রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আশঙ্কা করছি না। তবে কেউ যদি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি সদর দপ্তর থেকেও এক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে।'
কমিশনার জানান, নির্বাচন ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- প্রাক-নির্বাচনী, নির্বাচনী ও পর-নির্বাচনী। তিনি বলেন, 'ফ্রি ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা তিন ধাপের নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। গত দুই দিন ধরে চলছে প্রথম ধাপের দায়িত্ব পালন। আগামী দুই দিন দ্বিতীয় ধাপ এবং ভোটের পর থাকবে পোস্ট-ইলেকশন নিরাপত্তা কার্যক্রম।'
সাইবার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আবু সুফিয়ান বলেন, 'আমাদের আশঙ্কা, সাইবার স্পেসে কিছু অপতৎপরতা ঘটতে পারে। এসব প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি সাইবার টিম কাজ করছে। কোনো অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নির্বাচনের দিন বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি গেট খোলা থাকবে। প্রতিটি ফটকে নিরাপত্তা চৌকি থাকবে এবং বহিরাগত কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। পাশাপাশি হল প্রশাসনও বহিরাগতদের উপস্থিতি যাচাই করছে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করছেন। আমরা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভদ্র ও সহনশীল আচরণ করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে যেন কোনো অসদাচরণের অভিযোগ না আসে।'
আরএমপি কমিশনার বলেন, 'সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও কেউ যদি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, আমরা কঠোরভাবে তা দমন করব।'
রিফাত/