চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।
বিষয়টি সমঝোতা করতে সকালে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ সহ প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরা। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সেখান থেকে ফিরে আসার সময় স্থানীয়রা হামলা চালায়। স্থানীয়দের ধাওয়ায় উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন- (কিছুদিন আগে তার বাম হাতে অস্ত্রোপচার হয়েছে)। পাশাপাশি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ স্থানীয়দের ইটের আঘাতে আহত হন। চবি মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।
এদিকে সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি আরাফকে আঘাত করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে দর্শন বিভাগের এক ছাত্রীকে ভবনের দারোয়ান মারধর করার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই গেটসংলগ্ন একটি ভবনে ভাড়া থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফিরতে গেলে দারোয়ান দরজা খুলছিলেন না। পরে ডাকাডাকির এ পর্যায়ে দারোয়ান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ছাত্রীকে চড়-ধাক্কা দিয়ে মারধর করেন। এ সময় ওই ছাত্রী তার একজন বন্ধুকে ডাকলে তিনি সেখানে যান। পরে তাদের ওপর হামলা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা এই দারোয়ানকে প্রক্টরের কাছে সোপর্দ করতে চাইলে এলাকাবাসী ছাত্রদের ওপরে হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকে এবং ওই দারোয়ানকে খোঁজার উদ্দেশ্যে সামনে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে রাত ১টা ৪০ মিনিটে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জোবরা গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এর পর দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের মোট চারটি গাড়ি স্থানীয়রা ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে ভোর তিনটার পর সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে ও এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন>> .চবিতে সংঘর্ষে আহত খবরের কাগজের নাঈম আল আরাফ
.চবির প্রধান ফটক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
.চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত
মেহেদী/