ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি
Nagad desktop

জেলায় জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
জেলায় জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং
ছবি : খবরের কাগজ

লোডশেডিংয়ের কবলে চরম ভোগান্তিতে দেশের মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎসংকটে বোরো খেতে সেচ দেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহ, তার ওপর লোডশেডিংয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঈদের কেনাবেচায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও কোথাও তারের সাহায্যে দূরের জেনারেটর থেকে বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে মোমবাতি জ্বালিয়েও রান্না হচ্ছে অনেক পরিবারে। দেশের ১৯টি জেলা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।    

রাজশাহীতে অতিষ্ঠ জনজীবন :
চৈত্রের শেষ দিকে এসে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে এমনিতেই অসহনীয় দিনযাপন করছে সবাই। তার ওপর গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের কারণে দুপুরের পর রাজশাহী শহরের প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে গাছের ছায়ায় বসে থাকছেন শ্রমজীবী মানুষ। উপজেলা শহরসহ গ্রামেও দেখা মিলছে একই চিত্র। বিশেষ করে ইফতারের পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ এলেও তারাবি নামাজের সময় আবার একই অবস্থা। রাত ১১টার পর থেকে সাহরির আগে একাধিকবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। প্রতিবার আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হয়। 

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো) রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. জাকির হোসেন খবরের কাগজকে জানান, বিদ্যুতের মেইনট্যানেন্সের কাজ চলমান থাকায় দিনের বেলাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। রাতের বেলা বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায় ও জমিতে সেচপাম্পগুলো পুরোদমে চালানো হয়। তাই বিদ্যুতের ওপর চাপ পড়ে। এ কারণে রাতে লোডশেডিং হয়। রাজশাহী বিভাগের বিদ্যুতের গড় চাহিদা ৩৮৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ হচ্ছে ৩৭০ মেগাওয়াট। গত বৃহস্পতিবার রাতে চাহিদা ছিল ৩৭৫ মেগাওয়াট, পাওয়া গেছে ৩৭০ মেগাওয়াট এবং রাত ৯টায় ৪৫০ মেগাওয়াট চাহিদা ছিল, পাওয়া গেছে ৩৮০ মেগাওয়াট। 

সিরাজগঞ্জে তাঁতশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত:
বোরো মৌসুমে লোডশেডিংয়ের কারণে চলনবিল এলাকায় ধানখেতে সেচ দিতে না পারায় চরম অসুবিধায় পড়েছেন কৃষকরা। এ ছাড়া ঈদ মৌসুমে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প এলাকায় কারখানাগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। কারখানার মালিকরা ডিজেলচালিত জেনারেটরের সাহায্যে পাওয়ার লুম ও তাঁত কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছেন। রোজার দিনে সাহরি ও ইফতারের সময় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

লোডশেডিং তাঁত কারখানা বন্ধ, ছবিগুলো গতকাল সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চালা এলাকা থেকে তোলা হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম শিশির

খুলনায় চরম ভোগান্তি:
শহরে প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর কম্পিউটারের দোকানগুলোতে দীর্ঘসময় সব কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পল্লীবিদ্যুতের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি আরও বেশি। সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিং হতে থাকে। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)’র নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, খুলনা-বরিশালসহ ওজোপাডিকোর আওতায় ২১ জেলায় শনিবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে পল্লীবিদ্যুতের আওতায় বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে ২১ জেলায় মোট চাহিদা ছিল ১৯০০ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৫০০ মেগাওয়াট। 

চট্টগ্রামে দিনের শুরুতে ও শেষে লোডশেডিং: 
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ১২ বার যাওয়া-আসা করে বিদ্যুৎ। দিনের শুরু ও শেষ হয় লোডশেডিংয়ে। চট্টগ্রামের উৎপাদন এবং লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে ইফতার ও সাহরির সময় প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বেড়ে যায় লোডশেডিং। চট্টগ্রামের ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরবরাহ রয়েছে ১২০০ মেগাওয়াট।’

বাগেরহাটে ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং:
একদিকে চৈত্রের দাবদাহ, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং। এর ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, কারখানার উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাগেরহাটে দিনে ও রাতে অন্তত ৫/৬ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে আরও বেশি। বাগেরহাট পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক খবরের কাগজকে বলেন, এখানে ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৭ মেগাওয়াট। পাচ্ছি মাত্র সাড়ে চার মেগাওয়াট। দিনে ও রাতে ৩ থেকে ৪ বার লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা হয়।

বরিশালে হাঁপিয়ে উঠেছেন নগরের মানুষ:
সপ্তাহ ধরে বরিশাল নগরীসহ বিভাগের ৬ জেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে বরিশাল নগরের মানুষ। ভয়াবহ অবস্থা গ্রামগঞ্জে। সেখানে দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। দ্রুতই সমাধান হওয়ার কথা জানিয়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বরিশাল পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ। তিনি জানান, বর্তমানে যে লোডশেডিং হচ্ছে তা নিয়মিত লোডশেডিংয়ের অংশ। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঈদকে সামনে রেখে জেলা, উপজেলা সদরে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হওয়ায় চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সন্ধ্যা থেকে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মহানগরসহ বিভাগের ছয় জেলায় প্রতি দিনের গড় চাহিদা রয়েছে ৫৪৬ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৩৬০-৪০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতি একঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। 

পটুয়াখালির লোডশেডিং: 
পটুয়াখালী জজকোর্ট এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রচুর কম্পোজ ও ফটোকপি হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সময় লোডশেডিংয়ের কারণে ফটোকপি ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করেন। হাসিবুর রহমান

যশোরে ঘন ঘন লোডশেডিং:
জেলার চেয়ে উপজেলা পর্যায়ে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। গত সপ্তাহে তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমের মাঝে বিদ্যুতের লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ জনজীবন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিরক্ত মানুষ। গ্রামে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের বিতরণ বিভাগ-২ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী দ্বীন মহম্মদ মহিন খবরের কাগজকে জানান, এলাকায় দৈনিক চাহিদা ৬১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ৪৯ মেগাওয়াট। ফলে কিছু সময় লোডশেডিং হচ্ছে। যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে রাতে বিদ্যুৎ চাহিদা থাকে ১৫৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ মাত্র ১১২ মেগাওয়াট। দিনের বেলায় চাহিদা ১৩৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১০১ মেগাওয়াট। 

গাইবান্ধায় টানা ৫০ মিনিট করে লোডশেডিং:
শহরে একটানা ৫০ মিনিট করে লোডশেডিং হচ্ছে। তারাবির নামাজ ও ঈদের কেনাকাটার সময়ে হঠাৎ লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। আইপিএস, ইউপিএস এবং জেনারেটরনির্ভর হয়ে গেছে সবাই। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং আরও বেশি। কর্তৃপক্ষ বলছে, শিগগিরই লোডশেডিং কমে আসবে। পল্লী বিদ্যুতের পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫৫ মেগাওয়াট। ৪ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ সময়ে ঘাটতি ছিল ১০ মেগাওয়াট। জেলায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) দুটি ফিডার রয়েছে। ফিডার-১ এ চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে ৭ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে, ঘাটতি থাকছে ৭ মেগাওয়াট, ফিডার-২ এ চাহিদা ৯ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ  রয়েছে ৫ মেগাওয়াট। ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। নেসকোর ফিডার-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসিফ জানান, তাপমাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে ঈদের বেচাকেনায় শপিংমলগুলো অনেক রাত অবধি খোলা থাকে।  চাহিদার শতকরা ৫০ ভাগ সরবরাহ রয়েছে। 

লক্ষ্মীপুরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং:
জেলায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ফলে জেলার সবকটি উপজেলা শহর এবং হাটবাজারে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। সাহরি, ইফতার ও তারাবির নামাজের সময়ও বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ঠিকমতো পানি সরবরাহ হচ্ছে না। এতে অজু, গোসল ও রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম তাজুল ইসলাম জানান, দৈনিক ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ সর্বোচ্চ ৮০ মেগাওয়াট।

মাগুরায় সেচকাজ বিঘ্নিত:
ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রের মাধ্যমে সময়মতো বোরো ফসলের জমিতে পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অতিরিক্ত খরচে ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এখানে চাহিদা প্রতিদিন ১৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ সর্বোচ্চ ১২ মেগাওয়াট। লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। 

ময়মনসিংহে ৭-৮ ঘণ্টা লোডশেডিং:
জেলার অনেক এলাকায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনজীবন নাজেহাল হওয়ার পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। জমিতে চাহিদামতো সেচ দিতে না পারায় বেশ কিছু এলাকার উঠতি বোরো ফসলের খেত ফেটে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে মরে যেতে পারে ধানগাছ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ময়মনসিংহের প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, এখানে পিডিবির বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২২০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ২২০ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় তিনটি অঞ্চলে চাহিদা রয়েছে ২২০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ মেগাওয়াট। 

নড়াইলে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং:
নড়াইলে প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। প্রতিদিন তারাবির সময় লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের আওতায় গ্রামগুলোতে অর্ধেকের বেশি সময় লোডশেডিং থাকছে। কালিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইকবাল আহম্মেদ বলেন, পিক আওয়ারে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট, অফ পিক আওয়ারে ১২ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে পিক আওয়ারে ১০ মেগাওয়াট, অফ পিক আওয়ারে ৯ মেগাওয়াট।

লোহাগড়া পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুজ্জামান বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে পিক আওয়ারে ১৩ মেগাওয়াট, অফ পিক আওয়ারে ৯ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম। 

নরসিংদীতে জেনারেটর সার্ভিস:
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে নরসিংদীতে জেনারেটর সার্ভিস চালু হয়েছে। লোডশেডিংয়ের সময় দোকানপাট ছাড়াও বাসাবাড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেনারেটরের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। দোকানপাট ও বাসাবাড়ির মালিকরা উচ্চমূল্যে জেনারেটরের বিদ্যুৎ কেনেন। মাধবদী শহরে জেনারেটর সার্ভিস দেন জামাল বাদশা। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন জ্বালানি তেলের দামও বেশি। রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে আমরা চেষ্টা করি লোডশেডিং হলে জেনারেটর সার্ভিস ভালো দিতে।’ নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার শেখ মানোয়ার মোরশেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবাহ কম। তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’ 

রাজবাড়ীতে দুরবস্থা:
কয়েক দিন ধরেই রাজবাড়ীতে বিদ্যুতের দুরবস্থা বিরাজ করছে। শহরের চেয়ে গ্রামে সমস্যা বেশি। সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকার কারণে ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতার উপস্থিতি কম। ব্যবসায়ীরা অস্বস্তিতে আছেন। রাজবাড়ী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ বলেন, জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ মেগাওয়াট। গত দুই দিন ধরে ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অর্ধেক দিতে হয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে। বাকি বিদ্যুৎ দিয়ে ওজোপাডিকোর গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো হয়। যে কারণে লোডশেডিং চলছে। 

সিলেটে মোমবাতি জ্বালিয়ে রান্না:
সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার গৃহিণী তাসমিনা বেগম মাছ কাটা শেষে সবজি কাটা শুরু করেছেন, তখনই বিদ্যুৎ চলে গেল। পরে মোমবাতি জ্বালিয়ে রান্না শুরু করেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাত ১২টায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘণ্টাখানেক পর বিদ্যুৎ এলেও ১০ মিনিটের ভেতর আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে মোমবাতি জ্বালিয়ে রান্না শেষ করেছি। কারণ সারা দিন বিদ্যুৎ থাকে না, তাই চার্জলাইটেও চার্জ নেই। রাত সাড়ে ৩টায় বিদ্যুৎ আসে। সাহরি খাওয়া শেষ করে বিছানায় ঘুমাতে গিয়েছি তখন আবার বিদ্যুৎ চলে যায়।’ তাসমিনার মতো এমন ভোগান্তি সিলেটের সব পরিবারেই। অতিষ্ঠ হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে সড়ক অবরোধ করেন ওসমানীনগরের বাসিন্দারা। এর আগে ৩১ মার্চ রাতে দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি এলাকার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর কেপিআইভুক্ত কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানাকে মারধর করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি। 

টাঙ্গাইলে প্রায় ২০ ঘণ্টা লোডশেডিং:
গ্রামে গ্রামে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে ভোগান্তি এখন চরমে। রমজানের প্রতিদিন সাহরি ও ইফতারের সময়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মোহাম্মদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, এই জোনে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখের বেশি। এলাকায় ছোট-বড় মিলে ৪৫০টি শিল্প-কারখানাসহ ও আবাসিক গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। 

মাদারীপুরে আইপিএস ও চার্জার ফ্যান বিক্রি বেড়েছে:
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চার্জার ফ্যান ও আইপিএস বিক্রি বেড়েছে। সৌর বিদ্যুতের প্যানেলের বিক্রিও বেড়েছে। শিবচর পৌর বাজারের দেশ ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী কাওসার আহমেদ খবরের কাগজকে জানান, গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সাইজের চার্জার ফ্যানের বিক্রি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে আইপিএস বিক্রি। মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মো. জোনাব আলী খবরের কাগজকে বলেন, ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি ৭০ থেকে ৭২ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পরে লোডশেডিং দেওয়া হয়। 

নওগাঁয় ধানের জমি চৌচির:
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফসলে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ধানের জমি পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। নদী ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কোথাও সেচ মিলছে না। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

নেত্রকোনায় সেচের অভাবে হাওরে ফসল নষ্ট:
ঘন ঘন লোডশেডিং ও প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অভাবে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার খুরশিমূল গ্রামের কৃষক অজয় দাস জানান, গ্ৰামে পল্লী বিদ্যুৎ ঠিকমতো আসে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বোরো ধানের জমিতে গরমে সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছে। এতে উঠতি বোরো ধান রোগাক্রান্ত হয়েছে। ডিঙ্গাপোতা হাওরে কোথাও কোথাও ধানে চিটা দেখা গেছে। ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নেত্রকোনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাহমুদ এলাহী জানান, টানা দাবদাহে ও রমজান মাসে সাহরি ও তারাবির নামাজের কারণে বিদ্যুতের প্রযে়াজন অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

সিলেটে রমজানের শুরুতেই লোডশেডিং :
সিলেটে রমজান মাসের শুরু থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ফলে নগরবাসীকে অন্ধকারেই সারতে হয় ইফতার ও সাহরি। শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে রান্নার কাজ করেন এক গৃহিণী। ছবিটি নগরীর উত্তর বাগবাড়ি এলাকা থেকে তোলা। ছবি মামুন হোসেন

‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন
অতিথিদের কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করছেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতে সম্ভাবনাময় পরিবর্তনের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে 'সবুজ সাথী’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলায় রয়েল মার্ক হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) প্রবর্তিত এই সম্মাননা সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের নেতৃত্বাধীন দপ্তরকে।

সম্মাননা প্রবর্তনকারী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রবর্তন করা হয়েছে। দেশে প্রতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ‘সবুজ সাথী’ দেওয়া হয়। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত সারা দেশের মধ্যে অনন্য বিবেচনায় এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের একাগ্রতায় সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তার কার্যক্রম নিয়ে গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে খবরের কাগজে ‘একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। নাহিদা খান সুর্মির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও  ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখারবসদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম। আলোচনায় অংশ নেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল অ্যাসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমেদ,  প্রবাসী বিনিয়োগকারী উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী  ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম,  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, ড্যাব সভাপতি  ডা. শামিমুর রহমান,  বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও কুইন্স হসপিটালের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, লেখক ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী,  শ্রীহট্ট আর্কিটেকের স্বত্ত্বাধীকারী  মিনহাজুল আবেদিন চৌধুরী ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘১০ লাখ লোকের বসবাস এই শহরে। ইতিহাস ঐতিহ্য ও পযর্টনের শহর হিসেবে সিলেটের পরিচিতি দেশ বিদেশে সর্বত্র আছে। তাই এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সিলেট শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর এই পরিচ্ছন্নতার কাজটা করে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সত্যি কথা বলতে সিসিকের বর্জ্য বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের বেতনই আমরা ঠিকভাবে দিতে পারি না। কারণ সিসিকের সেই পরিমান আয় নেই। নগরীর যে অংশ বর্ধিত হয়েছে সেই অংশে এখনো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনা যায়নি নানা কারণে। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল তারাও পাচ্ছেন।  এত কিছুর মাঝেও আমাদের বর্জ্য বিভাগের দায়িত্বশীল অফিসার ও  কর্মীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।  আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাকে সিসিকের দায়িত্ব দেওয়ার পর বলেছেন জনগণের জন্য কাজ করতে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন। তার দিকনির্দেশনা মতই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবারের বাজেটে পরিবেশ ও নদীর কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বাজেটে দেশের পরিবেশের কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কতটুকু রাখা হয়েছে সেই তর্কে না গিয়ে সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ অন্তত তিনি তো দেশের পরিবেশ প্রতিবেশের কথা চিন্তায় রেখেছেন।’

‘সবুজ সাথী’ সম্মাননা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত চার বছর ধরে আমরা এই সসম্মাননা দিয়ে আসছি। আমার সবসময়ই সিটি করপোরেশন,  পৌরসভাসহ  বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাই করে থাকি।  তবে এবার যখন সম্মাননার জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের নাম এলো তখন মনে হয়েছে খারপ বা ভুল কাজের সমালোচনা করা যেমন জররি, তেমনি ভালো কাজের জন্য সম্মাননা জানানোও জরুরি। এতে যারা কাজ করেন তাদের কর্মস্পৃহা বাড়ে। তবে আমি সিসিক কতৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাবো, আপনার যদি সিলেট নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশ ভালো রাখতে চান, তাহলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এসব পরিকল্পনার কাজে আমাদের সম্পৃক্ত করুন। তাহলে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে।’

‘সবুজ সাথী’ সম্মাননা গ্রহণের পর সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমাদের নয়, সমগ্র সিলেট নগরবাসীর। সবুজ সাথী সম্মাননা সিলেট মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় পরিবর্তন আনবে। এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। এই স্বীকৃতি কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নয়; এটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য সিলেট নগর গড়ে তোলার অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত সকল নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।’

এসএন/

 

রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের এক ফুটবল সমর্থক অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করেছেন। এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দল ত্যাগ করে আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুর টাউন হলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

ফুটবলপ্রেমী ওই যুবকের নাম আবু হুজাইফা। তিনি রংপুরের পূর্ব গেট মেডিকেল পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রংপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজে বিএসসি ইন নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী।

আবু হুজাইফা বলেন, ‘আমার সময়ে ব্রাজিলকে কোনো শিরোপা জিততে দেখিনি। তবে যখনই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, আর্জেন্টিনাকেই সফল হতে দেখেছি। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের স্পিরিট আমাকে মুগ্ধ করেছে। আগে জানতাম না যে আর্জেন্টিনা এত শক্তিশালী দল। তাই ব্রাজিল ত্যাগ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আমার স্বপ্ন, ‘আর্জেন্টিনা প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ব্যর্থতা দেখেছি। ২০১৮ সালেও দেখেছি তারা সফল হতে পারেনি। ২০২২ সালেও শিরোপা জিততে পারেনি। শুনেছি ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে, কিন্তু আমার জীবদ্দশায় তাদের শিরোপা জিততে দেখিনি। তবে ব্রাজিলকে সাত গোল খেতে দেখেছি।’

দুধ দিয়ে গোসল করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলে ব্রাজিলের গায়ে গন্ধ। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে সেই গন্ধ দূর করে আর্জেন্টিনায় চলে এলাম।’

আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব রংপুরের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, ‘আর্জেন্টিনা একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় দল। রংপুরের এক ব্রাজিল সমর্থকের দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। আমরা আশা করি, সময়ের সঙ্গে আরও অনেক ব্রাজিল সমর্থক আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবে যোগ দেবেন।’

সেলিম সরকার/রিফাত/

কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি
ধর্ষক মীর ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শহরের বলিদাপাড়া এলাকায় একটি ভবনের সাবলেট বাসায় বেশ কিছুদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার রাতে তাদের সঙ্গে সাবলেটে বসবাস করা ওই প্রতিবেশীর ১১ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ফারুক।

শনিবার সকালে শিশুটি এ ঘটনাটি তার মায়ের কাছে জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত মীর ফারুককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজুর রহমান/এসএন 

সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব কারাগারে থাকা এসি বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যুর ২৮দিন পর কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে মরদেহ আনা হয়েছে। কারাগারে নিহত সৌদি প্রবাসী শাকিল (২৮) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ওমর ফারুকের ছেলে। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র,পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের সহযোগিতায় সরকারি উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে ভোর ৫টার দিকে মরদেহটি কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে আনা হয়।

নিহতের চাচা বকুল মেম্বার বলেন, ২০১৯ সালে অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন এবং কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকিল দেশে ফেরার জন্য জামিন করাতে প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানান। পরে তার বাবা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় শাকিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফোনে তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন জেলখানায় কষ্টে থাকার কথা। এছাড়াও শরীর শুকিয়ে যাওয়া এবং জেলের খাবার খেতে না পারার কথাও বলেছিলেন । জেল হাজত থেকে আইনিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেছিলেন কিন্তু শেষে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে।

গত ১৫ মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবার জানায়, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ অবস্থায় বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফের নজরে আনা হলে তিনি প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

শাকিলের বাবা ওমর ফারুক বলেন, আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না।আমার ছেলে শেষ পর্যন্ত জীবিত দেশে ফিরতে পারলো না। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।

শাকিলের ফুফু মোছা. চায়না বেগম বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন আগে তার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন শাকিল জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় এবার মোহাম্মদ সোহেল নামে পুলিশের এক সোর্সকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের একজন উপকমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের সোর্স মোহাম্মদ সোহেল নগরীর গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আটক সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এ ঘটনায় খুলশী থানা-র উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দুই পুলিশ সদস্যকে একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছি। কোনো ছাড় নয়।’

জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের মুখে নাঈমের সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে পুলিশ। সেখানে পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সোর্স হিসেবে ছিলেন পাঞ্জাবি পরা ওই সোহেল। পুলিশের হাতে থাকা পাইপের পাশাপাশি সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবির সদস্য পরিচয় দেন। তখন সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে খুলশী থানায় নিয়ে যায়।

নাঈমের বাবা মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন রাতে সোহেলকে থানায় নিয়ে গেলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে নিজের পাশে বসিয়ে রাখেন। থানার ভেতরে বসে সোহেল যখন এসির বাতাস খাচ্ছিলেন, তখন গভীর রাতে নাঈমের বাবাকে ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাকে থানার বাইরে ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং পরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়।’

নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় নাঈমের অপর ভাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই মামলায় সোর্স সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।’

রিফাত/