৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবন সাজছে নতুন করে। ভবনের প্রতিবাদী লেখাগুলো ঢাকা পড়েছে নতুন রঙয়ের ছাপে। সেখানে দীর্ঘদিন যাবত কর্মকাণ্ড চালানো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও ছেড়ে দিয়েছে নিজেদের কার্যালয়। ভবনের কক্ষে কক্ষে চলছে রংমিস্ত্রির তুলির ছাপের মহাযজ্ঞ। গত চার দিন ধরে চলা কাজ প্রায় শেষের দিকে। দ্রুতই কক্ষগুলোতে কার্যক্রম শুরু করবে তিন যুগ পরে নির্বাচিত নেতারা। শুরুতেই নিজেদের মধ্যে সভা করে ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন তারা।
রাকসু ভবনের দেয়ালে দেয়ালে এক সময় লেখা থাকত ‘রাকসু বাস্তবায়ন করো’, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করো’ ইত্যাদি। তিন যুগ পর বাস্তবায়িত হয়েছে সেই দাবি।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যালয় হস্তান্তর করতে চলছে কক্ষগুলো পরিষ্কার, দেয়ালে রঙয়ের কাজ। ভবনের ভাঙাচোরা অংশগুলো মেরামতসহ পুরোদমে চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। দেয়ালে ছাপ পড়েছে নতুন রঙয়ের, দেওয়া হয়েছে নতুন বৈদ্যুতিক বাতি। একদম নতুন সাজে প্রস্তুত হচ্ছে রাকসু ভবন।
দ্বিতল ভবনের দুই তলার দক্ষিণ পাশের একটি প্রশস্থ কক্ষে হবে সহসভাপতির (ভিপি) কার্যালয়। একই তলার পূর্ব পাশের আরেকটি প্রশস্ত কক্ষে নিজ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন নির্বাচিত জিএস। এ ছাড়া বাকি ৮টি কক্ষে কার্যক্রম চালাবেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
ইশতেহার নিয়ে কাজ শুরু করতে চান নির্বাচিতরা
দীর্ঘ তিন যুগ পর শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের প্রতিনিধি। এ বারের নির্বাচনে প্রতিনিধিরা ভোটের আগে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে জমা হওয়া আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নানা ইশতেহার দিয়েছেন। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই দ্রুত কাজ শুরু করতে চান তারা। কেন্দ্রীয় সংসদে নির্বাচিত অন্তত ৫ জন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
তারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নানান প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি আমাদের ছিল। সেগুলো নিয়েই আমরা কাজ শুরু করতে চাই।’
রাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমরা তাদের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন শিক্ষার্থীদের আস্থা ও আমাদের ইশতেহার অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’
জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারও নির্বাচিত বিজয়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কার্যপন্থা তৈরি করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা নির্বাচিত হয়েছি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। এই আলোচনায় আমরা আমাদের সবার ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর পন্থা খুঁজে বের করতে এবং কাজ শুরু করতে চাই।’
ভবন ছেড়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন রাকসুর কার্যকারিতা না থাকায় বিভিন্ন সময়ে ভবনে ঠাঁই পেয়েছিল অন্তত ১০টি সংগঠন। দ্বিতল ভবনটির নিচতলায় ছিল সমকাল নাট্যচক্র, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার রাজশাহী, উদীচী সাংস্কৃতিক সংসদ, অরণি সাংস্কৃতিক সংসদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশন (এস) ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয়। দ্বিতীয় তলায় কার্যক্রম চালায় অনুশীলন নাট্যদল, সমগীত, তীর্থক নাটক, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি। বর্তমানে সংগঠনগুলোর আশ্রয় হয়েছে মন্নুজান হলের পাশের পুরাতন শেখ রাসেল স্কুলের ‘পরিত্যক্ত’ ভবনে।
তবে পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়ন করে সংগঠনগুলোকে স্থায়ী আবাসন দিতে কাজ করতে চান নবনির্বাচিত জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি বলেন, ‘ভবনে দীর্ঘদিন যাবত কার্যক্রম চালানো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়ন করে স্থায়ী পুনর্বাসন করার প্রতিশ্রুতি আমাদের ছিল। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথমবারের মতো ছাত্রশিবির শীর্ষ দুই পদে বিজয়ী হয়। এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৩ পদের মধ্যে ২০টিতেই শিবির জয়ী হয়। একটিতে ছাত্রদল প্যানেল, একটিতে স্বতন্ত্র ও জিএস পদে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার জয়ী হন।
শাকিবুল/এসজি/