ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাবি শাখা।
সোমবার (১৯ মে) রাত পৌনে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘বৃহৎ ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদল সাম্য হত্যার পর ছয় দিন ধরে সহিষ্ণুতার আচরণ করে যাচ্ছে। ছয় দিন হয়ে গেলেও সাম্যের প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচার করা হয়নি। একটি মব সৃষ্টিকারী মহল সাম্য হত্যা নিয়ে বিভিন্ন ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছে, তা ভিসি এবং প্রক্টরের পক্ষেই যাচ্ছে। যারা বিভিন্ন ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে সাম্যের হত্যাকে ভিন্ন খাতে নিতে চাচ্ছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
এ সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ‘ছয় দিন হয়ে গেল, প্রক্টর কিছু জানেন না’, ‘দফা এক-দাবি এক, সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘সাম্য ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
চার দাবিতে সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থী: গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে চার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থী। এতে ছাত্রদলের আবিদুর রহমান মিশু, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ইসরাত জাহান ইমু, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মোহাম্মদ মুস্তাকিম আহমেদ এবং ছাত্র ফেডারেশনের রক্ত বিচ অর্ক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্য হত্যার বিচারসহ চার দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, দ্রুত সময়ে জুলাই যোদ্ধা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত, দায়িত্ব গ্রহণের ৯ মাসে ক্যাম্পাসে দুই হত্যাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ভিসি ও প্রক্টরকে পদত্যাগ, তোফাজ্জল হত্যাসহ বিগত ৯ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী সব ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত, ক্যাম্পাস এবং নাগরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তার জন্য কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার, মাদক-সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করাসহ সার্বিক তৎপরতা।