জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাউল পালাকার আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আসর ‘বাউলের দ্রোহ’।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে শুরু হয় এই প্রতিবাদী অনুষ্ঠান।
আসরের প্রধান আকর্ষণ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিচার গানের পালা।
এতে পাল্টাপাল্টি সুর–তর্কে অংশ নেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী লতা দেওয়ান ও নয়ন দেওয়ান।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা নবীন কিশোর গোস্বামী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই এই আয়োজন করেছে।
তিনি বলেন, “বাউল আবুল সরকারের মুক্তি আমাদের মূল দাবি। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ভেতর ‘একটা একটা বাউল ধর’ ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে বাউলদের অনিরাপদ পরিবেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে- আমরা এর প্রতিবাদ করছি।”
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকল মত, সকল সংস্কৃতির মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চর্চা করতে পারবে এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের আয়োজন।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক এবং ‘বাউলের দ্রোহ’র আরেক আয়োজক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনে আমরা বার্তা দিতে চাই বাংলার মাটি সব মত ও বিশ্বাসের মানুষের শান্তির স্থান। আবুল সরকারকে যেভাবে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’
তিনি অভিযোগ করেন, আবুল সরকারের পালা গানের একটি খণ্ডিত অংশ বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
‘তিনি একজন পালাকার হিসেবে পরিবেশন করেছিলেন, ব্যক্তি মত দেননি। অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট’, বলেন সজীব।
অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক হাসান নাঈম।
তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন–পীড়ন বাড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তারই প্রতিবাদ দেখা যায়। বাউল আবুল সরকারের বিরুদ্ধে যে ব্লাসফেমির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পালার খণ্ডিত অংশ কেটে প্রচারের মাধ্যমে তথ্যসন্ত্রাসে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, শত শত বছর ধরে বাংলাজুড়ে পালা গান, বিচার গান, মহাজনী গান, কবিগান চালু আছে। ‘পালায় প্রশ্ন, সংশয়, তর্ক থাকবে এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে’, মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে গান পরিবেশন করেন বগা তালেব, আকাশ গায়েন, শাহ মুহাম্মদ শিপন, কমল কৃষ্ণ দাস, আবুল কালাম হাওলাদার, অভিবাদন দাস, অভিষেক রায় অর্চন, মো. ইমরান হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ভাণ্ডারী, জয়িতা অর্পা, রহমান জনি, মাহাবুব খালাসী ও নবীন কিশোর গোস্বামী।
আমানউল্লাহ খান/অমিয়/