ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর সকাল থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেছেন ছাত্রীরা। তবে বেশিরভাগ ছাত্র হল ছাড়তে নারাজ। তারা হল না ছেড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন।
হামলার ঘটনায় চারদফা দাবি জানিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন ছাত্ররা। তাদের দাবিগুলো হলো- হামলার ঘটনায় উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, পুরো প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে, হামলায় জড়িত শিক্ষকসহ হামলাকারীদের বিচার করতে হবে এবং কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাত্রী হলগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, একেক করে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হচ্ছেন। অন্যদিকে ছাত্ররা হল থেকে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে বের হয়েছেন। তারা বাসায় ফিরছেন না। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছেন।
ছাত্রীরা জানান, হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। যেকোনো সময় আবারও বহিরাগতরা হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় হল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এ সুযোগে অটোরিকশার চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেসব শিক্ষার্থীদের বাসা দূর-দূরান্তে, তারা বিপাকে পড়েছেন। তবুও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় রওনা হয়েছেন।
জুলাই ৩৬ হলে থাকেন মারিয়া আক্তার সীমা। তিনি বলেন, ‘আমরা পড়ালেখা করতে এসেছি। হামলা কিংবা ভাঙচুর প্রত্যাশা করি না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। ভোর থেকেই বলা হচ্ছে, আমরা যেন দ্রুত হল ত্যাগ করি, তাই চলে যাচ্ছি।’
সোমবার ভোরে কৃষিবিদ ঐক্য পরিষদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন অনুষদটির শিক্ষার্থীরা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
আরও বলা হয়, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই, আসাদুজ্জামান সরকার স্যার বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় বিভিন্ন অনুষদকে জড়িয়ে যেই বিবৃতি দিয়েছেন, সেই ঘটনায় কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বলেন, ‘আমরা হল ছাড়ব না। কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাস্তবায়ন করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিসি স্যারকে ক্ষমা চাইতে হবে। হামলায় জড়িত শিক্ষকসহ অন্যান্যদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব ছাত্র-ছাত্রীদের সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে।’
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’
কামরুজ্জামান মিন্টু/সুমন