রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন ড. শামসুজ্জোহা। তিনি ১৯৬৯ সালে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে শহিদ হন। তিনি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে ইতিহাসে খ্যাত। রাকসু নানা সময়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন করলেও আজকে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) পক্ষ থেকে তাঁকে স্মরণে সাংস্কৃতিক বা স্মৃতিচারণমূলক কোনো আয়োজন করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাকসু আলাদা একটা বডি, তারা চাইলে আলাদা করে আয়োজন করতে পারত। চব্বিশের আন্দোলনেও জোহা স্যারের আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। রাকসুর প্রতিনিধিরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত, তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের দেশের সংস্কৃতি নিয়ে তাদের কাজ করবে এটাই প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান জোহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল রাকসু আলাদা করে কোনো আয়োজন করলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রসায়ন বিভাগের কেউ থাকবে না। এ ছাড়া প্রতি বছর জোহা দিবসের আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্লাবের পক্ষ থেকে জোহা স্যারের স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও এবার করা হয়নি।
এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসুর পক্ষ থেকে একটি সেমিনার করার কথা ছিল। এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করার পর তিনি জানান বিভাগের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে তাই আলাদা করে আর না করতে।
তবে সাংস্কৃতিক কোনো আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কাজটা সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদকের। তবে আমাদের ডকুমেন্টারি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এ মাসের বাজেট এখনো না পাওয়ায় আমরা সেটি করতে পারিনি।
এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করার কিছু থাকলে সেটা শহিদ জোহা স্যার। এক্ষেত্রে রাকসুর দায়বদ্ধবা আরও বেশি। অথচ আজকে একই দিনে তারা মেহেদী সন্ধ্যার আয়োজন করলেও জোহা স্যারকে নিয়ে কোনো আয়োজন করেনি। রাকসু নির্বাচনে একটা রাজনৈতিক সংগঠনের একক জয়ের কারণে তারা শুরু থেকেই এ দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয় না। শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত রাকসুর এ বিষয়টা শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, রাকসু নির্বাচনের পর থেকেই আমরা দেখছি বাইরের দেশের সংস্কৃতিকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। রাকসুর প্রতিনিধিরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত, তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের দেশের সংস্কৃতি নিয়ে তাদের কাজ করবে এটাই প্রত্যাশা। জোহা স্যারের কারণে সারা দেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা একটা অবস্থান রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য রাকসুর একটা আলাদা সম্পাদক আছে সুতরাং তারা চাইলেই স্যারের স্মরণে সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, রাকসু আলাদা একটা বডি, তারা চাইলে আলাদা করে আয়োজন করতে পারতো। চব্বিশের আন্দোলনেও জোহা স্যারের আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সুতরাং রাকসু চাইলে আজকের দিনকে কেন্দ্র করে আয়োজন করতে পারত।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন শহিদ শামসুজ্জোহা। এই দিনটির তাৎপর্য ধরে রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই ১৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শাকিবুল হাসান/সুমন/