জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১২ মে ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করতে না পারার প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রধান ফটক দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে দুই লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ১০ মিনিট অবরোধের পর তারা রাস্তা ছেড়ে দেন। এতে জাকসুর বাইরেও অনেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। ঘটনার ১৫০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ করেন তারা।
প্রতীকীভাবে রাস্তা অবরোধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
তারা জানান, সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার ১৫০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি থাকা সত্ত্বেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন মহলে চাপ প্রয়োগ করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষক-সিন্ডিকেট ও মহল আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, এর পেছনে দূরবিস্তারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। ভিকটিমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, আজকের এ কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বার্তা দিতে চাই, কোনো ষড়যন্ত্র বা জুলাই আন্দোলনের মতো ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা থাকলে তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।
জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “এ নিপীড়নকারীকে ধরা হবে এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। আমরা ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত ধর্ষণচেষ্টাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে যৌক্তিক দাবি আদায়ে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব”।
আমানউল্লাহ/নাঈম