‘ভাগ্যক্রমে এই উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। বিভিন্ন কথা আসছে, বিভিন্ন হুমকি-ধমকি আসছে। যতই হুমকি-ধমকি আসুক, আমি তো ছাত্রলীগ থেকে পরীক্ষিত হয়ে আজকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। এই হুমকি-ধমকিকে ভয় করার মতো লোক তো আমি না। বিগত সময়ের নির্বাচনে আমার কেন্দ্রের ভোট লুট করা হয়েছিল। তা প্রতিহত করতে চারজন পুলিশকে আমরা আহত করেছিলাম। ৭০ রাউন্ড গুলি রেখেছিলাম। পুলিশের ৩টি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এর পরও তো আমি পিছপা হইনি। আজকে আপনারা যারা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আপনারা কী করেছেন? কিছুই করেননি।’
গত শুক্রবার বৌলাই ইউনিয়নের পাটধা কুড়ের পাড় বডু মার্কেটে গ্রামের জনসাধারণকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন। সেই সভার ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মো. মুজিবুর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওই ভিডিওতে আরও শোনা গেছে, ‘৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটা মসজিদও বাদ নেই যে, আমি বরাদ্দ দিই নাই। পরিশেষে আপনারা বলেছেন, গাবতলী বাজারের মসজিদে বরাদ্দ দিতে, আমি গাবতলী বাজারের মসজিদে বরাদ্দ দিয়েছি। গাবতলী বাজারে আমি টিউবওয়েল স্থাপন করেছি। আপনাদের এই বডু মার্কেটে পানির সুব্যবস্থা ছিল না। আমি পানির সুব্যবস্থা করেছি হাজার ফুটের টিউবওয়েল স্থাপন করে। বিগত উপজেলা নির্বাচনে আমি আপনাদের বলেছিলাম, আমাকে জায়গা দেন, আমি একটি বাথরুমের সুব্যবস্থা করে দেব এই বডু মার্কেটের জন্য।’
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বৌলাই ইউনিয়নের পাটধা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরের দিন ২৯ নভেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি (মামলা নং-২৮) করে। এ মামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। এ মামলায় পুলিশও আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে জানিয়ে মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ওই মামলার চার্জশিটে আমার নাম রয়েছে।’
বৌলাই উপনির্বাচনে অপর দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন ও মোশাররফ হোসেন বাবুল বলেন, ‘ভিডিওটা আমরা দেখেছি। তার বক্তব্যে ভোটাররা আতঙ্কিত। গত নির্বাচনে যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঘটনা আবারও হয় কি না?’
ভাইরাল হওয়া ভিডিও বক্তব্যের বিষয়ে মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বক্তব্য আগে-পিছে করে ভিডিওটি এডিট করে বানানো হয়েছে। আমি পুলিশকে নিয়ে মন্তব্য করিনি।’
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফাওজুল কবীর খান বলেন, ‘ভিডিওটি আমরা দেখিনি। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসারে আমাদের কাছে যদি অভিযোগ আসে, সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’ মো. ফাওজুল কবীর খান আরও বলেন, ‘যাচাই-বাছাই শেষে চার প্রার্থী উপনির্বাচনে বৈধতা পেয়েছেন। ১১ জুলাই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং আগামী ২৭ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। তিনি কি বায়বীয় কোনো কথা বলছে কি না, এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেব।’