ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ
Nagad desktop

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তৎপর প্রার্থীরা, প্যানেল দিতে হিসাব-নিকাশ

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০১:৫১ পিএম
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তৎপর প্রার্থীরা, প্যানেল দিতে হিসাব-নিকাশ
ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে কেউ দলীয়, কেউ স্বতন্ত্র আবার কেউবা শিক্ষার্থীবান্ধব নানা নামে প্যানেল গঠনের চেষ্টা করছেন। 

গত ২৯ জুলাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ভোটার থেকে প্রার্থী সবার মনেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নির্বাচন। ইতোমধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩৯ হাজার ৯৩২ জনকে ভোটার করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট বিকেল ৪টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১২ আগস্ট থেকে শুরু হবে মনোনয়নপত্র বিতরণ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মনোনয়নপত্র বিতরণের আগ মুহূর্তেই ছাত্রসংগঠন ও অন্যরা প্যানেল গঠনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

প্যানেল গঠনের পথে ছাত্রসংগঠনগুলো

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্রসংগঠনগুলো প্যানেল দিতে বেশ কড়া হিসাব-নিকাশ করছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যদের প্রার্থী হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এসব প্যানেল গঠনে। অনেকে প্যানেল শীর্ষ পদে প্রার্থীও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। কেউবা অপেক্ষায় চূড়ান্ত ঘোষণার। তবে কেউ কেউ এখনো প্যানেল গঠনে তেমন মনোযোগই দেননি। যদিও ব্যক্তি পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কৌশলে সরব থাকার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ভিন্ন-ভিন্ন প্যানেল তৈরির জন্য আলোচনা করছেন। এ ছাড়া বামধারার সংগঠনগুলো থেকেও একটি প্যানেল আসতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে সংগঠনগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ জোর আলোচনা চলছে। এ ছাড়া, ব্যক্তিপর্যায়ে প্যানেলবিহীন স্বতন্ত্র প্রার্থী তো রয়েছেই।

বেড়েছে পদ, আলোচনায় যারা

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদ ছিল। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আরও তিনটি পদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অন্য একজন শিক্ষক ডাকসুর সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদ তিনটি সবচেয়ে আলোচিত। এসব পদে প্রতিটি দল থেকেই শক্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে হল সংসদের গঠনতন্ত্রের ১৭ ও ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি পদ অপরিবর্তিত রয়েছে।

জানা গেছে, ছাত্রদলের প্যানেল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত আলোচনা না হলেও ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুল ইসলাম খান, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও কবি জসীমউদদীন হল শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক শেখ তানভীর বারী হামিম ছাত্রদল থেকে ভিপি-জিএস পদে লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম, ঢাবি শাখা শিবিরের বর্তমান সভাপতি ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এসএম ফরহাদও আলোচনায় রয়েছেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদও শীর্ষ দুই পদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। ভিপি পদে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের এবং জিএস পদে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদারের নাম চূড়ান্ত করে আংশিক প্যানেলের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে আলোচনায় রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র এবং ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা। এ ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ আলোচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া বাম ধারার ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছেন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর জাবির আহমেদ জুবেল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। পাশাপাশি ব্যক্তি স্বতন্ত্র পর্যায়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফত চৌধুরী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে।

প্যানেল গঠন নিয়ে যা বলছে ছাত্রসংগঠন এবং আলোচিতরা

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল দেওয়ার জন্য কাজ করছি, এখনো পুরোপুরিভাবে ঠিক হয়নি। অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক এবং আগে যারা শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে সরব ছিল, তাদেরকে আমাদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করব। আমরা সর্বাধিক সংখ্যক নারী প্রার্থী প্যানেলে রাখার পাশাপাশি আদিবাসী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের নিয়ে আমরা ইনক্লুসিভ একটি প্যানেল গড়ে তুলতে চাই।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের মাঝে আলাপ-আলোচনা এবং প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত প্যানেলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি।’ ১৭ বছর ধরে ছাত্রলীগ করে কিংবা গুপ্ত থেকে নানা কায়দাকানুনে হলে ছিল, যেকোনোভাবে তাদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কিন্তু ছাত্রদলের তো সেটি ছিল না। সেই জায়গা থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। নানা অজুহাতে মৌলিক সংস্কার পিছিয়ে দিয়ে যদি ডাকসু নির্বাচন হয় সেই ডাকসু কোনোভাবে কার্যকর ও ইতিবাচক হবে না।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্যানেলের নাম ডাকসু ফর চেঞ্জ, ভোট ফর চেঞ্জ। মূলত এই প্যানেলটিতে যারা দীর্ঘসময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই-সংগ্রামে নিয়োজিত রেখেছিল এবং অভ্যুত্থানে অংশ রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সরব ছিল, তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘আদর্শে বৈচিত্র্য, অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ এবং চিন্তায় অগ্রসর শিক্ষার্থীদের একটি স্বতন্ত্র প্যানেল দিতে আমরা কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি ট্যাগলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে প্যানেল দিলে হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করব। ইতোমধ্যে অনলাইনে অনেকেই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।’

এক হয়ে প্যানেল দিতে পারে বাম সংগঠনগুলো

বাম ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো একতাবদ্ধ হয়ে একটি প্যানেল দেওয়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটসহ (বামপন্থি, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট) অপরাপর বামপন্থি যেসব সংগঠন রয়েছে, এর পাশাপাশি বিশেষ করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যক্তি পর্যায়ে যারা কি-না সাম্প্রদায়িক না এবং শিক্ষা সংক্রান্ত দাবি নিয়ে কাজ করে তাদেরকে আমরা সঙ্গে নিয়ে প্যানেল দিতে চাই।’

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্যানেল চূড়ান্ত না হলেও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটভুক্ত সংগঠন এবং অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রগতিশীল একটি ঐক্যবদ্ধ প্যানেল তৈরির চেষ্টা আমাদের অনেক দিন ধরেই চলছে এবং আমরা অনেকদূর এগিয়েও গেছি, খুব শিগগির হয়তো আমরা অফিশিয়াল ঘোষণার মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করব।’
প্যানেলের ফাঁদে পা দিতে চান না স্বতন্ত্ররা

প্যানেলের বাইরে নিজেদের স্বতন্ত্র ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে চান অনেক প্রার্থী। যাদের মূল শক্তিই শিক্ষার্থীরা। এই শক্তিই তাদের এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস অনেকের। 

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত চৌধুরী বলেন ‘বিগত সময়ে আমরা দেখেছি দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও মাদার পার্টির পারপাস সার্ভ করতে তৎপর থাকেন। ফলে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা সবসময় উপেক্ষিত হয়। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবারের ডাকসু নির্বাচনে নির্দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চে কাজ করার সুবাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমার কাজ করার একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের পালসকে প্রাধান্য দিয়ে আমি আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ইংরেজি বিভাগের শামীম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দরকার। যিনি ছাত্রদের জন্য কথা বলবেন, শিক্ষার্থী ভয়েস হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করবেন। এখন আমি যদি কোনো প্যানেল থেকে প্রতিনিধিত্ব করি, তখন বিষয়টি এমন দেখাবে যে, আমি তো তাদেরই নেতা এবং অমুক ব্যক্তির আদর্শ প্রচার করি। আমার তো এমন কোনো আদর্শ নেই। আমার আদর্শ একটাই, যখন আমার কোনো ছোট ভাই-বন্ধুরা কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হবে তখন তাদের সেই ভয়েসটা রেইজ করার জায়গা তৈরি করে দেব এবং সেই ভয়েসটি হব আমি।’ 

এবারের নির্বাচনে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের তুলনায় ২০২৫-এর ডাকসু নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে অনেক বেশি। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের যেসব শক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি কঠিন প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে করেন ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবারের ডাকসু নির্বাচনে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের যেসব শক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি কঠিন প্রতিযোগিতা হবে। এখন তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে কতটা প্রাধান্য দেবে সেটি বলতে পারছি না।’ 

জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদে দুই দিনব্যাপী অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন আহমেদ জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ৪২টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রিলিমিনারি, কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল এবং গ্র্যান্ড ফাইনাল রাউন্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল লিগ্যাল স্টাডিজ (এসসিএলএস)-এর উদ্যোগে গত ৫-৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট দলের সদস্যরা হলেন- আইন বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া শুচি ও যাইদ ইকরাম এবং ২০২৩-২০২৪ সেশনের শিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসসুম।

আরিফ/নাঈম

পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। 

সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহআলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তাকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে তারা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

হাসিবুর রহমান/নাঈম

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ
ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। ছবি সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ।

রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়।

নোয়াখালী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ডক্টর মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক পদে কর্মরত রয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। 

এদিকে লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠিত নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ এর নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবিতের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ হানিফ মুরাদ ১৯৭৪ সালের ১০ এপ্রিল নোয়াখালীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুমিল্লার ব্রাদার আন্দ্রে’স হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে বিএসসি অনার্স এবং এমএসসি (থিসিস গ্রুপ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিএসসি ও এমএসসি উভয় ডিগ্রিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রিতে অসামান্য ফলাফলের জন্য তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পুরস্কৃত হন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এম ফিল ডিগ্রি লাভ করেন। 

চাকরি জীবনে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শেষে ২০০৬ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ২৭টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ডক্টর মুরাদ বাংলাদেশ গণিত সমিতির আজীবন সদস্য।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/অন্তরা

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ড. তোজাম্মেল হোসেন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ড. তোজাম্মেল হোসেন
নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন। তিনি ইবির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. তোজাম্মেল হোসেনকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, ততদিন তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়ে অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, 'আমাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এ দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা চাই।'

নিয়ামত উল্লাহ/আজহার/

নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেগম বাজারস্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। পরে তার কবর জিয়ারত করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ আসরের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ’র অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ও তার কবর সংরক্ষণ এবং সংস্কারের দাবি তোলা হয়।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা-অনুরাগ এ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য অবদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনমত গঠন করেন। ১৯২০ সালে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাশ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন