জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতাধীন একটি নির্মাণাধীন ভবনের নবম তলা থেকে পড়ে রাকিব (২৪) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশমাইল এলাকায় নির্মাণাধীন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কোয়ার্টারের ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত রাকিব সহযোগী রাজমিস্ত্রি হিসেবে ভবনের নবম তলায় কাজ করছিলেন। দিনের কাজ শেষে জানালা দিয়ে অতিরিক্ত প্লাস্টারের বস্তা নিচে ফেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাভারের ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজিজ কনস্ট্রাকশন, যা মূল ঠিকাদার আমিন ট্রেডার্স থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল, তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাকিবের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে দাফন-কাফনের জন্য দুই লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে আমিন ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিজ বলেন, “ভবনের মধ্যে কাজ চলছিল। বাইরের কাজ শেষ হওয়ায় ‘সেফটি নেট’ খুলে ফেলা হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, ফ্লোরম্যানের তত্ত্বাবধানে রাকিবের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। আমরা বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করার নির্দেশ দিই। প্রকল্প অফিস ও প্রশাসন থেকে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হয়। তবুও অনেক সময় শ্রমিকরা তা মানে না, যার ফলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, ‘নির্মাণশ্রমিক রাকিবের মৃত্যু বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। এটি তার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’
তিনি জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই একটি জরুরি প্রশাসনিক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নিরাপত্তা বেষ্টনী (সেফটি নেট) এবং বেল্ট প্ল্যাটফর্ম স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত একতলার ওপরের সব নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন লাইব্রেরি ভবনের চারতলা থেকে পড়ে মো. আরিফুল নামে এক শ্রমিক মারা যান। মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারও এক শ্রমিকের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আমানউল্লাহ/এসজি/