রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আগামী নভেম্বর মাসে হতে যাচ্ছে প্রথম সমাবর্তন। এতে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে যাত্রা শুরু করে উচ্চশিক্ষার এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। পরে নাম পরিবর্তন করে এটি হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তবে দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি সমাবর্তনও আয়োজন করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী পাস করলেও তার মূল সনদ পাননি।
মূল সনদ না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জুনে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ সমাবর্তন ছাড়াই মূল সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রথম কোয়ার্টারে সমাবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
এর পর আন্দোলনের মধ্যে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান অধ্যাপক রশিদ। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বেরোবির ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সমাবর্তনের উদ্যোগ নেন। আয়োজন সফল করতে কমিটি গঠন করা হয়। তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বলেও জানান উপাচার্য।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ থেকে ১২তম ব্যাচ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
সমাবর্তনের দিনটি প্রত্যেকে স্মরণীয় করে রাখতে চান। তাই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখেন। অনেকে মা-বাবাকে সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন এবং তাদেরও গাউন পরিয়ে ছবি তোলেন। এটি অসম্ভব সুন্দর মুহুর্ত।
সদ্য সাবেক লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী যুথী রানী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সদ্য বিদায়ী ব্যাচ হিসেবে অংশ নিতে পারা এক বিশেষ আনন্দের অনুভূতি। চার বছরের গল্প, বন্ধুত্ব আর স্মৃতি নিয়ে সবাই আবার একসঙ্গে হওয়ার এই সুযোগটা আমাদের জন্য একদমই অন্যরকম- উদ্দীপনা, গর্ব আর ভালোবাসায় ভরপুর একটা দিন হতে চলেছে এটা।’
বেরোবির মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাইজিদ আহমেদ রনি বলেন, ‘সমাবর্তন হওয়াটা সত্যিই অনেক আনন্দের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি বাস্তবায়ন করতে পারে তবে বেরোবির জন্য এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। তবে যারা ইতোমধ্যে সমাবর্তন না হওয়ার কারনে বিশেষ প্রয়োজনে মূল সনদ উত্তোলন করেছেন তারা যাতে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই বিষয়টি প্রশাসনকে বিবেচনা করতে হবে।’
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী শিহাব মন্ডল বলেন, ‘সমাবর্তন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর জন্য অনেক আনন্দদায়ক। দুর্ভাগ্যজনক হলেও প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও বেরোবি প্রশাসন কোনো সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারেনি, যা সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশার। সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার আক্ষেপ হয়তো থেকেই যাবে। তাই প্রশাসনের কাছে আহ্বান, দ্রুত সমাবর্তনের আয়োজন করার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলীর হাত ধরে বেরোবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম সমাবর্তন। আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দিনটি কেবল ডিগ্রি গ্রহণের দিন হবে না। এইটি হবে আবেগ, গর্ব আর স্বপ্নের একটি দিন। এই দিনটি হবে শিক্ষার্থীদের ত্যাগ আর পরিশ্রমের প্রতিফলন। এই দিনটি হবে শিক্ষকদের নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি ও অভিভাবকের নিরন্তর প্রার্থনার ফসল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণীয় একটি দিন হবে।’
উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী বলেন, আমার কাছে কেউ সমাবর্তন চায়নি। আমি নিজেই উদ্যোগ নিই। আশা করি সুন্দর একটি সমাবর্তন উপহার দিতে পারব।
গাজী আজম/অমিয়/