রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের পর থেকেই রাকসুর প্রতিনিধিদের মধ্যে বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ তিনজন অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় বিভিন্ন ইস্যুতে শিবিরপন্থি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি রাকসু ইস্যুতে গণমাধ্যমে সালাহউদ্দিন আম্মারের দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাকসুর প্রতিনিধিদের ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদকের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনার নিয়ে জিএস আম্মারের সঙ্গে বিতর্ক সম্পাদকের মতবিরোধ দেখা দেয়। এই আয়োজনের অতিথি নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসে সমালোচনা তৈরি হলে, আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে জানান আম্মার এবং তিনি সেই সেমিনারে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রাকসুর প্রতিনিধিরা ফেসবুকে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্টে সমালোচনায় জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে গত শনিবার রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, ‘এই প্রোগ্রাম আয়োজনের বিষয়ে আমি জানতে পারি পোস্ট হওয়ার পর।... ভিপিকে জানিয়েছি যে এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
সেমিনারের পোস্টার প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, ‘এখানে রাকসুর আয়োজন বা যেকোনো আয়োজনে সভাপতিত্ব করা বা স্বাগত বক্তব্য রাখা সৌন্দর্যের বিষয়। সেখানে পরাজিত জিএসকে (সিনেট প্রতিনিধি ফাহিম রেজা) একই জায়গা দেওয়া আমার পদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সিনেট সদস্যকে সম্মানিত করবেন, কিন্তু পরাজিত কাউকে জিএস হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলে সমস্যা আছে।... আজ যেমন দেখলেন কোনো ইস্যু হলে সবাই একসঙ্গে পোস্ট দেয় এটাই গ্রুপে হয়ে থাকে। একটি বিষয় তুললেই সবাই কাউন্টার দেওয়ার জন্য হাজির হয়।’
এদিকে জিএস আম্মারের মন্তব্যকে ‘লাগামহীন’ উল্লেখ করে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মার বেশ কয়েকটি মনগড়া ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে।... তিনি বলেছেন ভিপির কনসার্নে প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করা হয় এটিও ভিত্তিহীন ও খাপছাড়া বক্তব্য। ভিপি-জিএসের উপস্থিতিতে রাকসুর সভাপতির অনুমতিতে সম্পাদকগণ তাদের এজেন্ডা পাস করিয়ে নেন।’
সেমিনারে আম্মারের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোট নিয়ে যে সেমিনার হয়েছে, সেখানে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেছেন। অথচ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। মিডিয়ায় এক কথা, রাকসুর অধিবেশনে আরেক কথা এটি রাকসুর একজন প্রতিনিধির বক্তব্য হতে পারে না।’
শিবিরের সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারের দূরত্ব
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে শিবিরের সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। রাকসু নির্বাচনে মেহেদী সজীব, সালাহউদ্দিন আম্মার, ফাহিম রেজা, আকিল বিন তালিবসহ কয়েকজন সাবেক সমন্বয়কের সমন্বয়ে একটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পরে ফাহিম রেজা শিবিরের প্যানেলের জিএস প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। অন্যদিকে মেহেদী সজীব, আকিল বিন তালিব এবং সালাহউদ্দিন আম্মার আরেকটি প্যানেল গঠন করেন। পরে সেই প্যানেলের অন্যরা সরে দাঁড়ালেও আম্মার জিএস এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
ক্যাম্পাসে প্রচলিত আছে, মেহেদী সজীব ও আকিল বিন তালিব শিবিরের সঙ্গে সমঝোতা করে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে শিবির আকিল বিন তালিবকে সমর্থন দেবে এমন ধারণা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আকিল বিন তালিব গণমাধ্যমকে জানান, এটি মোটেও সত্য নয়। দুইটি পদে নির্বাচন করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি একটি পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এছাড়া কোনো প্যানেলের সঙ্গে সমঝোতা করা তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অংশ বলেও উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আম্মারের পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট প্রতিনিধি ও সাবেক জিএস প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা বলেন, ‘সেমিনারে আমি সিনেট প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। তাছাড়া রাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই আমি আম্মারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তার এমন ভাবনার কারণ আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি দেখেও কোনো জবাব দেননি।
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা নয়, স্বাভাবিক মতপার্থক্য আছে। আলাদা প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রতিনিধিদের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব থাকবেই। তবে আমরা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে একযোগে কাজ করছি। যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমরা সমন্বয় করি।’