ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান শেষে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।
শুক্রবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে ‘বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ’ ব্যানারে তারা শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় তারা সাম্য হত্যাকাণ্ডে বাকি আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সব বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থীরা এবং ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরাও অংশ নেন।
শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান চলাকালে ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পড়ুয়া ইব্রাহিম মুন্সী বলেন, ‘সাম্য ভাইয়ের লাশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল টালবাহানা শুরু করেছে। তাদের মুখ্য দাবি বিভিন্ন জনের পদত্যাগ। কিন্তু আমাদের প্রধান দাবি সাম্য হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার। আমরা কারও পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখানে আসিনি। অবিলম্বে সাম্য হত্যাকাণ্ডে বাকি আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা না হলে, রবিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়ে সাম্যের সহপাঠী এবং স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মশিউর রহমান শুভ বলেন, ‘সাম্যকে হত্যার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে যে ছুরিকাঘাত করেছিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামী রবিবার পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এর একপর্যায়ে আলোচনার জন্য কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল থানায় প্রবেশ করেন। ওই প্রতিনিধি দলে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক মু. আব্দুস সালাম, অসীম দাস ও মু. সিরাজুল ইসলাম এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীরা ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে শাহবাগ থানা ত্যাগ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারাকে শাহবাগ থানার ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে; খুনি কেন বাইরে, প্রশাসন কী করে; আমার ভাই মরল কেন, শাহবাগ থানা জবাব চাই’ ইত্যাদি নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
নিহত শাহরিয়ার আলম সাম্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হল ইউনিটের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। থাকতেন হলটির ২২২ নম্বর কক্ষে। শুক্রবার তার বিদেহ আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বাদ আসর হল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে হল প্রশাসন। এতে হলটির আবাসিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। অন্যদিকে বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সাম্যর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ঢাবি শাখা ছাত্রদল।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাত ১২টার দিকে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাম্যকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
এর আগে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। তারা হলেন- তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক এবং পলাশ সরদার। পরে ১৪ মে তাদের আদালতে হাজির করা হলে, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরিফ জাওয়াদ/সুমন/