বাংলাদেশের নদী ও উপকূলীয় পানি, হাওর–নদীর জলাশয় এবং ঢাকা ওয়াসার ডিস্ট্রিবিউশন বুথের পানিতে কীটনাশক, ওষুধের অবশিষ্টাংশ এবং পিএফএএসসহ (পারফ্লুরোকটেন সালফোনেট) বিভিন্ন মাইক্রো দূষক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জলাশয়ে বসবাসকারী ক্যাটফিশ জাতের মাছ যেমন মাগুর, শিং ও বোয়ালে এসব দূষকের উপস্থিতি রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
এর মধ্যে ওয়াসার ডিস্ট্রিবিউশন বুথের পানিতে পিএফএএসের ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রা পাওয়া গেছে।
শনিবার দিনব্যাপী শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ‘বাংলাদেশের নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের পানিতে মাইক্রো–দূষক (কীটনাশক, ওষুধ এবং পিএফএএস) শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
শেকৃবি রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
গবেষকরা জানান, শীত ও বর্ষা দুই মৌসুমে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির শনাক্তক্ষমতা ০.০১ ন্যানোগ্রাম/লিটার, যা দিয়ে ৫০০টির বেশি রাসায়নিক যৌগ নির্ণয় করা সম্ভব। ফলাফল আন্তর্জাতিক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কৃষি রাসায়নিক, চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ওষুধের অবশিষ্টাংশ এবং শিল্পবর্জ্যকে এসব মাইক্রো–দূষকের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইয়ারকার ফিক। শেকৃবির কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ড. তাজুল ইসলাম, ড. সিরাজুল ইসলাম এবং ড. আব্দুল কাইউম মাইক্রো–দূষকের উৎস, বিস্তার, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তারা দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নির্ভর পানি নিরাপত্তা গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমানুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতার তুলনায় পরিবেশ সচেতনতা এখনও অনেক কম। এর ফলে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা সরাসরি আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের গবেষণা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের গবেষণা কাজে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ–উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সেমিনারে সিনিয়র সাংবাদিক ফাইজুল সিদ্দিকীর উপস্থাপনায় নদী–উপকূলীয় মাইক্রো–দূষণবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এতে সরকারি নীতি–নির্ধারক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, দাতা সংস্থা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
অভি/মাহফুজ