ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইবি থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ফজলুর রহমান (ঘাতক কর্মচারী), বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস (সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার), শ্যামসুন্দর সরকার (সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক), মো. হাবিবুর রহমান (সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)।
সার্বিক বিষয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জোর্শেদ করিম অভিযোগ করে বলেন, আমার ম্যামের সঙ্গে ভালো সখ্যতা ছিল। সেই জায়গা থেকে আমি কিছু বিষয় জানি। আমাদের বিভাগের আন্তর্কোন্দল অনেক আগে থেকেই। ম্যাম সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ম্যামকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষক জড়িত ছিল। এক সাধারণ ফজলু থেকে খুনী ফজলু হওয়ার পেছনে আমাদের কর্মচারীরা দায়ী। আমার ম্যাম সৎ মানুষ ছিলেন। কোন জায়গায় কয় টাকা ব্যয় হয়েছে, বিভাগীয় খরচের ভাউচার বিল ভালোভাবে যাচাই বাছাই করতো। তবে এর আগে যারা চেয়ারম্যান ছিল বা দায়িত্বে ছিল তারা ভাগ করে টাকা পয়সাগুলো খাইতো। কিন্তু এখন খাইতে পারছে না বলে আমার ম্যামের ওপর চড়াও হয়েছে। এটাই হলো সত্য কথা। ফজলুর কল লিস্ট চেক করা হোক এবং বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জবাবদিহি করা হোক সত্য বের হয়ে আসবে।
এদিকে আজ সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তার সহকর্মী ও স্বজনরা এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জননী। তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর। ইমতিয়াজ-রুনা দম্পতির ঘরের চার সন্তানের মধ্যে প্রথম দুইজন কন্যা সন্তান, তারপর আরেকজন পুত্র সন্তান ও সর্বকনিষ্ঠ এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স ১১ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৯ বছর, তৃতীয় সন্তানের বয়স আড়াই বছর এবং তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চার বয়স মাত্র ৬ মাস। স্বামীর সঙ্গে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পাশেই একটি বাসায় বসবাস করতেন রুনা। এছাড়াও তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, ‘নিহতের স্বামীর পক্ষ থেকে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন আসমা সাদিয়া রুনা। এসময় কর্মচারী ফজলুর রহমান সেখানে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে। শিক্ষকের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক ফজলু নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিয়ামত/মাহফুজ