রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে কোনো ধরনের ভোট জালিয়াতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ভোটার যাচাই থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ফুলপ্রুফ নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ, অধ্যাপক এনামুল হকসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনের সব প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। তাই প্রতিটি ধাপে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’
নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্পাসে দুই হাজার পুলিশ সদস্য, ১২ প্লাটুন র্যাব ও ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।’
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভোটে কারচুপি ঠেকাতে আমরা তিন স্তরের যাচাই ব্যবস্থা নিয়েছি, যেটিকে আমরা বলছি থ্রি ডাইমেনশনাল সিকিউরিটি। প্রথমত, ভোটারদের শিক্ষার্থী আইডি যাচাই করা হবে; দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ভোটারের জন্য দেওয়া ইউনিক আইডি পরীক্ষা করা হবে; এবং সর্বশেষ ধাপে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা থেকে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে বিশেষ কিউআর কোডের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। ফলে কোনো অবস্থাতেই জাল ভোট দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি আরও জানান, ফলাফল প্রস্তুতে ৪৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। ‘আমরা ডাকসু ও জাকসুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছি,’ বলেন কমিশনার আকন্দ। তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে কোনো তাড়াহুড়ো নয়, বরং নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য ফলাফল প্রকাশে আমরা বদ্ধপরিকর।’
কমিশন জানায়, ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালটবাক্স সিলগালা করে বিশেষ নিরাপত্তায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আনা হবে। ওএমআর মেশিনে স্ক্যান করে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনায় ১৭ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ১৯৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ মোট ২১২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশন ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে একাধিক দফা সভা করেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন, প্রার্থী ৮৬০ জন। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মামনুনুল কেরামত, ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নূরুল হোসেন চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম. নজরুল ইসলাম, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দিকা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন, ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শেহনাজ ইয়াসমিন এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ জাবিদ হোসেন।
কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করব এবং কোনো প্রকার কারচুপি হচ্ছে কি-না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনো কেন্দ্রে যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা।’
এনায়েত/এসজি/