উপস্থিত থাকবেন।
আবদুস সাত্তার/সুমন