ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু

চাকসু নির্বাচন: ৯০৮ প্রার্থীর লড়াই শুরু

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৪ এএম
চাকসু নির্বাচন: ৯০৮ প্রার্থীর লড়াই শুরু
ছবি: খবরের কাগজ

পাহাড় ও সবুজের ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসটা যেন সকাল থেকে নানা রঙ্গে রঙিন। শিক্ষার্থীদের কলতানে ভোরের সূর্যালোকের ছায়া সবুজ ঘাসে পড়ার আগেই শিশির বিন্দু মিশে গেছে মাটিতে। শুরু হয়ে গেছে প্রার্থী ও ভোটারদের দৌড়ঝাঁপ। আজ (১৫ অক্টোবর) ঐতিহাসিক চাকসু নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

আজ থেকে ৩৫ বছর আগে ১৯৯০ সালে হয়েছিল সর্বশেষ এ নির্বাচন। যিনি সর্বশেষ ভিপি হয়েছিলেন তিনিও মারা গেছেন এক বছর আগে।

চাকসু নির্বাচনে মোট প্রার্থী হয়েছেন ৯০৮ জন। যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬টি পদে লড়বেন ৪১৫ জন প্রার্থী।

এদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২১ জন, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহসাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৫ জন, দপ্তর সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে ১৪ জন, ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩ জন, সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০ জন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ১১ জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২ জন, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ১৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ১৬ জন, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৪ জন, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ৯ জন, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে ৮৫ জন।

আজ সকালে ভোট কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াহইয়া আখতার। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ভোটের আগে সব কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সার্বিক পরিস্থিতি ভাল আছে। আশা করছি সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারব।

তবে ভোট গ্রহণের শুরুতে দেখা যায়, ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। শহরের ভোটাররা ট্রেনে করে ক্যাম্পাসে গেলেই উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এতে বোঝা যাচ্ছে, এবারের চাকসু নির্বাচনে বিশাল প্রভাব রাখবে শহরের ভোটাররা। 

সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের কেন্দ্রে বাইরে চারটি লাইন করা হয়েছে। কিন্তু লাইনে ভোটার নেই। 

এক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ হাসান জানান, ট্রেন না আসায় ভোটাররাও পৌঁছাননি ক্যাম্পাসে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারও বাড়তে পারে। তিনি ক্যাম্পাসে থাকেন বলে আগে গেছেন। 

অন্যদিকে, ১৪টি হল সংসদে লড়বেন ৪৭৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রদের ৯টি হল ও ১টি হোস্টেল মিলে ৩৫০ জন এবং ছাত্রীদের ৫টি হলে ১২৩ জন। যার মধ্যে ছেলেদের হলগুলোতে রয়েছে- এএফ রহমান হলে ৩৮, আলাওল হলে ৩২, অতীশ দীপংকর হলে ৩৭, শাহ আমানত হলে ৪৩, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩৭, শহীদ আব্দুর রব হলে ৩১, শাহজালাল হলে ৩৪, সোহরাওয়ার্দী হলে ৫৩। এ ছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে ২০ জন।

এ ছাড়া মেয়েদের হলগুলোতে রয়েছে- বিজয় ২৪ হলে ২৮, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ১৭, প্রীতিলতা হলে ২৬, শামসুন্নাহার হলে ২২।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০টি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স এবং পাঁচ জন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ ও নারী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন।

যার মধ্যে, প্রকৌশল অনুষদে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৩৬ জন। তারা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবন শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহজালাল হলের ২ হাজার ৬৬৬ জন, এ এফ রহমান হলের ১ হাজার ৩০৭ ও আলাওল হলের ১ হাজার ২৯০ জন ভোটার রয়েছেন।

বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৫৩৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, শহীদ আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা হলের ১ হাজার ১৭৯ জন, শামসুন নাহার হলের ২ হাজার ২৯১, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের ২ হাজার ৪৮৭ ও অতীশ দীপংকর হলের ৬৪৯ জন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন মোট ৭ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে প্রীতিলতা হলের ২ হাজার ৫৫৫ জন, বিজয়–২৪ হলের ২ হাজার ৬০৪, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ১ হাজার ৭৬০ ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১৫৪ জন।

এদিকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

নির্বাচন কমিশনার ড. মনির উদ্দিন জানান, ৫ জন ডিন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ১৫ জন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৬০টি ভোটকক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তা সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দায়িত্বপ্রাপ্তকে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৩০০টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ৭০০টি গোপন ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজনে তিন মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে। ‘১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস সিল্ড থাকবে। আইডি কার্ড ছাড়া কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

চাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন ৯০৮ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদের বিপরীতে ৪১৫ জন, হল সংসদে ৪৭৩ জন এবং হোস্টেল সংসদে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু খবরের কাগজকে বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে দেড় হাজারের বেশি পুলিশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের জন্য কাজ করবে। শান্তিপূর্ণ চাকসু নির্বাচন চলছে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। 

মেহেদী/

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার  অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বসার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। তিনি আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জবাবও আমি দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাম পাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে তাদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং কাউকে সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ সেখানে আসার পর পেছনে বসা শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারছিল না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলে যান।’

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ’দঁড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। তবে বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

শাকিবুল হাসান/খাদিজা রুমি/

দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে
ছবি:খবরের কাগজ

সকালে ক্লাসে যাওয়ার তাড়া নেই, তবু আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে সকাল সকাল জেগে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কারও হাতে ভুভুজেলা বাঁশি। হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে গড়াচ্ছে বল, আর তার রেশ এসে লেগেছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। যেন বিশ্বকাপের এক টুকরো আবহ তৈরি হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও খেলা ঘিরে উন্মাদনা থেমে নেই।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। প্রিয় দলের জার্সি পরা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থনের পোস্ট দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক কিংবা ম্যাচ বিশ্লেষণ–সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন তরুণদের জীবনের একটি বড় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

গত বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ সেই উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় উল্লাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হলপাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় বিজয় উদযাপনের দৃশ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় খেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন আবাসিক হলে উড়তে থাকে আকাশি নীল-সাদা পতাকা। মুহূর্তের জন্য পুরো ক্যাম্পাস যেন রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘মেসি বেশ ভালো খেলেছেন, আশা করছি আগামীতে তারা আরও ভালো খেলবেন। বিশেষ করে মেসি আরও গোল করবেন। আজকে মেসির তিন গোলের মধ্য দিয়ে তিনি সেরা, এটি প্রমাণ করলেন। আশা করি, এবারের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জিতবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘এবার আমরা ফোর স্টার নিয়ে ফিরব। আর মেসি কী জিনিস, আজকের খেলার মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণ হলো। সেরাদের জায়গাটি সব সময়ই বিশ্বকাপ সেরাদের কাতারেই থাকে। এবার আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতব এবং মেসি অবশ্যই সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, যেটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী অনুভূতি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওবাইদুল্লাহ বলেন, মেসিকে কেন ফুটবলের জাদুকর বলা হয়, তা আজ আবারও প্রমাণ হয়েছে। আর আর্জেন্টিনা যে মানের ফুটবল খেলেছে, তা ধরে রাখতে পারলে দলটি শিরোপার দৌড়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিএসসি, জগন্নাথ হল মাঠ, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল, শহীদুল্লাহ হল মাঠ এবং কবি জসীমউদদীন হল মাঠে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরাবরই একটি আবেগের নাম। যদিও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এখনো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নেই, তবু সমর্থন আর ভালোবাসার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এ দেশের মানুষ। সেই আবেগের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে, যেখানে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি হয়ে ওঠে উৎসব, আনন্দ এবং মিলনের উপলক্ষ।
বিশ্বকাপের দিনগুলো যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। কে জিতবে শিরোপা, কে হবে সেরা।

 খেলোয়াড়– এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ইতোমধ্যে পরিণত হয়েছে উচ্ছ্বাস, আবেগ আর তারুণ্যের এক বর্ণিল মঞ্চে।

যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কেমব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬।’

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেড়শ জনের বেশি অধ্যক্ষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ রাজামানি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসটিএস গ্রুপের সিইও মানাস সিং বলেন, “গ্লেনরিচ ক্যাম্পাসে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের একসঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সবার সম্মিলিত অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ শেখার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একত্রিত করে এমন অর্থবহ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে গ্লেনরিচ উত্তরার শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এ ছাড়া, মূল অধিবেশনে কেমব্রিজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশে কেমব্রিজ শিক্ষাধারার সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনায় প্রাইমারি চেকপয়েন্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কেমব্রিজের অনুমোদিত ও মৌলিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহ জোগানো এবং পাইরেসি বিরোধী উদ্যোগে ভূমিকা রাখা স্কুলগুলোর প্রশংসা করা হয়।

এই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ,’ ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ’ এবং ‘কেমব্রিজ পিডিকিউ সেন্টারশিপ’।

একই সাথে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাতারকুল অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ’ এবং ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ।’

অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা শিক্ষাখাতের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার, নতুন সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক সেশনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ করতে উদ্দেশ্যনির্ভর, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও কার্যকর শিক্ষণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কেমব্রিজ ইংলিশ প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদাহরণ ও কেস স্টাডির মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে এবং বাস্তব জীবনে ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সহকর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে কীভাবে পাঠদানের মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আরও উন্নত করা যায়, এ নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

এ সময় কেমব্রিজ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশনস (পিডিকিউ) কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের আত্মমূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করতে এ কর্মসূচির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রমের মানোন্নয়নে শিক্ষাবিদদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।