দেশের একটি বন্দর গোপন চুক্তির মাধ্যমে ৩৫ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বামপন্থি শিক্ষার্থীরা মুরাদ চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘আপ আপ সোশ্যালিজম, ডাউন ডাউন ক্যাপিটালিজম মা-মাটি-মোহনা- বিদেশিদের দেব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন সংগঠক ইমরান হাসান শুভ।
সমাবেশে বিভিন্ন বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন এবং অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের (একাংশ) কার্যকরী সদস্য সিয়াম মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদেশি কোম্পানির হাতে বন্দর হস্তান্তর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিনের জাতীয় স্বার্থবিরোধী আত্মসমর্পণ নীতির ধারাবাহিকতা।’
তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারও ক্ষমতার স্বল্পমেয়াদি সুবিধার আশায় বহু অসম চুক্তি করেছে। এসবের বোঝা সামলাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকেই। বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণে গেলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে, আর মুনাফা চলে যায় বিদেশে। এতে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নিকি জামান বলেন, ‘সরকারের করা বন্দর চুক্তির সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি টার্মিনাল পাঁচ বছরের ইজারার তথ্য প্রকাশ ছিল, অথচ এবার ৩০ বছরের চুক্তি- প্রয়োজনে আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগসহ গোপন রাখা হচ্ছে। এতে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের সহিংসতায় নিহতদের ডিএনএ শনাক্তকরণ হয়নি, আহতদের চিকিৎসাও শেষ হয়নি; অথচ এসব সমাধানের বদলে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি চুক্তি করতে ব্যস্ত।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, চুক্তির শর্ত প্রকাশ না করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার সরকারের নেই।
তার দাবি, ‘চট্টগ্রাম বন্দর সবসময়ই লাভজনক। দুর্নীতির অজুহাত তুলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। অনির্বাচিত ইন্টেরিম সরকারকে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ম্যান্ডেট জনগণ দেয়নি। তাই অবিলম্বে চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।’
সভায় বক্তারা আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা ও জিবুতির মতো উদাহরণ দেখিয়েছে, বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত সম্পদ দিলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রক্ষা হয় না বরং মূলধনের বহির্গমন ও বিদেশি প্রভাব বাড়ে।
আমানউল্লাহ খান/সুমন/