চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ঘিরে প্রধান সংগঠনগুলো পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদল এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন গতকাল বৃহস্পতিবার নিজেদের প্যানেল প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা করেনি। তবে তাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
গতকাল বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম। এই প্যানেলে ভিপি পদে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের কার্যকরী সদস্য ও চবি শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস পদে ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সাঈদ বিন হাবিব এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফাইন্যান্স বিভাগের একই সেশনের সাজ্জাদ হোসাইন মুন্না। সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন খেলাধুলা সম্পাদক মোহাম্মদ শাওন, সাহিত্য সম্পাদক হারেসুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপাসহ আরও অনেকে। নির্বাহী সদস্য হয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা, সালমান ফারসি, আকাশ দাশ, সোহানুর রহমান ও আদনান শরিফ। চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। ঘোষিত প্যানেলে ভিপি পদে রয়েছেন চবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, জিএস পদে শাফায়াত হোসেন এবং এজিএস পদে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। খেলাধুলা সম্পাদক হয়েছেন আজহারুল ইসলাম বিপশু, সাহিত্য সম্পাদক মোজাম্মেল হক হৃদয়, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নুজহাত জাহান এবং বিজ্ঞান সম্পাদক ওজায়ের হোসেন। গবেষণা সম্পাদক ফাইরুজ সাদাফ দ্বীপ, সমাজসেবা সম্পাদক ইমাম হাসান, স্বাস্থ্য সম্পাদক আবরার গালিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার লিমন এবং ক্যারিয়ার সম্পাদক শ্রুতিরাজ চৌধুরী। নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন ফয়সাল প্রান্ত বাবর, মিজান মিয়া, নুসরাত জাহান, এস এম তরিকুল ইসলাম রিমন ও তায়েফ হোসেন ইমন।
‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ নামের একটি জোটও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। তাদের ঘোষিত প্যানেলে ভিপি পদে রয়েছেন মাহফুজুর রহমান, জিএস পদে আর এম রাশিদুল হক দীনার এবং এজিএস পদে জান্নাতুল ফেরদৌস। সম্পাদকীয় পদে খেলাধুলা সম্পাদক মো. তায়েফুল আলম ফরাজী, সাহিত্য সম্পাদক ওয়ালিদুর রহমান রাফিজ, দপ্তর সম্পাদক মো. ইসমাইল, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক সারাহ চৌধুরী, সমাজসেবা সম্পাদক হাসিবুর রহমান রনি, আইন সম্পাদক তানিয়া আক্তার মাহি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহথির, গবেষণা সম্পাদক মো. তালিফ মিয়া, বিজ্ঞান সম্পাদক জাহিদ নাসের, ধর্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম (আরহাম) এবং খাদ্য সম্পাদক সুমাইয়া সুলতানা। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন পিয়াস হোসেন, সাজ্জাদুল ইসলাম, গোলাম রসুল (সাকিব), শফিউল আলম সাফি ও সাহাব উদ্দিন (শিহাব)।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও ছাত্রদল, ছাত্র মজলিসসহ কয়েকজন প্রার্থীর অনুরোধে সময় এক দিন বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, সর্বশেষ যে প্রার্থী উপস্থিত থাকবেন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরিফুল হক সিদ্দিকীর দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল ১ হাজার ১৬৪টি। এর মধ্যে ছেলেদের হলে ৪৫৫টি, মেয়েদের হলে ১৫৪টি, হোস্টেল সংসদে ২৬টি এবং চাকসুতে ৫২৯টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। জমা পড়েছে মোট ৯৩১টি মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে ছেলেদের হলে ৩৫৬টি, মেয়েদের হলে ১৪৬টি এবং চাকসুতে ৪২৯টি। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।