ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে জাপান পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক? গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা ৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে! রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার তামু ও তার সুপারহিরো বাবার গল্প বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচ ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ খবরের কাগজের বাগেরহাট প্রতিনিধিকে প্রাণনাশের হুমকি! আজ বিশ্ব সংগীত দিবস সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

ব্র্যাক ব্যাংক বিক্রয় বিভাগের নারী কর্মীরা কেন সার্থক?

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ব্র্যাক ব্যাংক বিক্রয় বিভাগের নারী কর্মীরা কেন সার্থক?
ছবি: সংগৃহীত

শাহিদা খানম ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল বিক্রয় বিভাগে কাজ করছেন প্রায় ছয় বছর। এই সময়ে সংসার সামলানোর পাশাপাশি ব্যাংকের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রয়ের কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে রপ্ত করেছেন এবং নিজেকে নিয়ে গেছেন সেরা পারফর্মারদের তালিকায়।

শাহিদা বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে আলাদা মনোযোগ দেয়। ফলে পারফরম্যান্সও ভালো হয়।’

ব্যাংকটির আরেক বিক্রয় কর্মকর্তা কনিকা আক্তারের মতে, নারীদের প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের পজিটিভ ব্র্যান্ড ইমেজ তাদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রাহকেরা ব্র্যাক ব্যাংককে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাংক হিসেবে মনে করেন। ফলে তাদের কাছে গিয়ে আমাদের কখনো ব্যাংকের বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলতে হয় না।’

শাহিদা ও কনিকার মতো অন্তত ২০০ নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ও এসএমই ডিভিশনের অধীনে বিক্রয় বিভাগে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সেলস টিম পরিচালনা করছে ব্র্যাক ব্যাংক।

ভালো পারফরম্যান্সের নেপথ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা

ব্র্যাক ব্যাংকের নারী কর্মীরা ভালো পারফর্ম করার নেপথ্যে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই সামনে এনেছেন।

ব্র্যাক ব্যাংকে টানা ১২ বছর ধরে কর্মরত এসএমই বিভাগের ঊর্ধ্বতন বিক্রয় কর্মকর্তা উম্মে হাবিবার মতে, নারী কর্মীরা আকর্ষণীয় বেতনের চেয়ে কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও সহযোগিতার মনোভাবকে বেশি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘এসএমই বিভাগে যোগ দেওয়ার এক মাস পরই আমাকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে চলে যেতে হয়েছিল। তখন আমার সিনিয়ররা খুব সহযোগিতা করেছেন, সবাই বিষয়টিকে সহজভাবে নিয়েছিলেন। এটি আমার মধ্যে একটি ভালো লাগা তৈরি করেছিল।’

এ ছাড়া ব্যাংকের নিজস্ব ডে-কেয়ার সুবিধা থাকায় ছুটি শেষে নির্বিঘ্নে অফিসের কাজ করার পাশাপাশি মায়ের দায়িত্বও পালন করতে পেরেছি, যা আমাকে খুব স্বস্তি দিয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মীদের নিয়মিত ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় উল্লেখ করে হাবিবা বলেন, ‘সহকর্মীদের কাছ থেকে আমরা নিয়মিত কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পাই, যা আমাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া এখানে আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পাই, ফলে কাজটাকে বোঝা মনে হয় না।’

রিটেইল বিক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা জেবিন আক্তার মৌসুমী বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অনেক এগিয়ে থাকায় আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা ডিজিটালি দিতে পারি। ফলে শারীরিক পরিশ্রমের সক্ষমতার ক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান কমে আসে, যা আমাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

একই বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস মনে করেন, ব্র্যাক ব্যাংকের সব বিভাগের কর্মীদের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব নারীদের ভালো করতে উৎসাহ দেয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে কোনো বিভাগের কাছে সহায়তা চাইলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তা পাওয়া যায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নারী টিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে এখানে আমাদের কমফোর্ট জোনটা অনেক বড় হয়, যার প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সে।’

নারীদের কাজ করার আলাদা ধরনকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন লিডাররা

নারী সহকর্মীদের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তাদের কাজের প্রতি একাগ্রতা ও প্রতিনিয়ত দক্ষতা বাড়ানোর স্পৃহাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মাহীয়ুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকে নারীদের ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর একটি হলো, নারী কর্মীদের অনেকেরই বাসায় ফিরে সন্তানদের আলাদা করে যত্ন নেওয়ার তাগিদ থাকে। তাই তাদের লক্ষ্য থাকে অফিস সময়ের মধ্যেই নিজেদের কাজগুলো শেষ করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করায় এর প্রভাব সামগ্রিক পারফরম্যান্সে পড়ে। আর ব্যাংকও নারী কর্মীদের ওপর আলাদা করে অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয় না। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে আমরা কাজ গুছিয়ে করার প্রবণতাও দেখেছি।’

অফিসে যাওয়া-আসার সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্র্যাক ব্যাংক নারী কর্মীদের পরিবহন সুবিধা দেয় উল্লেখ করে মাহীয়ুল ইসলাম আরও বলেন, ‘নারীদের উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে নারীদের জন্য ‘তারা ফোরাম’ নামে একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মও করা হয়েছে, যেখানে নারীরা তাদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ জানাতে পারেন।’

ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, ‘নারীদের যোগাযোগ দক্ষতা অনেক ভালো। তারা গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার পাশাপাশি কাস্টমারের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তারা গ্রাহকদের আর্থিক বিনিয়োগ ও পরিচালনা বিষয়ে পরামর্শক হয়ে যান।’

তারা নানাবিধ ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কাস্টমারের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজন বা সমস্যার সমাধান করতে পারেন, যা তাদের পারফরম্যান্স ভালো করতে ভূমিকা রাখে।

মোমেনের মতে, নারীদের মধ্যে নতুন দক্ষতা অর্জন বা পুরোনো দক্ষতাকে আরও ঝালাই করে নিতে প্রশিক্ষণের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়। ফলে ব্র্যাক ব্যাংকের নারীরা দ্রুত দক্ষ হয়ে ওঠেন, যার প্রভাব পড়ে তাঁদের পারফরম্যান্সে।

নারী সহকর্মীদের আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয় মন্তব্য করে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন,‘ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল দেশের নারীদের দক্ষ জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করা। সেই ধারাবাহিকতাতেই আমরা বিক্রয় বিভাগে নারীদের প্রাধান্য দিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও আন্তরিক সহায়তা দিয়েছি। এসব কারণে এখন আমাদের এই টিমের নারীরা ভালো ফলাফল নিয়ে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

 

৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪১ এএম
৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি টি লিমিটেডের মালিকানাধীন ‘মির্জাপুর চা-বাগান’ এবারো শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার’ জিতে নিয়েছে। এছাড়াও ইস্পাহানির মালিকানাধীন নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক ‘জেসমিন আক্তার’ ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে তৃতীয়বারের মত পুরস্কার অর্জন করেছেন।

জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬’ এর পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ।

‘শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা-বাগান’ ক্যাটাগরিতে ইস্পাহানির মির্জাপুর চা বাগানের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব মির্জা সালমান ইস্পাহানি ও ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জনাব মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। এছাড়াও ইস্পাহানির নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক ‘জেসমিন আক্তার’ এবার ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

দেশের চা-শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে ‘জাতীয় চা পুরস্কার’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ আতাউর রহমান খান, এনডিসি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ,এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি; ‘টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান জনাব শাহ্‌ মঈনুদ্দীন হাসান এবং ‘বাংলাদেশীয় চা সংসদ’ এর সভাপতি জনাব কামরান টি রহমান। এছাড়াও বাংলাদেশের চা শিল্পের সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিগণ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

ডিজিটাল রূপান্তরের পরিবর্তিত বাস্তবতা, কৌশল, গল্প বলা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নতুন দিক নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ১২তম ডিজিটাল সামিট।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সামিটের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর পরিবেশনায় এবং ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন ও বিপণন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী নেতা, প্রযুক্তিবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। 

এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ছিল 'রিথিংকিং ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স'। দিনব্যাপী আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যাওয়া ভোক্তা আচরণ, প্ল্যাটফর্ম ডিসরাপশন এবং প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

আয়োজনে বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশে প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে হলে কৌশলগত স্পষ্টতা, সৃজনশীল উৎকর্ষ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। তাদের মতে, ডিজিটাল এখন আর শুধু একটি চ্যানেল নয়; বরং এটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি, আস্থা ও প্রাসঙ্গিকতার মূল ভিত্তি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ সিইও ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, প্রযুক্তি বাজার ও ভোক্তা আচরণকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য, সৃজনশীলতা ও কৌশলগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

সামিটে তিনটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল আলোচনা, তিনটি ইনসাইট সেশন, দুটি কেস স্টাডি এবং একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ অনুষ্ঠিত হয়। কিনোট সেশনগুলোতে বক্তব্য দেন কাজী মিডিয়া লিমিটেডের সিইও তানভীর ফারুক, এক্স-ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সির সিওও অ্যান্ড ডিরেক্টর দ্রাবির আলম এবং টিকটকের এমার্জিং মার্কেট পার্টনারশিপ (মেটাপ) বিভাগের প্রধান সালেহ ঘানায়েম।

সেশনগুলোতে আলোচনায় উঠে আসে অ্যালগরিদম-চালিত ডিজিটাল বিশ্বে মানবকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, সোশ্যাল-ফার্স্ট মার্কেটিং, ক্রিয়েটর ইকোনমির উত্থান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা এবং ব্র্যান্ড এনগেজমেন্টের ভবিষ্যৎ।

প্যানেল ও ইনসাইট সেশনে অংশ নেন গুগল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পার্টনার ডিরেক্টর আহসানুর রহমান, অ্যাক্সেনটেক পিএলসি’র হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন মুনাফ মোজিব চৌধুরী, ইগনিশিয়া থ্রি সিক্সটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা উম্মে সালমা ঝুমুর, গিকি সোশ্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাদী হাসান সাগর, এফসিবি বিটোপির নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ খান ইমরান, ফাস্টকম এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইয়াসিন নুর এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রফিউদ্দিন আহমেদসহ অনেকে।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ডিজিটাল সামিট বর্তমানে দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং ও যোগাযোগ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান-বিনিময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন ডিজিটাল কৌশল, উদ্ভাবন এবং শিল্পের রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এবারের আয়োজনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল অ্যালেফ গ্রুপ, বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ)। নলেজ পার্টনার ছিল মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি), হসপিটালিটি পার্টনার লা মেরিডিয়ান ঢাকা, অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং পিআর পার্টনার ব্যাকপেজ পিআর।

এবারের সামিটকে আয়োজকরা ডিজিটাল কৌশল, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্তরা/

পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান প্রাণ ডেইরী লিমিটেড এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান-এটিইসি।

সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘সবুজশক্তি বায়োডাইজেস্টার’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের ২৭টি জেলায় দুগ্ধ খামারিদের জন্য পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা হবে।

এই অংশীদারিত্বের আওতায় এটিইসি আধুনিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট সরবরাহ করবে, যার মাধ্যমে গরুর গোবর থেকে গৃহস্থালির রান্নার জন্য পরিচ্ছন্ন বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য জৈব সার তৈরি হবে। প্রাণ ডেইরী দেশের ২৭টি জেলায় বিস্তৃত তাদের দুগ্ধ খামারিদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে খামারিরা রান্নার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হবেন এবং জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি গ্রামীণ পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা এবং এটিইসি অস্ট্রেলিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভাশীষ ভৌমিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রাণ ডেইরীর মাঠ পর্যায়ের টিম খামারি শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে এটিইসি খামারি প্রশিক্ষণ, পণ্য সরবরাহ, বায়োডাইজেস্টার স্থাপন এবং পরবর্তী সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “প্রাণ ডেইরী দীর্ঘদিন ধরে দুগ্ধ খামারিদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে এবং এই উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে, যা খামারিদের জন্য সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করবে।”

শুভাশীষ ভৌমিক বলেন,“এই অংশীদারিত্ব গ্রামীণ কৃষি পরিবারগুলোর জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে প্রাণ ডেইরী লিমিটেডের পক্ষে চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শরীফ উদ্দিন তরফদার, অপারেশন ম্যানেজার জিহাদুল কবির, হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, এবং এটিইসি-এর পক্ষে হেড অব সেলস মোঃ হাসিবুর হাসান রহমান, এসিসটেন্ট ম্যানেজার নাফিউল ইসলামসহ দুই পক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশব্যাপী মোবাইল হেলথকেয়ার উদ্যোগ ‘ছাপ্পান্ন হাজার স্কয়ার মাইল জুড়ে’-এর অংশ হিসেবে প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকে ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। 

খিলগাঁওয়ের বালুরপাড়ে অবস্থিত আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া ও বেগম শায়েস্তা নূরানী হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়।

হেলথ ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি তার এলাকার অসহায় মানুষদের সেবাদানে পরিচালিত এই ক্যাম্পটিকে সাধুবাদ জানান এবং আয়োজক স্কয়ার গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে স্থানীয় চিকিৎসা-বঞ্চিত ও দুস্থ মানুষদের চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সেবাগ্রহীতাদের বিনামূল্যে রক্তচাপ পরিমাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার সুবিধা দেওয়া হয়।

প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর মানবসেবার আদর্শে দেশের ৫৬ হাজার স্কয়ার মাইল জুড়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মোবাইল হেলথকেয়ার উদ্যোগটি ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ১৪টি জেলার ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এ
উদ্যোগের আওতায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও ঔষধ সেবা গ্রহণ করেছেন।

অন্তরা/

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক ও দেশীয় নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে টেকসই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
 
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। 
 
রাজধানীর গুলশানে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 
 
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে করের আওতা সম্প্রসারণ, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন এবং সমতাভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফিকি। 
 
ফিকি সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি একটি ইতিবাচক ও তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য বাজেট। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা, গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রদত্ত প্রণোদনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর তুলনামূলকভাবে কম পড়বে। 
 
সংবাদ সম্মেলনে ফিকির ট্যাক্স কনসালট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বাজেটের বিষয়ে চেম্বারের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন রোডম্যাপ প্রণয়নের সুপারিশ করেন তিনি। 
 
স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের উচ্চ স্তরে দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অথচ নিম্ন স্তরে দাম বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। এভাবে দাম বাড়ানো কোনো কার্যকরী উপায় নয়। এতে সিগারেটের অবৈধ বাজার বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি শেয়ার বাজারে তামাক কোম্পানির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। 
 
এ বিষয়ে রূপালী হক চৌধুরী বলেন, দেশে তামাক কোম্পানিকে ৮৩ শতাংশ কর দিতে হয়। এটি এ খাতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কর। এর উপর যদি অবৈধ বাজার বেড়ে যায়, তাহলে কোম্পানিগুলো দুর্বল হয়ে যায়। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে আসবে।
 
তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত তামাক কোম্পানিকে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে বিবেচনা করা। হয় তামাক কোম্পানি থাকবে, না হয় থাকবে না। থাকলে বৈধ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবেই এদেরকে ট্রিট করতে হবে।’ 
 
সিগারেটের দাম নিম্নস্তরে কম বাড়ানো ও উচ্চ স্তরে বেশি বাড়ানোর প্রভাব বিদেশি বিনিয়োগের ওপর পড়বে কিনা- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রূপালী হক চৌধুরী বলেন, ’এটা তো অবশ্যই। আমরা বারবার বলছি, রাজস্ব আদায়ে প্রিমিয়াম ও লোয়ার সেগমেন্ট – সবগুলোরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।‘
 
সিগারেটের উচ্চ স্তরের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়ে গেলে নিম্ন স্তরের অথবা অবৈধ সিগারেটের বিক্রি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রূপালী হক চৌধুরী। এ ধরনের বিষয় দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগকারীকে নিরূৎসাহিত করে বলে মনে করেন তিনি।  
 
তিনি বলেন, সিগারেট খারাপ হলে সবার জন্যই খারাপ। কেন এক্ষেত্রে এতো বৈষম্য থাকবে? প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তো বলা যাবে না তারা বেশি করে সিগারেট খাক। কিন্তু প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে যে জিনিসটা হচ্ছে সেটা হলো ওই কোম্পানির সাস্টেইনিবিলিটিটা একটা প্রশ্নের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। দেশি কোম্পানি হোক অথবা বিদেশি হোক। এই জিনিসটা যৌক্তিক করতে হবে। 
 
এছাড়াও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে রূপালী হক বলেন, বাজেটে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। অতীতে এ ধরনের ঘাটতি পূরণে পরোক্ষ কর ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। এতে নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন খাতে কার্যকর করহার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি হয়ে যায়। তিনি কর ব্যবস্থাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 
 
সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ধরে রাখার লক্ষ্যে কার্যকর করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানায় ফিকি। 
 
ফিকির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, পরিচালক হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির এবং চেম্বারের ট্যাক্স কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।