খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) দীর্ঘ চার মাসেও অচলাবস্থা কাটেনি। ঈদের ছুটির পর কুয়েট খুললেও শিক্ষকরা যথারীতি ক্লাসে ফেরেননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কাজে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। মে মাসের বেতন-ভাতা পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১শ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। ভিসির অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি অর্থবছরে রাজস্ব খাতে বরাদ্দকৃত অব্যয়িত অর্থ খরচ করা সম্ভব হচ্ছ না। ৩০ জুনের মধ্যে এ অর্থ খরচ করতে না পারলে আর্থিক জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ফারুক হোসেন বলেন, রবিবার (১৫ জুন) কুয়েট রেজিস্ট্রার ও ডীনদের সমন্বয়ে প্রশাসনিক ভবনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে কুয়েট শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় একাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতসহ সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমরা বলেছি ভিসি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কোনো শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হোক, যাতে তিনি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারেন।’
শিক্ষক-কর্মকর্তারা বলছেন, কুয়েট এখন এক গভীর সংকট ও চরম হতাশার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। কুয়েটের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ভিসি নিয়োগ না দেওয়ায় এটি অভিভাবকশুন্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বোপরি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। কুয়েটের ইতিহাসে এটি প্রথম পবিত্র ঈদুল আজহা যেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ১১০০ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেতন-ভাতা পাননি। এটি শুধুমাত্র একটি আর্থিক সংকট নয়, এটি আমাদের মর্যাদা, আমাদের সম্মান, আমাদের ন্যায্য অধিকার হরণ করার এক নির্মম উদাহরণ।
এদিকে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আনিচুর রহমান ভূঁইয়া ২৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ভিসি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনার আবেদন জানিয়ে চ্যান্সেলর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেন। তবু সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি।
এর আগে গত ২৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ও অতি দ্রুত শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের (ডীন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক, প্রভোস্ট, অন্যান্য পরিচালকগণ ও চেয়ারম্যানরা) পক্ষে সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া মেলেনি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন। এসব ঘটনায় ধারাবাহিক টানাপোড়নে কুয়েটের ভিসি ড. মুহাম্মদ মাছুদকে অব্যাহতি ও পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন ভিসি ড. হযরত আলী পদত্যাগ করেন। ফলে কুয়েটে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়।