দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সহকারী প্রক্টর ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মবিনুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ মৌন মিছিলে শিক্ষকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে অংশ নেন।
প্রতিবাদ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষক নেতারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে শিক্ষকদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে।
প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর হাবিপ্রবিতে নানা ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনার বিচার হয়েছে, আবার কিছু ঘটনার বিচার হয়নি। সহকর্মী মো. মবিনুল ইসলামের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই আজকের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে শিক্ষক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রশাসন দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
কৃষি অনুষদের অধ্যাপক ড. সাইফুল হুদা বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও এমন ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে থেকেও যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
এ সময় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচিত ঘটনারও স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গেলে আবরার ফাহাদ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর হামলার শিকার হন মো. মবিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সুলতান মাহমুদ/খাদিজা রুমি/