ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয় দখলচেষ্টার অভিযোগে থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু
Nagad desktop

পট পরিবর্তনের পর অস্থির রাবি, অভিযোগের তির রাকসুর জিএসের দিকে

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৬ এএম
পট পরিবর্তনের পর অস্থির রাবি, অভিযোগের তির রাকসুর জিএসের দিকে
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক চর্চাতেও বড় ধরনের রদবদল দেখা যাচ্ছে। তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। পোষ্য কোটা ইস্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে উসকানি ও হুমকিসহ ধারাবাহিক ঘটনায় গত কয়েক মাস ধরে অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে এই বিদ্যাপীঠ। এসব ঘটনার অধিকাংশের সঙ্গেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উঠে এসেছে।

পোষ্য কোটা ইস্যুতে সংঘর্ষ
চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১০টি শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন প্রশাসন ভবন থেকে গাড়ি নিয়ে বের হলে শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি আটকে দেন। প্রায় ২০ মিনিট তাকে গাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তার বাসভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

এতে উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জুবেরী ভবনের সামনে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনের গলা চেপে ধরে সিঁড়িতে ফেলে দেওয়া এবং উপ-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলামের দাড়ি ধরে টান দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে এসব চিত্র ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় সাবেক সমন্বয়ক ও বর্তমান রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কর্মবিরতির ডাক দেয়। অফিসার্স সমিতি ক্যাম্পাস শাটডাউন ঘোষণা করলে কয়েক দিন কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

বারবার পেছায় রাকসু নির্বাচন
নানা কারণে রাকসু নির্বাচন চারবার পেছানো হয়। নির্বাচন পেছানো নিয়ে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন প্যানেলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে শাখা ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল ২০টিতে বিজয়ী হয়।

ডিনদের পদত্যাগের আলটিমেটাম ও তালা
রাবিতে আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগ এবং ফ্যাসিজমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে ‘অপারেশন জিরো টলারেন্স ফর ফ্যাসিজম’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন তিনি।

গত ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে তিনি এ আলটিমেটাম দেন। পরে গত ২১ ডিসেম্বর ছয় ডিনের কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে একে একে তাদের ফোন করেন আম্মার। একই সঙ্গে তাদের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন। এরপর তাদের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন একদল শিক্ষার্থী। প্রথমে ডিনস কমপ্লেক্সে এবং পরে প্রশাসন ভবনে তালা দেওয়া হয়। দিনভর উত্তেজনার পর সন্ধ্যায় ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় প্রশাসন।

নিরাপত্তা শঙ্কায় শিক্ষকের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন রাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদ। গত ২১ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা নমনীয়তা উৎপাদন করবে, আমরা তাদের জুতা খুলে মুখে মারব ইন্শাআল্লাহ। রাবিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি চাকরি করে, তাদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখব।’

অরাজক পরিস্থিতির অভিযোগ ছাত্রদলের
আওয়ামীপন্থি ছয় ডিনের পদত্যাগের ঘটনাকে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে শাখা ছাত্রদল। ২১ ডিসেম্বর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ক্যাম্পাসে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের হুমকিমূলক বক্তব্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি অশোভন ও অছাত্রসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ জ্ঞানচর্চার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।’

আম্মারকে ঘিরে বিতর্ক
ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অভিযোগের তির ছুটছে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দিকে। যদিও তিনি দাবি করছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়েই তার সব ভূমিকা।

আম্মার বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে যা করি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই করি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেটা সমর্থন করে আমি সেটাই করি। আমি জানি শেষ পর্যন্ত হয়তো সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে পারব না। কিন্তু আমি শিক্ষার্থীদের জন্য যা করে যাব, সেটাই থেকে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যখনই কিছু করতে চাই, তখনই একটা পক্ষ বিরক্ত হয়। কখনো বিএনপিপন্থি, কখনো জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা। আমি দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরপেক্ষ কোনো শিক্ষক নেই। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের সঙ্গে নেই। যত দিন ক্যাম্পাসে আছি শিক্ষার্থীদের জন্যই কাজ করে যাব।’

উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নোমান ইমতিয়াজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মূলত পড়াশোনার জায়গা। কিন্তু বর্তমানে ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে সেটা বলা মুশকিল। এখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র প্রতিনিধিরা প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব ভুলে ভিন্ন কাজে বেশি আগ্রহী। একাডেমিক প্রশাসন ও রাকসু- সবই জাতীয় রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পড়ালেখার পরিবেশ বাস্তবেই বিঘ্নিত হয়েছে। মতাদর্শিক অবস্থান থাকবে, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। কিন্তু সেটা দিয়ে যদি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে আসে, তাহলে সেটা খুবই উদ্বেগজনক।’

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রয়াসন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি আমি ভালো বলতে পারছি না এই মুহূর্তে।’

এদিকে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল পরবর্তী-সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল। সেখানে রাবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ছাত্রদল ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে সক্ষম।’ এ বক্তব্যটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আলটিমেটাম দিলাম আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা যদি ক্যাম্পাসে ঢুকে তাহলে জোহা চত্বরে বেঁধে রাখব। রেগে গেল ক্যাম্পাসের ছাত্রদল আর বিএনপি! ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ একই ভাষায় বিবৃতি দিল। বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা ভিসির কাছে নালিশ দিলেন, তারা নাকি ক্যাম্পাসে আসতে ভয় পাচ্ছেন। বললাম লীগকে আর ভয় পাইতেছে বিএনপির টিচাররা।’

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা আগামী ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল হাসানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিটুল চৌধুরীর সহযোগিতায় এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মরণ, ব্যাচভিত্তিক পরিচিতি ও স্মৃতিচারণ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা, র‍্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

আগ্রহী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।

নিবন্ধন করা যাবে gbcreunion.com ওয়েবসাইটে।

শেখ জাহাঙ্গীর/এসএন

জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম
অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসাধারণ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ লাভ করেছেন। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়। এর আগে গত ৭ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ লাভ করায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার এই অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম পরিবেশ, বায়ু দূষণ ও প্রযুক্তি বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

নোবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
নোবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম
ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও ফ্যাকাল্টি অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজনবোধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগাদেশ বাতিল করতে পারবেন।

ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নোবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার এ নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব শিক্ষক থেকে নতুন উপ-উপাচার্য পেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কাওসার/রিফাত/

হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সহকারী প্রক্টর ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মবিনুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ মৌন মিছিলে শিক্ষকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে অংশ নেন।

প্রতিবাদ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষক নেতারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে শিক্ষকদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে।

প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর হাবিপ্রবিতে নানা ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনার বিচার হয়েছে, আবার কিছু ঘটনার বিচার হয়নি। সহকর্মী মো. মবিনুল ইসলামের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই আজকের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে শিক্ষক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রশাসন দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কৃষি অনুষদের অধ্যাপক ড. সাইফুল হুদা বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও এমন ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে থেকেও যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

এ সময় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচিত ঘটনারও স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গেলে আবরার ফাহাদ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর হামলার শিকার হন মো. মবিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সুলতান মাহমুদ/খাদিজা রুমি/ 

জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদে দুই দিনব্যাপী অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন আহমেদ জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ৪২টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রিলিমিনারি, কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল এবং গ্র্যান্ড ফাইনাল রাউন্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল লিগ্যাল স্টাডিজ (এসসিএলএস)-এর উদ্যোগে গত ৫-৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট দলের সদস্যরা হলেন- আইন বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া শুচি ও যাইদ ইকরাম এবং ২০২৩-২০২৪ সেশনের শিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসসুম।

আরিফ/নাঈম