দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরকে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ইবিসাস)।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ইবিসাসের সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা এবং নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর আক্রমণ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হস্তক্ষেপের বহিঃপ্রকাশ। যারা কলমের শক্তিকে ভয় পায়, তারাই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সত্যকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
ইবিসাস নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের অফিসে হামলা এবং দেশের একজন প্রবীণ ও দায়িত্বশীল সম্পাদককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি ও সুস্পষ্ট আঘাত। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে এ ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে, হামলাকারীরা গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলিক চেতনায় বিশ্বাসী নয়।
বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, সংবাদপত্রের অফিস কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। সাংবাদিক ও সম্পাদকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভিন্নমত দমন, সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা বন্ধ এবং ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে মিডিয়া হাউজ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা একটি অশনিসংকেত, যা পুরো সমাজ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'গণতন্ত্রের কথা বলে যদি কেউ সংবাদমাধ্যমে আগুন দেয়, অফিস ভাঙচুর করে কিংবা সম্পাদকদের প্রতি হাত তোলে, তবে তারা গণতন্ত্রের ন্যূনতম চেতনারও ধারক নয়। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই সাংবাদিক সমাজ কখনোই ভয় পেয়ে নীরব হবে না।'
ইবিসাস নেতারা অবিলম্বে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয় এবং নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নিয়ামতউল্লাহ/সুমন/